Latest News

বাবা কষ্ট করে বড় করেছেন আমাদের, আজ বাবার কষ্টে এটুকু করব না! লাঙল হাতে মাঠ দাপাচ্ছে দুই কিশোরী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা মহামারীর প্রকোপে সারা দেশ বিধ্বস্ত। অসুখের আতঙ্ক তো বটেই, সেইসঙ্গে একটানা লকডাউনে ভেঙে পড়েছে অর্থনীতিও। বহু মানুষের রোজগার বন্ধ। বিশেষ করে দৈনিক উপার্জন করে যাঁদের আয়, তাঁদের অবস্থা খুবই করুণ। দারিদ্রের কারণে কোণঠাসা হয়ে গিয়েছেন তাঁরা। দেশের বহু মানুষ বেঁচে থাকার জন্য বা দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন সংস্থানের জন্য নিজেদের পেশা পর্যন্ত বদলে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন অনেকে।

এমনই এক সমস্যায় পড়েছেন তিরুপতির এক চায়ের দোকানদার নাগেশ্বর রাও। লকডাউনে দোকান খোলাই দায়। বাড়িতে হাঁড়ি চড়ছে না। তাই তিনি দোকান ছেড়ে চাষ-আবাদের কাজ শুরু করেছেন আবার। কিন্তু সমস্যা সেখানেও। চাষ যে করবেন, মাটিতে লাঙল দেবে কে, গরু তো তাঁর নেই। ক্ষমতা নেই ট্রাক্টর কেনারও। এই অবস্থাতেই এগিয়ে এসেছে তাঁর দুই কিশোরী কন্যা। নিজেরাই লাঙল চালিয়ে দিচ্ছে জমিতে। বলছে, “আমাদের লেখাপড় শিখিয়ে বড় করতে বাবা কতই না কষ্ট করেছে সারাজীবন, আজ বাবার দুর্দিনে এইটুকু সাহায্য করব না!”

নাগেশ্বর রাও ও তাঁর পরিবার তিরুপতির মহালরাজুপল্লির বাসিন্দা ছিলেন। সেখানেই ছিল তাঁর চায়ের দোকান। স্বচ্ছলতা না থাকলেও, প্রতিদিনের রোজগার থেকে দিন কেটে যেত ঠিকই। কিন্তু মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া লকডাউনে দোকান বন্ধ। রোজগার নেই। বাড়ি ভাড়া দেওয়ার টাকাও নেই। তাই মদনাপল্লী চিত্তুরের মারপুরি স্ট্রিটে দেশের বাড়িতে সপরিবারে চলে যান নাগেশ্বর রাও।

কিন্তু দেশের বাড়িতে থাকলেও, পেট চলবে কী করে! তাই শুরু করেন চাষবাসের কাজ। অথচ তাঁর ট্রাক্টর কেনার ক্ষমতা নেই, নেই কোনও মজুরকে ভাড়া করার মতো টাকা পয়সাও। গরু বা ষাঁড়ও নেই জমিতে লাঙল দেওয়ার জন্য। এমন সমস্যায় পরিস্থিতিতে তাঁর হাত দু’পাশ থেকে শক্ত করে চেপে ধরেছে দুই মেয়ে। যে কাজ একটি ষাঁড় কিংবা ট্রাক্টরের করার কথা, সেই কাজই করছে স্কুলপড়ুয়া দুই কিশোরী।

ভেন্নেলা এবং চন্দনা নামের ওই দুই মেয়ে সবেমাত্র দশম শ্রেণি পাশ করেছেন। কিন্তু এইটুকু বয়সেই বাপের দুঃখ বুঝেছে তারা। তাই তো সারাজীবন তাদের জন্য যে পরিশ্রম করেছেন বাবা, সেই ঋণই যেন খানিকটা শোধ করতে চাইছে দুই মেয়ে। তারা জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে চাষ-আবাদ করা ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই টাকা রোজগার করার। তাই তারা বাবাকে যতট সম্ভব সাহায্য করছে।

দুই কন্যার মা অর্থাৎ নাগেশ্বর বাবুর স্ত্রী জানিয়েছেন, বাড়িভাড়ার টাকা দিতে পারেননি তাঁরা। বন্ধ করে দিতে হয়েছে দোকান। তাই দেশের বাড়িতে ফিরে এসে চাষবাস করা ছাড়া অন্য কোনও উপায় ছিল না। সেই জন্য তাঁদের আড়াই একর জমিতে চীনাবাদাম এবং ডালের চাষ করতে শুরু করেছেন তাঁরা। এবার ফসল ফলার অপেক্ষায় রয়েছে নাগেশ্বরের পরিবার।

You might also like