Latest News

বাংলাদেশের ইলিশ এপারে এসে স্টোরে ঢুকছে বেশি, পুজো, ভাইফোঁটায় আরও চড়বে দাম

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজোর ভেট হিসেবে বাংলাদেশ থেকে পেট্রাপল সীমান্ত দিয়ে রাশি রাশি রুপালি শস্য (Hilsa) ঢুকছে এপার বাংলায়। কাঁচা মাছের পসার সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু সেভাবে বিক্রি নেই ইলিশের। ৭০০-৮০০ গ্রামের মাছ বিক্রি হলেও বড় সাইজের ইলিশ তেমন বিক্রি নেই, বলছেন ব্যবসায়ীরা।

বিক্রি না হওয়া কারণ কী? মাছ ব্যবসায়ীদের একাংশের কথায়, দামের জন্য পাশ কাটিয়ে যাচ্ছেন ক্রেতারা। বিক্রি না হওয়ায় সেই মাছ ঢুকছে স্টোরে।

তবে মাছওয়ালাদের অনেকেই একান্তে অন্য কথা বলছেন। তাদের বক্তব্য, একেবারে প্ল্যান করেই বাংলাদেশের ইলিশ মজুত করা হচ্ছে হিমঘরে, এমনকী বাজারের নিজস্ব মজুত ভাণ্ডারে। পুজো ও ভাইফোঁটার সময় এই ইলিশ আরও চড়া দামে বিক্রি করা যাবে। বৃহস্পতিবারই বাংলাদেশ সরকার জানিয়ে দিয়েছে, ইলিশ রপ্তানি শেষ করতে হবে ৩ অক্টোবরের মধ্যে। পরদিন ৪ অক্টোবর থেকে সেদেশে ইলিশ ধরা বন্ধ হয়ে যাবে। দেশব্যাপী চলবে নজরদারি। এই সময় রপ্তানির কাজও বন্ধ রাখতে চায় তারা। ফলে বাংলাদেশ থেকে দৈনিক যে পরিমান ইলিশ আমদানি হওয়ার কথা ছিল তার পরিমান আরও বেড়ে গিয়েছে।

কিন্তু কলকাতা ও আশপাশের বাজারগুলিতে তার ছাপ নেই। ব্যবসায়ীদের একাংশের কথায়, সীমান্ত পেরিয়ে মাছ ঢুকলেও আড়তে মাছের দাম তেমন কম নয়। তাই কলকাতার বাজারগুলোতে মাছের দাম কমেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ীর কথায়, “কোটি কোটি টাকার মাছ স্টোরে ঢুকছে। আর যে মাছ সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য ছাড়া হচ্ছে তার দামও খুব বেশি।” এই কারণেই ২০-৩০ কেজির বেশি মাছ কেনা সম্ভব হচ্ছে না স্থানীয় ব্যবসায়ীদের।

আরও পড়ুনঃ বাঙালির নাগালে পদ্মার ইলিশ, দামের ছেঁকায় পুড়তে পারে হাত

শান্তনু পাত্র নামে এক মৎস ব্যবসায়ীর কথায়, “দাম বাড়ার ক্ষেত্রে আড়ৎ থেকে মাছ স্টোরে ঢোকা একটা কারণ অবশ্যই। তবে মাছ যে খুব একটা বাজারে কম আসছে তা নয়। তবে বিক্রি না হওয়ায় স্টোরও হচ্ছে দেদার।”

ব্যবসায়ীরা একান্তে স্বীকার করছেন, জোগান বন্ধ হলে স্টোরের মাছই বাজার কাঁপাবে আগামী মাসে উৎসবের সময়। সামনেই বাঙালির প্রিয় উৎসব দুর্গাপুজো। বাঙালির ঘরে ইলিশের চাহিদাও বাড়বে। এমনকী দুর্গাপুজো পেরোলেই কালীপুজো, ভাইফোঁটার মতো উৎসবও আছে। এইসব সময় দামের তোয়াক্কা না করেই বাঙালিরা প্রিয় খাবারের দিকে ঝোঁকে। আর বাঙালির প্রিয় যে ইলিশ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই সময়ই স্টোরের ইলিশ বাজার মাতাবে বলে মত অনেকেরই। আর চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকছে। এমনকি এখনও অনেক ক্রেতাই ধন্দে যে মাছ বাজারে এখন বিক্রি হচ্ছে তাও কাঁচা কিনা।

কলকাতার বাজারগুলিতে বৃহস্পতিবার থেকে ইলিশ ঢুকতে শুরু করেছে। তবে প্রথমদিনের তুলনায় দ্বিতীয়দিনে ইলিশের জোগান বেড়েছে। কিন্তু জোগানের তুলনায় দাম কমেনি তেমন। যার ফলে সেভাবে পদ্মার ইলিশের বাজার নেই কলকাতায়। দ্বিতীয়দিনেও রুপালি শস্যের বিক্রির মুখ দেখলেন না মৎস ব্যবসায়ীরা।

বুধবার থেকে এপার বাংলায় ইলিশ ঢুকছে। প্রথম ধাপে ৮০ টন ইলিশ ঢুকলেও দ্বিতীয়দিনে পরিমাণ আড়াই গুন বেড়েছে। তৃতীয়দিনে আরও বেশি ইলিশ ঢুকবে বলেও খবর। ধাপে ধাপে এপার বাংলায় ২০৮০ মেট্রিক টন পদ্মার ইলিশ ভারতের প্রবেশ করবে।

দ্বিতীয়দিনে সব বাজারেই কম-বেশি ভালো পরিমাণ ইলিশেরই আমদানি হয়েছে। কিন্তু আড়তে দাম না কমায়, বাজারগুলোতেও ইলিশের দামের তেমন কোনো হেরফের নেই বললেই চলে। উত্তরের মানিকতলা, হাতিবাগান থেকে শুরু করে দক্ষিণের গড়িয়াহাট, লেক মার্কেট সব জায়গাতেই ইলিশের বাজার দরের পার্থক্য নেই বললেই চলে।

মানিকতলা বাজারের এক মাছ ব্যবসায়ী বাবলু দাসের কথায়, ‘এদিন ভালো পরিমাণ ইলিশ ঢুকেছে বাজারে। তবে দাম তেমন না কমায় ক্রেতারা এড়িয়েই যাচ্ছেন।’ কেমন দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ? বাবলুবাবুর কথায়, ‘এক কিলো ওজনের ইলিশ ১২০০-১৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ৬০০-৭০০ গ্রামের ইলিশ ৮০০ টাকা কিলো।’ গড়িয়াহাটের মাছ বিক্রেতা শুভ্রনীল মণ্ডলের কথায়,‘পুজোর আগে বা পুজোর সময় ইলিশ ভালো বিক্রি হবে। রবিবারের বাজারেও বিক্রি ভালো হতে পারে।’

গড়িয়াহাটের বাজারে এদিন ইলিশ ভালো ঢুকলেও দাম না কমায় বিক্রির চিত্র বদলায়নি তেমন। লেক মার্কেটের চিত্রও একই। সেখানকার ব্যবসায়ী গোলা বাগের কথায়, ‘এক কিলো ওজনের ইলিশের দাম হাজার দেড়েক টাকা।’ কসবা বাজারে দাম কিছুটা কম হলেও, হাতে ছেঁকা দিচ্ছে বাঙালির।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like