Latest News

বিজেপি মুসলিমবিরোধী, পাকিস্তানবিরোধী, মন্তব্য ইমরানের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শপথ নেওয়ার দিনই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছিলেন, বন্ধুত্বের জন্য ভারত এক পা বাড়িয়ে দিলে তিনি দুই পা এগবেন। তিনি চেয়েছিলেন ভারত ও পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী বৈঠকে বসুন। ভারত তাতে প্রথমে রাজি হলেও পরে পিছিয়ে যায়। এক বিদেশী সংবাদপত্রের সাংবাদিক ইমরানকে এসম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি দোষ দেন বিজেপিকে। তাঁর মতে, ভারতের সঙ্গে শান্তিপ্রক্রিয়া বেশিদূর না এগনোর জন্য বিজেপির পাকিস্তানবিরোধী মানসিকতাই দায়ী।

তাঁর কথায়, ভারতে যে দলটি শাসন করে তাদের মানসিকতা মুসলিম বিরোধী, পাকিস্তান বিরোধী। শান্তিপ্রক্রিয়া ফলপ্রসূ না হওয়ার জন্য তিনি ভারতে লোকসভা নির্বাচনকেও দায়ী করেছেন। তাঁর কথায়, ভারতে নির্বাচনের আর বেশি দেরি নেই। শান্তিপ্রক্রিয়া না এগনোর সেটাও একটা কারণ।

এর আগে গত সেপ্টেম্বরে ভারত যখন বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বসতে অস্বীকার করে, তখন ইমরান টুইটারে অসন্তোষের কথা জানান। তিনি বলেন, ভারত উদ্ধত। তাদের মনোভাব নেতিবাচক। আমি চেয়েছিলাম দু’দেশের আলোচনা শুরু হোক। কিন্তু তারা সাড়া দেয়নি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম না করে তিনি বলেন, সারা জীবন ধরেই আমি দেখছি, বড় বড় পদে এমন সব লোক বসে আছে, যাদের কোনও যোগ্যতাই নেই। তারা বৃহত্তর প্রেক্ষিতে কিছু দেখতে পায় না।

সেপ্টেম্বরে জম্মুর কাঠুয়ায় জঙ্গি হানার পরে ভারত বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বসতে অস্বীকার করে। দিল্লির বক্তব্য ছিল, শান্তি আলোচনা ও জঙ্গি হানা একসঙ্গে চলতে পারে না। ইমরান যদি সত্যিই শান্তি চান তাহলে আগে জঙ্গিদের দমন করুন।

ইমরান বলেছেন, ২৬/১১-য় মুম্বইতে জঙ্গি হামলা হয়েছিল। যারা মুম্বইতে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চাই। যদিও তিনি কী ব্যবস্থা নিতে চান এখনও বলেননি।

কর্তারপুর করিডোরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আমরা ভারতের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। আশা করি তারাও ইতিবাচক মনোভাব দেখাবে।

কর্তারপুর অঞ্চলটি ভারতের সীমান্ত থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। শিখধর্মের প্রবক্তা গুরু নানক সেখানে জীবনের শেষ দিনগুলি কাটিয়েছিলেন। শিখরা যাতে সহজে ভারত থেকে কর্তারপুরে আসতে পারেন, সেজন্য দু’দেশের মধ্যে করিডোর বানানোর প্রস্তাব প্রথমে দিয়েছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী।

ইমরান বলেন, ভারত থেকে শিখ তীর্থযাত্রীরা যাতে সহজে ধর্মস্থানে আসতে পারেন, সেজন্য তাঁদের ভিসা মকুব করে দিয়েছি। আশা করি, ভারতে ভোট শেষ হয়ে গেলে তাদের সঙ্গে আলোচনা ফের শুরু হবে।

You might also like