Latest News

Hanskhali: ‘হাঁসখালির মেয়েটি কি রেপ হয়েছে, না প্রেগন্যান্ট ছিল, লাভ অ্যাফেয়ার্স তো ছিলই’: মুখ্যমন্ত্রী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাঁসখালির ধর্ষণ (Hanskhali) নিয়ে শাসকদলকে টেনে যে নিন্দা শুরু হয়েছে, সোমবার আক্রমণাত্মক ভাবে তার জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এদিন মিলনমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলে বসেন, “ছেলেটির নাকি মেয়েটির সঙ্গে লাভ অ্যাফেয়ার্স ছিল। ইজ ইট আ ফ্যাক্ট? আমি ডিজি সাহেবকে বলছি।”

নদিয়ার হাঁসখালিতে (Hanskhali) এক নাবালিকার ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে রবিবার থেকে গোটা রাজ্য আন্দোলিত। অভিযোগ হল, ১৪ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতার ছেলে। মেয়েটির পরিবারের দাবি, ধর্ষণের পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। ভয় দেখিয়ে তার দেহ তাড়াতাড়ি দাহ করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। এই ঘটনায় গতকালই গ্রেফতার হয়েছে অভিযুক্ত ব্রজগোপাল গোয়ালা।

হাঁসখালির ওই ঘটনা প্রসঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার শিল্পপতিদের এক সম্মেলনে বলেন, একটি ঘটনা ঘটেছে। তার ভুল ব্যাখ্যা করে রাজ্যকে বদনাম করার চেষ্টা করছে এক শ্রেণির সংবাদমাধ্যম। মমতা বলেন, “মেয়েটি মারা গিয়েছে ৫ তারিখ। অভিযোগ দায়ের হয়েছে ১০ তারিখে। কেন আগে অভিযোগ দায়ের করলেন না। কেন বডিটা পুড়িয়ে দিলেন। আমি সবটা না জেনেই বলছি—আসলে রেপ হয়েছে, না প্রেগন্ট্যান্ট ছিল, নাকি অন্য কোনও কারণ ছিল, নাকি কেউ ধরে ধরে চড় মেরেছে, বা শরীরটা খারাপ হয়েছে? লাভ অ্যাফেয়ার্স তো ছিলই, বাড়ির লোকেরা তা জানত, পাড়ার লোকেরাও তো জানত”।

এখানেই শেষ নয়। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “এখন যদি কোনও ছেলেমেয়ে প্রেম করে, আমি কি তাদের আটকাব? এটা কি উত্তরপ্রদেশ, যে লাভ জেহাদকে আটকানো হবে!”

স্থানীয় সূত্রের খবর, গত সোমবার ঘটনাটি ঘটেছিল। তার পরে শনিবার চাইল্ড লাইনের সহযোগিতায় অভিযোগ দায়ের হয় এবং ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। তার পরেই তোলপাড় শুরু হয়। অভিযুক্ত ব্রজগোপাল গোয়ালার বাবা সমর গোয়ালা হাঁসখালি (Hanskhali) ১ নম্বর পঞ্চায়েতের সদস্য।

ঠিক কী ঘটেছিল?

জানা যাচ্ছে সোমবার ব্রজগোপালের জন্মদিন ছিল, তার পার্টিতে আমন্ত্রিত হয়েছিল ওই নাবালিকাও। বগুলা থেকে সে ব্রজগোপালের বাড়ি গিয়েছিল। পরিবারের অভিযোগ সেই রাতে অসুস্থ অবস্থায় মেয়েকে বাড়িতে দিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নিয়ে যেতে নিষেধও করা হয় বলে অভিযোগ। বরং ব্রজগোপালের বাড়ির লোকজন স্থানীয় ‘হাতুড়ে ডাক্তার’-এর কাছে মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা। এর পরে ভয় দেখিয়ে দাহ করিয়ে দেওয়া হয় কিশোরীর দেহ।

রবিবার সকালে ধৃত ব্রজগোপালকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় ব্রজগোপালের বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি মিলেছে। এর পর তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে এখনও বেপাত্তা ব্রজগোপালের বাবা তৃণমূল নেতা সমর। দেখা মিলছে না তাঁর পরিবারেরও।

মুকুল রায়ের দলত্যাগ মামলায় স্পিকারের রায় খারিজ করল হাইকোর্ট, ফের বিবেচনার নির্দেশ

You might also like