Latest News

কোভিডের জন্য বন্ধ ছিল ব্রেথলাইজার, বেড়েছিল মদ্যপ হয়ে গাড়ি চালানোর প্রবণতা, যাদবপুরের ‘হিট অ্যান্ড রানে’র পর কড়া পুলিশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: যাদবপুরের দুর্ঘটনার পর মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে আরও কঠোর হচ্ছে পুলিশ। জানা গেছে, রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায় নামে ওই ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় হোন্ডা সিটি গাড়ি চালাচ্ছিল। একটি চায়ের স্টলে ধাক্কা মেরেছিল সে। ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়। আহত হন ছ জন। এরপরই নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ।

গাড়িচালক মদ্যপ কী না, জানতে শ্বাস-প্রশ্বাসের পরীক্ষা করা হত। কোভিডের যা বন্ধ ছিল। ফের তা চালু করা হয়েছে। গত চার দিনে, কলকাতায় ১৩১ জন গাড়িচালকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পূর্ব ও দক্ষিণ ট্রাফিক গার্ডের অধীনে থাকা এলাকাগুলি থেকে রিপোর্ট করা হয়েছে, যা পার্ক স্ট্রিট, শেক্সপিয়ার সরণি, এজেসি বোস রোড, জওহরলাল নেহরু রোড, ময়দানের মতো শহরের প্রধান রাস্তাগুলি থেকে।

মদ্যপ অবস্থায় পার্টি সেরে ফেরার পথেই দুর্ঘটনা ঘটে যাদবপুরের বাপুজি নগরে। জখম ৬ জন এখনও বাঘাযতীন স্টেট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শনিবার ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ১০টা ১৫ মিনিট। ঠিক সেই সময় যাদবপুরের দিক থেকে আসা সাদা রঙের হোন্ডা সিটি গাড়িটি ট্র্যাফিক সিগন্যাল ভেঙে বাপুজিনগরে প্রথমে রাস্তার উপর একটি চায়ের দোকানে ধাক্কা মারে। সেখানে এক ব্যক্তি চা খাচ্ছিলেন। তাকে পিষে দিয়ে ঘাতক গাড়িটি পাশের এগরোলের দোকান-সহ আরও একটি দোকানে ধাক্কা মারে। তারপর একটি বাইকে গিয়েও ধাক্কা মারে গাড়িটি।

কলকাতা পুলিশের একজন সিনিয়র অফিসার বলেছেন, ‘আমরা ডিউটিতে থাকা পুলিশদের মদ্যপানে গাড়ি চালানোর জন্য দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে বলেছি এবং তাদের সকলের বিরুদ্ধে মামলা করতে বলেছি।’

বর্তমানে, শুধুমাত্র যে অফিসাররা কোভিডের বিরুদ্ধে বুস্টার ডোজ নিয়েছেন তাদেরই ব্রেথলাইজার দিয়ে চালকদের পরীক্ষা করার জন্য মোতায়েন করা হচ্ছে।

একটি ব্রেথলাইজার পরীক্ষার সময়, একজন মোটরচালককে মেশিনের সাথে সংযুক্ত একটি পাইপের মাধ্যমে বাতাস ফুঁ দিতে বলা হয়, যা ব্যক্তির রক্তে অ্যালকোহলের উপস্থিতি সনাক্ত করে।

পুলিশ একই পাইপ দিয়ে একাধিক লোক ফুঁকে এড়াতে মেশিনে বাতাস ফুঁতে ডিসপোজেবল স্ট্র ব্যবহার করছে।

পুলিশসূত্রে খবর, করোনার জন্য ওই পরীক্ষা বন্ধ করা হয়েছিল। যেকারনে বহু গাড়িচালক মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়েছেন।

শহরে বেপরোয়া গাড়ি চালানোয় প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ। মারাত্মক দুর্ঘটনায় চালকদের বহু ব্যক্তি মদ্যপ ছিল। সাম্প্রতিক অতীতে কলকাতায় কিছু গাড়ি দুর্ঘটনার তালিকা

জানুয়ারী ২২, ২০২২

যাদবপুরে একটি চায়ের দোকানে হোন্ডা সিটির ধাক্কায় একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ছয়জন আহত হয়েছে। চালক মদ্যপ ছিল।

৬ নভেম্বর, ২০২১

চিংড়িঘাটা মোড়ে ট্রাফিক সিগন্যাল লঙ্ঘনকারী একটি অভিযুক্ত দ্রুতগতির হুন্ডাই আই ২০-এর সঙ্গে ধাক্কা লেগে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ছ জন আহত হয়েছে

১৪ডিসেম্বর, ২০২০

২৩ বছর বয়সি যুবক ভক্সওয়াগেন পোলো চালিয়ে প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডে একটি গার্ডরেলে ধাক্কা মারে। এরপর একজন সাইকেল আরোহীকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় একজন পথচারী ছিটকে পড়েন। চালক মদ্যপ ছিল।

আগস্ট ১৭, ২০১৯

একটি জাগুয়ার থিয়েটার রোড এবং লাউডন স্ট্রিটের সংযোগস্থলে একটি মার্সিডিজে ধাক্কা মারে। এরপর একটি পুলিশ কিয়স্কের কাছে অপেক্ষারত দুই বাংলাদেশী নাগরিককে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছিল।

ডিসেম্বর ১৮, ২০১৬

২২ বছর বয়সি কলেজ ছাত্রকে মার্সেডিজের ধাক্কা।

জানুয়ারী ১৩, ২০১৬

রেড রোডের কাছে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেড মহড়ার সময় একটি অডি বিমান বাহিনীর এক জওয়ানকে পিষে দিয়েছিল।

You might also like