Latest News

লবিস্ট নিয়োগ করেছে কার বিরুদ্ধে কে? সম্মুখ সমরে হাসিনা-খালেদার পার্টি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাতীয় সংসদের নির্বাচনের এখনও বছর দুই বাকি। কিন্তু বাংলাদেশে ভোট কেন্দ্রীক রাজনীতির উত্তাপ চড়তে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই। নতুন নতুন ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছে বিরোধী দলগুলি। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর দল আওয়ামি লিগও প্রতি আক্রমণে বিরোধীদের পাল্টা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিচ্ছে।

করোনার কারণে বাংলাদেশেও এখন রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি আছে। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সিংহভাগ কাজ সারছেন। সরকারি কর্মসূচিতেও অংশ নিচ্ছেন গণভবন থেকেই।

অন্যদিকে, অন্যতম বিরোধী দল বিএনপির নেত্রী তথা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তিনি বলতে গেলে শয্যাশায়ী। দুর্নীতির মামলায় দীর্ঘ সময় জেলে থাকার পর অন্তবর্তী জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। তারপরই বিএনপি দাবি তোলে, খালেদাকে বিদেশে চিকিৎসা করাতে যাওয়ার অনুমতি দিতে হবে। সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির ডাকা আলোচনায় অংশ নেয়নি। যদিও সরকার বহু প্রত্যাশিত নির্বাচন কমিশন আইন তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধীদের একটি অস্ত্র ভোঁতা করে দিয়েছে।

বিরোধীদের লাগাতার আক্রমণের মুখে হালে পাল্টা আক্রমণে জাতীয় সংসদে বিএনপির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছে হাসিনা সরকার। দিন কয়েক আগেই প্রধানমন্ত্রী একটি সরকারি অনুষ্ঠানে অভিযোগ করেন, বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা চলছে। এমনও ষড়যন্ত্র চলছে যাতে বাংলাদেশ বিদেশি ঋণ-অনুদান না পায়। হাসিনার অভিযোগ, তাঁর সরকারের উন্নয়ন যাত্রা আটকে দিতেই এই ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

এর পরই জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম অভিযোগ করেন, বিএনপি বিদেশে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী কাজের জন্য লবিস্ট নিয়োগ করেছে। লবিস্ট সংস্থাগুলির নাম এবং চুক্তিপত্রের কাগজ সরকারের হাতে আছে।

পাল্টা সরকার এবং আওয়ামি লিগের বিরুদ্ধে লবিস্ট নিয়োগের অভিযোগ আনে বিএনবি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার এবং শাসক দল বিদেশিদের কাছে দেশের অপকর্ম ধামাচাপা দিতে লবিস্ট নিয়োগ করেছে। ২০০৫ সাল থেকে আওয়ামি লিগ এই খাতে অর্থ ব্যয় করে আসছে। মিঃ হোসেন, লবিস্ট নিয়োগ সংক্রান্ত কিছু কাগজপত্রও প্রকাশ করেন। দাবি করেন, সরকার এবং বিএনপি, দু’পক্ষের অভিযোগ নিয়েই তদন্ত করুক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র হরণের অভিযোগ নিয়ে বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরেই সরব। ভোটে কারচুপির অভিযোগের পাশাপাশি তথ্য প্রযুক্তি আইন কাজে লাগিয়ে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ, গুম খুনের অভিযোগ করে আসছে তারা। তাদের অভিযোগ, গুম হওয়া ব্যক্তিদের নিরাপত্তা বাহিনী র‍্যাব বা র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের লোকেরা তুলে নিয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, সরকারের বক্তব্য, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সাধারণ মানুষ নিখোঁজের কোনও সম্পর্ক নেই। কেউ কেউ গ্রেফতারি এড়াতে, কেউ ব্যাংকের দেনা শোধ করতে না পেরে আত্মগোপন করে থাকে।

বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিবাদ-বিতর্ক শুরু হয়েছে গত বছর ১০ ডিসেম্বর মার্কিন প্রশাসন র‍্যাবের প্রাক্তন ও বর্তমান মহা পরিচালক বা ডিজি’র সে দেশে প্রবেশের অনুমতি বা ভিসা বাতিল করে দেওয়ার পর। বিরোধীদের দাবি, গুম খুন এবং বিরোধীদের উপর নির্যাতনের ঘটনায় র‍্যাবের বিরুদ্ধে মানবাধিকার হরণের অভিযোগ খতিয়ে দেখার পরই বাইডেন প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১০ ডিসেম্বর বাইডেন প্রশাসন আয়োজিত আন্তর্জাতির গণতন্ত্র সম্মেলনে বাংলাদেশের ডাক না পাওয়ার ঘটনাকে দুয়ে দুয়ে চার করে প্রচারে নামে বিরোধী দলগুলি। তখনই সামনে আসে আরও এক বিস্ফোরক তথ্য। জানা যায়, ১২টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন জাতি সংঘকে স্মারকলিপি দিয়ে আর্জি জানিয়েছে র‍্যাবকে যেন আন্তর্জাতিক শান্তি মিশন থেকে বাদ দেওয়া হয়।

ঘটনা দুটি জানাজানি হতে আওয়ামি লিগ অভিযোগ করে বিদেশিদের কাজে লাগিয়ে দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলছে। তারপরই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সম্প্রতি সংসদে সরাসরি বিএনপির বিরুদ্ধে আঙুল তোলেন। সেই থেকে একের পর এক মন্ত্রী মুখ খুলতে শুরু করেন বিরোধীদের নিশানা করে। তথ্যমন্ত্রী তথা আওয়ামি লিগের প্রভাবশালী নেতা ও দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ দিন কয়েক আগে দাবি করেন, সরকার যথা সময়ে তথ্যপ্রমাণ দাখিল করবে লবিস্ট নিয়োগের ব্যাপারে। তাঁর দাবি, যে ১২টি মানবাধিকার সংগঠন রাষ্ট্রসংঘে র‍্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ ঠুকেছে তারমধ্যে নয়টিরই কোনও অস্তিত্ব নেই।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর অভিযোগ, বিএনপি আটটি সংস্থাকে লবিস্ট হিসাবে বিদেশে নিয়োগ করেছে। দলটির ঢাকা পল্টন অফিসের ঠিকানায় চুক্তি হয়।

অন্যদিকে, বিএনপির শীর্ষ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আওয়ামি লিগের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শাখার তরফে সজীব ওয়াজেদ দুটি লবিস্ট সংস্থাকে নিয়োগ করেছেন। ১০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে ফার্ম দুটির পিছনে। তাদের কাজ দেশি-বিদেশি মিডিয়ায় প্রচারিত মানবাধিকার হরণের ঘটনাগুলি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের বক্তব্য প্রচার করা।

You might also like