Latest News

ক্রিপ্টোকারেন্সি নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার, বিল আসন্ন শীত অধিবেশনেই

দ্য ওয়াল ব্যুরো : আগামী ২৯ নভেম্বর শুরু হচ্ছে সংসদের শীত অধিবেশন (Winter session)। সেখানেই সম্ভবত ভারতে ক্রিপ্টোকারেন্সি নিষিদ্ধ করার জন্য বিল আনবে সরকার। কয়েকটি ব্যতিক্রম বাদে সব ক্ষেত্রেই ক্রিপ্টোকারেন্সি নিষিদ্ধ হবে। এছাড়া রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া যে ডিজিটাল কারেন্সি বাজারে ছাড়বে, তা নিয়ন্ত্রণ করার জন্যও গড়ে তোলা হবে নির্দিষ্ট ফ্রেমওয়ার্ক। সরকার এই উদ্যোগ নিচ্ছে জানার পরেই প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল কারেন্সির দাম কমেছে ১৫ শতাংশ বা তার বেশি। বিটকয়েনের দাম কমেছে ১৮.৫৩ শতাংশ। এথিরিউমের দাম কমেছে ১৫.৫৮ শতাংশ। টিদারের দাম কমেছে ১৮.২৯ শতাংশ।

লোকসভায় যে বিলগুলি পেশ করা হবে বলে স্থির করা হয়েছে, তার মধ্যে আছে ক্রিপ্টোকেরেন্সি অ্যান্ড রেগুলেশন অব অফিসিয়াল ডিজিটাল কারেন্সি বিল ২০২১। সরকারি সূত্রে খবর, ওই বিলে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ইস্যু করা ডিজিটাল কারেন্সির জন্য নির্দিষ্ট পরিকাঠামো তৈরির কথা বলা হবে। সেই সঙ্গে বেসরকারি ক্রিপ্টোকেরেন্সি নিষিদ্ধ করার কথাও থাকবে ওই বিলে।

এর আগে বেসরকারি ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের বক্তব্য ছিল, দেশে সব ধরনের বেসরকারি ক্রিপ্টোকেরেন্সি নিষিদ্ধ করা উচিত। বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকেরেন্সি বিটকয়েনের দাম এখন ৬০ হাজার ডলারের কাছাকাছি। চলতি বছরে তার দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। একটি সূত্রে খবর, ভারতে দেড় কোটি থেকে দু’কোটি ক্রিপ্টো বিনিয়োগকারী রয়েছে। এদেশে মোট ক্রিপ্টো হোল্ডিং-এর পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা।

সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ করলে সহজে ভাল পরিমাণে রিটার্ন পাওয়া যাবে। অনেকের আশঙ্কা, ওই বিজ্ঞাপনগুলি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে পারে। গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় সরকারের কমিটি অন ফিনান্স ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করে।

গত এক দশকে বেসরকারি ডিজিটাল কারেন্সি ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সরকার কিন্তু ওই ডিজিটাল কারেন্সিগুলি নিয়ে সন্দিহান। সরকারি কর্তাদের ধারণা, সেখানে বিনিয়োগ করলে কেউ বিপদে পড়তে পারেন।

বুধবারই জানা যায়, সংসদের আগামী শীত অধিবেশনেই দু’টি ব্যাঙ্ককে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার জন্য বিল আসছে। আগামী ২৯ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে শীত অধিবেশন। ওই অধিবেশনে মোট ২৬ টি বিল পেশ করা হবে।

দু’টি ব্যাঙ্ককে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার জন্য ব্যাঙ্কিং কোম্পানিস (অ্যাকুইজিশান অ্যান্ড ট্রান্সফার অব আন্ডারটেকিংস) আইন, ১৯৭০ ও ১৯৮০ এবং ব্যাঙ্কিং রেগুলেশন অ্যাক্ট ১৯৪৯-তে সংশোধন করতে হবে। সেজন্যই সংসদে পেশ করা হবে বিল।

এছাড়া শীতকালীন অধিবেশনে পেশ করা হবে পেনশন ফান্ড রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট অথরিটি (সংশোধনী) বিল, ২০২১। তার উদ্দেশ্য হল পেনশন ফান্ড রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট অথরিটি আইন সংশোধন করা। তার ফলে পেনশন ফান্ড রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট অথরিটি থেকে ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম ট্রাস্টকে পৃথক করা সম্ভব হবে। গত বাজেটেই ‘ইউনিভার্সাল পেনশন কভারেজ’-এর কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। নতুন বিল এনে সেই ঘোষণাকেই বাস্তবায়িত করা হবে।

You might also like