Latest News

গরুর লেজ যে ভাবে ধরেছিল সিবিআই, জিবু থেকে এনামুল হয়ে অনুব্রত— লম্বা রাস্তা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গরু পাচার মামলায় (Cow Smuggling Case) দশম সমনে সাড়া না দেওয়ায় বৃহস্পতিবার তৃণমূলের স্ট্রংম্যান অনুব্রত মণ্ডলকে (Anubrata Mandal) গ্রেফতার করেছে সিবিআই (CBI)। এ হেন ডাকাবুকো নেতার গ্রেফতারির পর বিরোধী শিবিরে অসুর বধের উল্লাস শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এই মামলার শুরু কোথায়? তা জানতে হাঁটতে হবে সাড়ে চার বছর পিছনে। বাংলা ছেড়ে যেতে হবে ঈশ্বরের আপন দেশ কেরলে।

২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি। শালিমার এক্সপ্রেস সবেমাত্র ঢুকেছে আলেপ্পি স্টেশনে। অনেকের মতোই স্টেশনে নেমেছিলেন বিএসএফ জওয়ান জিবু ডি ম্যাথিউ। কাঁধে বিরাট ব্যাগ। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কর্তব্যরত এই জওয়ান ছুটিতে বাংলা থেকে কেরলে বাড়িতে ফিরছিলেন। কিন্তু স্টেশনে নামার পরেই সিবিআই অফিসাররা তাঁকে গিয়ে বলেন, তাঁদের সঙ্গে যেতে হবে। প্রথমে যেতে অস্বীকার করলেও পরে যেতেই হয়। সেদিন ম্যাথিউর কাছ থেকে নগদ ৪৭ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছিল সিবিআই। তারপর তাঁকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি।

ঘটনা হল, এই যে অনুব্রত মণ্ডলের গ্রেফতার, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেকে ইডির জিজ্ঞাসাবাদ, বাংলায় কর্মরত আইপিএস অফিসারদের ডেকে পাঠানো—যা যা ঘটছে বা ঘটেছে কিংবা ঘটবে, সবটার উৎসমুখ হল সেদিনের আলেপ্পি স্টেশন। বিএসএফ জওয়ান ম্যাথিউর গ্রেফতারি।

ওই জওয়ানকে জেরা করে সিবিআই জানতে পারে সীমান্ত দিয়ে অবাধে গরুপাচার চলছে। বিরাট র‍্যাকেট কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিচ্ছে বেআইনি পাচার থেকে। সেই র‍্যাকেটের একটি স্তর বিএসএফের একাংশের কর্তা। ম্যাথিউকে জেরা করে বিএসএফ কর্তা সতীশ কুমারের নাম জেনেছিলেন তদন্তকারীরা। তারপর তাঁকে গ্রেফতার করে সিবিআই।

গরু পাচারের তদন্ত সূত্রে কয়লা পাচারের বিষয়টি কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সির আতস কাচের নীচে চলে আসে। সেই সূত্রেই তদন্ত এজেন্সি জানতে পারে, গরু পাচারের ক্ষেত্রে যেমন বিএসএফের একাংশের যোগ ছিল তেমনই কয়লার ক্ষেত্রে যোগ ছিল ইসিএলের একাংশের কর্তার। তারপর ধাপে ধাপে উঠে আসে গরু পাচারের কিংপিন এনামুল হক, কয়লা পাচারের মূল মাথা পুরুলিয়ার ব্যবসায়ী অনুপ মাঝি ওরফে লালার নাম। তা ছাড়া বিকাশ মিশ্র, বিনয় মিশ্র থেকে শুরু করে আরও ব্যবসায়ী, নেতা, নেতাদের ঘনিষ্ঠদের নাম উঠে আসতে থাকে।

ইতিমধ্যে কয়লা পাচার মামলায় ন’জন ইসিএল কর্তাকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। যেহেতু দুটি ক্ষেত্রেই বেআইনি আর্থিক লেনদেনের বিষয় ছিল তাই স্বতঃপ্রণোদিত হয়েই এই মামলায় যুক্ত হয়েছিল ইডি। সিবিআই এবং ইডি মিলে কয়লা ও গরু পাচারের তদন্ত করছে। এদিন সিবিআই অনুব্রতকে গ্রেফতার করার পরক্ষণেই খবর আসে, বাংলায় কর্মরত আট আইপিএসকে দিল্লিতে তলব করেছে ইডি। তাঁদের মধ্যে জ্ঞানবন্ত সিং, তথাগত বসুদের মতো আপিএসরা রয়েছেন।

আরও পড়ুন: অনুব্রত একনজরে: মুদির দোকান, ছবির সঙ্গে প্রেম, বিয়ে, প্রোমোটিংয়ের ব্যবসা ও বীরভূমের অদ্বিতীয় নেতা

সাড়ে চার বছর আগের সেই ঘটনা বাইশের স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে বাংলাকে যে এ ভাবে আন্দোলিত করবে কে জানত! আগামী দিনে আরও কী হয় সেটাই এখন দেখার।

আরও পড়ুন: ‘অনুব্রত হাটে মাগুর মাছ বেচত’, কেষ্ট-শুভেন্দুর শঠে শাঠ্যংয়ের মূলে মেডিকেল কলেজও

You might also like