Latest News

আচমকা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট! কীভাবে সিপিআর দেবেন, হাওড়া স্টেশনে হাতেকলমে শেখালেন ডাক্তাররা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘ইচ ওয়ান সেভ ওয়ান।’

অর্থাৎ প্রত্যেক মানুষ অন্য একজনের জীবন বাঁচাতে পারে। এই ভাবনাকে পাথেয় করেই আজ ‘বোন অ্যান্ড জয়েন্ট ডে’ (Bone and Joint day) উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের অর্থোপেডিক অ্যাসোসিয়েশনের (West Bengal Orthopaedic Association) উদ্যোগে আজ হাওড়া স্টেশনে (Howrah Station) হয়ে গেল একটি হাতে কলমে প্রশিক্ষণ শিবির (Hands on Training Programme)। এই উদ্যোগে উক্ত চিকিৎসক সংগঠনের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল পূর্ব রেলের চিকিৎসা বিভাগ (Medical Department of Eastern Railways)।

হাওড়া স্টেশনের ওল্ড কমপ্লেক্সে এই কর্মসূচীতে সাধারণ যাত্রী ও রেলের কর্মী মিলিয়ে প্রায় ৯৫ জন অংশ নিয়েছিলেন। রেলের কর্মচারীদের মধ্যে ছিলেন মূলত আরপিএফ (RPF), টিকিট পরীক্ষক (TTE) , স্টেশন ম্যানেজার এবং চিকিৎসকর্মীরা (Medical Attendants)।

কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন অর্থোপেডিক অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ডাঃ চন্দন পাঠক (Dr. Chandan Pathak), পূর্ব রেলের হাওড়ার সিএমএস ডাঃ ডি গুহ, অ্যানাস্থেসিস্ট ডাঃ এস শূররায়-সহ আরও অনেকে।

Image - আচমকা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট! কীভাবে সিপিআর দেবেন, হাওড়া স্টেশনে হাতেকলমে শেখালেন ডাক্তাররা

আজকের এই শিবিরে বেসিক লাইফ সাপোর্টের (Basic Life Support) কয়েকটি সাধারণ অথচ কার্যকরী পদ্ধতি এবং কার্ডিও পালমোনারি রিসাসিটেশন, অর্থাৎ সিপিআর পদ্ধতি (Cardio Pulmonary Resuscitation technique) শেখানো হয় হাতেনাতে। ডাঃ চন্দন পাঠক এবং ডাঃ এস শূররায় একটি ম্যানিকিনের সাহায্যে পুরো পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে দেন উপস্থিত সকলকে।

শিবিরে অংশ নেওয়া লোকজনের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই নিজে হাতে-কলমে বিশিষ্ট চিকিৎসকদের থেকে পদ্ধতিগুলি শিখে নিয়েছেন। এর ফলে দারুণ উপকৃত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

বাবার হাতেই বারবার ধর্ষিতা, ভেলোরে পুত্রসন্তানের জন্ম দিল অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী

আচমকা যদি কেউ অজ্ঞান হয়ে যান, তাঁর হৃদস্পন্দন বা নাড়ির গতি থেমে যায়, সাড়া না দেন, তাহলে ঠিক কী করতে হবে?

এরকম কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণ নানা কিছুই হতে পারে। সবসময় যে হার্ট অ্যাটাকই হবে, তা নয়। হাই ভোল্টেজের শক খেয়ে বা জলে ডুবে গিয়েও কারও হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
যে কোনও ক্ষেত্রেই যদি সিপিআর অর্থাৎ কার্ডিও পালমোনারি রিসাসিটেশন প্রয়োজন হয়, অর্থাৎ বুকে চাপ দিয়ে কৃত্রিমভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস চালাতে হয়, তা কীভাবে করতে হবে।

১. প্রথমে রোগীকে শোয়াতে হবে সমতল কোনও জায়গায়।
২. পরীক্ষা করতে হবে ক্যারোটিড পালস। এই পালস কোথায় থাকে? গলার মাঝে যে শক্ত হাড় অর্থাৎ অ্যাডামস অ্যাপেল, তাতে দুটি আঙুল রেখে যে কোনও একপাশে আঙুল ঘষে সরাতে হবে। যে নিচু জায়গায় আঙুল পৌঁছবে, সেখানেই থাকে এই বিশেষ পালস।
৩. ক্যারোটিড পালসের স্পন্দন না মিললে তবেই রোগীকে সিপিআর দিতে হবে।
৪. মেঝেতে বা কোনও নিচু, শক্ত জায়গায় রোগীকে চিৎ করে শুইয়ে, তার বুকের ঠিক মাঝখানে বিশেষ ছন্দে চাপ দিতে হবে। এই মাঝখান জায়গাটি চিহ্নিত করার পদ্ধতি হল, দুই স্তনবৃন্ত সংযোগ করা যে রেখা, সেই রেখার ঠিক মাঝখানে দিতে হবে সিপিআর।
৫. ডানহাতি ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ডান হাতের তালুর নীচের অংশটি রাখতে হবে বুকে, সেই হাতের উপরে রাখতে হবে অন্য হাত। তার পরে এমনভাবে বুকে চাপ দিতে হবে, যাতে ৫-৬ সেন্টিমিটার নিচু হয় বুকের খাঁচা। আবার হাত ছাড়তে হবে, যাতে খাঁচা আগের অবস্থায় ফিরে আসে।
৬. এই পদ্ধতি এতটাই দ্রুত করতে হবে, যাতে এক মিনিটে ১০০-১২০ বার ঠিক এরমভাবে পাম্প করা যায়। এই ভাবে অন্ততপক্ষে করতে হবে ২ মিনিট।
৭. তাতেও যদি রোগীর হৃদস্পন্দন না ফেরে, তাহলে মোট ২০ মিনিট ধরে এই সিপিআর দেওয়া যেতে পারে।
৮. ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে অর্থাৎ ৮ বছরের নীচে হলে, তাদের এই সিপিআর দিতে হবে একটানা ৩০ বার। বড়দের চেয়ে কম জোর দিয়ে।

You might also like