Latest News

চোদ্দ থেকে ভুল পথে চলেছে ভারত, মোদীকে কটাক্ষ অমর্ত্যর

দ্য ওয়াল ব্যুরোঅর্থনীতিবিদদের একাংশ মোদিনমিক্স’ নিয়ে আহ্লাদিত থাকলেও, তাতে কখনওই আস্থা ছিল না তাঁর। বরং যোজনা কমিশনের বিলোপ হোক বা নোটবন্দী- নরেন্দ্র মোদী সরকারের আর্থিক নীতির বড় সমালোচক তিনি।

নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন এ বার যেন আগের থেকে বেশি ঝাঁঝালো। রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় দিল্লিতে এক বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে স্পষ্টই বলে দিলেন, “চোদ্দ সালের পর থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে ভুল পথে চলেছে ভারত!” তাঁর কথায়, পরিস্থিতি খুবই খারাপ দিকে চলে গিয়েছে। দ্রুত আর্থিক বৃদ্ধির পথে এগোচ্ছে যে সব দেশ তাদের মধ্যে শেষের সারিতে চলে গিয়েছে ভারত। আর এ কথা বলেই অর্মত্যবাবু পরামর্শ দিয়েছেন, তামাম বিরোধীদের একজোট হওয়ার সময় এসেছে। তা একটা সত্ত্বাকে সরিয়ে অন্য সত্ত্বাকে ক্ষমতায় আনার জন্য নয়, কিংবা রাহুল গান্ধী বনাম নরেন্দ্র মোদীর জন্য নয়। তা জরুরি ভারতকে ঠিক পথে আনার জন্য।

অমর্ত্য সেন ও সমাজকর্মী জাঁ দ্রেজের লেখা বই “অ্যান আনসারটেইন গ্লোরিঃ ইন্ডিয়া অ্যান্ড ইটস কন্ট্রাডিকশন” বেশ কিছু দিন আগে প্রকাশিত হয়েছে। রবিবার তার হিন্দি অনুবাদ প্রকাশ হল,-‘ভারত অউর উসকে বিরোধাভাস’।

ওই অনুষ্ঠানেই অর্মত্যবাবু বলেন, বিশ বছর আগে দক্ষিণ এশিয়ার ৬ টা দেশ,-ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, নেপাল, ভূটান ও বাংলাদেশের মধ্যে অগ্রগতির নিরিখে ভারত দ্বিতীয় ছিল। প্রথমে ছিল শ্রীলঙ্কা। এখন ভারতের অবস্থান শেষ থেকে দ্বিতীয়। ভাগ্যিস সব শেষে এখনও পাকিস্তান নিজেদের ধরে রাখতে পেরেছে।”কেন এই পরিস্থিতি হল? অমর্ত্যবাবুর মতে, সরকার দরকারি বিষয়গুলি থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে রেখেছে। যেমন সামাজিক বৈষম্য, জাতপাত, জনজাতিদের প্রসঙ্গে এখনও উদাসীন। বেতন চাইতে গিয়ে এখনও মধ্যপ্রদেশের দলিত যুবককে বেত্রাঘাত খেতে হয়। যারা হাত দিয়ে নর্দমা পরিষ্কার করে তাদের ন্যূনতম চাহিদা অপূর্ণ থেকে গিয়েছে। এই সব মানুষরা জানে না এ বেলা খাওয়া হলে ওবেলায় পেট ভরাবে কী দিয়ে? তাঁদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য কোনওটিরই নিশ্চয়তা নেই।

অমর্ত্যবাবুর মতোই কেন্দ্রের আর্থিক পদক্ষেপের সমালোচনায় এ দিন সরব হয়েছেন জাঁ দ্রেজও। গোটা দেশের পাঁচ কোটি পরিবারকে স্বাস্থ্য বিমার আওতায় আনার জন্য যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প ঘোষণা করেছে মোদী সরকার, তার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। কেন্দ্রে প্রথম ইউ পি এ সরকারের আমলে একশ দিনের কাজ তথা রোজগার গ্যারান্টি আইনের খসড়ায় রচনার শরিক ছিলেন এই সমাজকর্মী। পরে জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদেরও সদস্য হয়েছিলেন। এ দিন তিনি বলেন, ওই স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প পুরোটাই ভাঁওতা। ওই প্রকল্পের আওতায় মাত্র দু হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মানে প্রতি ব্যক্তি কুড়ি টাকা। তা দিয়ে কী হবে!

কেন্দ্রের সরকার বা বিজেপি দলের তরফে এখনও পর্যন্ত কেউ অবশ্য অমর্ত্য-দ্রেজ জুটির পাল্টা মন্তব্য করেননি। তবে বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব থেকে অমর্ত্যবাবুকে অপসারণের পর থেকেই উনি কেন্দ্রের সমালোচনায় মুখর। তাঁর বক্তব্যে, পক্ষপাত রয়েছে।

You might also like