Latest News

নতুন তৃণমূল দেখতে কেমন হবে?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কলকাতার কিছু বড় রাস্তার মোড়ে রাতারাতি কয়েকটা হোর্ডিং নজর কেড়েছিল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) ছবি দিয়ে তাতে বড় বড় করে লেখা ‘৬ মাসের মধ্যেই আসছে নতুন তৃণমূল!’ (TMC)

সেই পোস্টার কে লাগিয়েছিল, কেন লাগিয়েছিল তা জানা যায়নি। তবে এটুকু দেখা যায়, সেই সব হোর্ডিং নামাতে বলা হয়নি। বরং সেই এক বয়ান বিক্ষিপ্তভাবে উঠে আসতে থাকে যুব তৃণমূলের একাংশ নেতার সোশ্যাল পেজে।

রাজনীতিতে এমন হুজুগ নতুন নয়। সর্বভারতীয় রাজনীতিতেও এমনটা বারবার দেখা গিয়েছে। মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন কংগ্রেসের মধ্যে থেকেই যুবরা আওয়াজ তুলতেন রাহুল গান্ধীকে নিয়ে। ২৪ নম্বর আকবর রোডের সামনে ঢোল পিটিয়ে স্লোগান উঠত- এ বার রাহুলকে প্রধানমন্ত্রী দেখতে চাই। আবার মুলায়ম সিং মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন অখিলেশের নামে স্লোগান তুলতেন তাঁর অনুগামীরা। তাই অভিষেককে নিয়ে তাঁর অনুগামীদের অত্যুৎসাহী হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

কিন্তু কৌতূহলের বিষয় হল, এটাও কি স্রেফ হুজুগ, নাকি সুচিন্তিত রাজনৈতিক রোড ম্যাপ রয়েছে এর পিছনে?

জোড়াফুলের অনেকের মতে, দলে অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার বিন্যাস একটা ট্রানজিশন বা রূপান্তরের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আর কোনও সন্দেহ নেই যে দলের সাংগঠনিক পরিচালনের বারো আনাই এখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণে। অর্জুন সিংকে তৃণমূলে ফেরানো, পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতারের পর দলীয় কৌশল নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা, জেলা সভাপতি- ব্লক সভাপতিদের ডেকে বৈঠক— এসবেরই ঠিকানা এখন অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস। তৃণমূলে এটা নতুন ধারা বইকি।

এখন প্রশ্ন হল, নতুন তৃণমূলে আর কী হতে পারে?

শাসক দলের একাংশ নেতার মতে, তৃণমূলে একেবারে নিচুস্তর থেকে শুরু করে যে নেতারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন, যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, ক্রমশ তাঁদের অপ্রাসঙ্গিক করে দেওয়ার একটা ধারা শুরু হয়ে গিয়েছে। ৬ মাসের মধ্যে তা আরও স্পষ্ট হতে পারে।

তা কীভাবে?

দলের এই অংশের নেতাদের মতে, ব্লক সভাপতি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সেই সূত্রই মাথায় রাখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে পঞ্চায়েত ভোটে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়াও এক প্রকার শুরু হয়ে গেছে। এলাকা ভিত্তিতে পরিচ্ছন্ন মুখ বাছাই করে রাখার জন্য তলে তলে সমীক্ষা চলছে। পঞ্চায়েত, জেলা পরিষদে যাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের এ বার টিকিট পাওয়া মুশকিল হতে পারে। শুধু তা নয়, পঞ্চায়েত নির্বাচনে এ বার বুথ দখল, বিরোধীদের প্রার্থী দিতে না দেওয়া হয়—এসবও এবার বন্ধ করতে বলা হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, দলের কাছে এটা স্পষ্ট যে পঞ্চায়েত ভোটে এই আকচাআকচিই লোকসভা ও বিধানসভা ভোটে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

অভিষেক অনুগামী এক নেতার কথায়, মোদ্দা লক্ষ্য হল দল ও সরকারের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি তুলে ধরা। এ বার মন্ত্রিসভার যে সম্প্রসারণ হয়েছে তাতেও সেই বিষয়টিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এমন কাউকে মন্ত্রী করা হয়নি যাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ক্রমশ সেটাই সব স্তরে বাস্তবায়িত হবে। শুধু তা নয়, পঞ্চায়েত-পুরসভা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রশাসনিক স্তরে এমন ব্যবস্থা কায়েমের চেষ্টা হবে যে কাটমানি খাওয়ার রাস্তা না থাকে।

বস্তুত অভিষেক নিজেও গত কয়েক মাস ধরে এ কথাটা বারবার করে বলার চেষ্টা করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তৃণমূল করে খাওয়ার জায়গা নয়। ঠিকাদারি করলে তৃণমূল করা যাবে না। নেতা ধরে টিকিট পাওয়া যাবে না—ইত্যাদি।

তবে পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, কাজটা সহজ নয়। গত এক দশক ধরে মোটামুটি ভাবে এই ধারণা তৈরি হয়ে গিয়েছে, কারও কারও ক্ষেত্রে দল করাটা পেশার মতো। এলাকা ভিত্তিতে এমনই কিছু নেতাকে আশ্রয় করে আবার পরজীবীর মতো বেঁচে রয়েছে কিছু কর্মী। সেই বাস্তুতন্ত্রে রাতারাতি বদল আনতে গেলে প্রতিরোধ আসতে পারে। তা সামাল দেওয়ার পরিকল্পনাও তাই আগাম প্রস্তুত রাখতে হবে।

‘কেষ্টা ব্যাটাই চোর!’ জন্মাষ্টমীতে আমূলের বিজ্ঞাপন সাড়া ফেলে দিল

You might also like