Latest News

‘কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই’, উৎকণ্ঠা নিয়েই বসবাস বিপজ্জনক বাড়িতে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাড়ির (house) বাইরের দেওয়ালে বড় বড় গাছ গজিয়ে উঠেছে। একাংশের ছাদে বড়সড় অশ্বত্থ গাছ ডালপালা মেলেছে। গতকাল সকালেই এই বাড়ির একটি অংশের ছাদ ভেঙে পড়েছে। সেইসময় ওই ঘরে কেউ না থাকায় কোনও বড় বিপদ না হলেও রয়েছে আতঙ্ক। উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বিপজ্জনক বাড়ির বসবাসকারীরা।মঙ্গলবার সকাল দশটা নাগাদ জোড়াবাগান থানা এলাকার বৃন্দাবন বসাক স্ট্রিটে একটি দোতলা বাড়ির একাংশ ভেঙে পড়ে। বাড়িটির দোতলার ছাদ ধসে পড়ে। তবে কেউ আহত হননি। বাড়িটি আড়াইশো বছরের পুরনো। জানালেন বাসিন্দা অরূপ দাস। বললেন, ‘সবসময় আতঙ্কে দিন কাটে। মালিক সারানোর কোনও উদ্যোগ নেয়নি। নীচে ওপরে মিলিয়ে পাঁচটা পরিবারের বাস। আমাদের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই, তাই বাধ্য হয়েই ভাঙা বাড়ি ছেড়ে যেতে পারছি না।’

ঝুনঝুনি লাগানো বলে কাদা মাঠে দাপালেন দৃষ্টিহীন ফুটবলাররা

একইদিনে বেলা ১১টা নাগাদ বড়তলা থানা এলাকার হেমেন্দ্র সেন স্ট্রিটে ভেঙে পড়ে একটি জরাজীর্ণ তিনতলা বাড়ির একাংশ। কলকাতা পুরসভার তরফে ওই বাড়িটিকে আগেই বিপজ্জনক ঘোষণা করা হয়েছিল। কেউ বসবাস করতেন না। বাড়িটির ভাঙা অংশের কিছুটা পাশের একটি নতুন বাড়িতে গিয়ে পড়ে। তবে কারও কোনও ক্ষতি হয়নি।পাশের বাড়ির বাসিন্দা অতনু রক্ষিত বললেন, ‘বহু পুরোনো বাড়ি। কেউ থাকতেন না। অযত্নে, বিনা সংস্কারে ভগ্নপ্রায় অবস্থায় ছিল। সোমবার রাত থেকেই ভেঙে পড়তে থাকে। আমরা আওয়াজ পেয়েছি। সকালেও অনেকটা অংশ ভেঙেছে। তবে ভাগ্য ভালো আমাদের বাড়ির কোনও ক্ষতি হয়নি। পাশের বাড়ির গাড়ির ক্ষতি হয়েছে।’শহরের বেশির ভাগ বিপজ্জনক বাড়ি রয়েছে উত্তর কলকাতায়। ‘অতি বিপজ্জনক’ বাড়ির সংখ্যা প্রায় ১০০। সম্প্রতি উত্তর কলকাতায় দু’টি বিপজ্জনক বাড়ি ভেঙে মারা গিয়েছেন চার জন। আহত হয়েছিলেন একাধিক। সাম্প্রতিক সময়ের টানা বৃষ্টিতে উত্তর কলকাতায় একের পর এক বাড়ির অংশ ভেঙে পড়ছে। অথচ অভিযোগ, সব দেখেও কলকাতা পুরসভার কোনও হেলদোল নেই বলে অভিযোগ অনেকের।ক্যালকাটা হাউস অনার্স এসোসিয়েশনের সম্পাদক সুকুমার রক্ষিত বললেন, ‘ভাড়াটেরা উপযুক্ত ভাড়া না দিলে সংস্কার হবে কী করে? পুরসভা বিপজ্জনক বাড়ি বলছে। অথচ ব্যবসা করার সমস্ত ছাড়পত্র দিচ্ছে। ভাড়াটেরা চাইলেই সমস্যা মেটাতে পারে। কিন্তু তাঁরা প্রমোটিংয়ে ফ্ল্যাটের আশায় বাড়ি ছাড়েন না।’২৯ সেপ্টেম্বর বৃষ্টির মধ্যে আহিরিটোলা লেনের একটি জরাজীর্ণ দোতলা বাড়ি ভেঙে ২ বছরের শিশুকন্যা ও এক প্রৌঢ়ার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এদিন সেখানে গিয়ে দেখা গেল সেই বাড়ির ধ্বংসাবশেষ সেরকমই পড়ে রয়েছে। বাসিন্দারা কেউ নেই। তাঁরা কোথায় গেছেন, জানেন না এলাকার লোকজন।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like