Latest News

৭ বছরে অপহৃত, ৯ বছর ধরে চিরুনি তল্লাশি মুম্বই পুলিশের, ঘরে ফিরল কিশোরী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৯ বছর ৭ মাস। ঘরের মেয়ের ঘরে ফিরতে ঠিক এই সময়টাই লেগে গেল। ছোট বয়সে হারিয়ে গিয়েছিল (Kidnap) সে। বাড়ি ফিরল যখন, তখন তার কৈশোর পেরিয়ে গেছে প্রায়। মাত্র ৭ বছর বয়সে মেয়েটিকে অপহরণ করা হয়েছিল। ১৬ বছর বয়সে সে আবার তার বাবা-মা, আপনজনদের দেখা পেল।

মুম্বইয়ের (Mumbai) ডিএন নগর থানার অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইনস্পেক্টর রাজেন্দ্র ধোন্দু ভোঁসলে। ২০১৩ সালে তিনি অবসর নেন। তার আগে ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে মুম্বইয়ে ১৬৬ জন নাবালিকা নিখোঁজ হয়। এই কেস হাতে নিয়েছিলেন ইনস্পেক্টর ভোঁসলে। অবসরের আগেই তিনি ১৬৫ জনের কিনারা করতে পেরেছিলেন। কিন্তু কিছুতেই খুঁজে পাননি ১৬৬ নম্বর মেয়েটিকে।

মেয়েটিকে উদ্ধার করে তার বাড়ির লোকের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য অবসরের পরেও হাল ছাড়েননি ইনস্পেক্টর। অবসরের আগে ২ বছর এবং পরে ৭ বছর চিরুণি তল্লাশি চালান তিনি। অবশেষে মেয়েটির খোঁজ মেলে সম্ভবত সবচেয়ে অনিশ্চিত জায়গা থেকে। বাড়ির ৫০০ মিটার দূরত্বের মধ্যেই এত বছর কাটিয়ে দিয়েছে সে।

জানা গেছে আন্ধেরি এলাকা থেকে ২০১৩ সালে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল এক নাবালিকা। তাকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে হ্যারি জোসেফ ডিসুজা (৫০) এবং তাঁর স্ত্রী সোনির (৩৭) বিরুদ্ধে। স্বামী স্ত্রী মিলে এই বাচ্চা মেয়েটিকে অপহরণ করেছিলেন। তাঁরা নিঃসন্তান ছিলেন। তাই নিজেদের কোল ভরানোর জন্য ছোট্ট মেয়েকে বাবা-মায়ের থেকে আলাদা করে দিয়েছিলেন। ৭ বছর ধরে লুকিয়ে রেখেছিলেন তাঁকে।

এই ক’বছরে অনেক কিছু ঘটে গেছে আরব সাগরের পাড়ে। গোদাবরী দিয়েও বয়ে গেছে অনেক জল। ছোট্ট সেই মেয়েটিকে আন্ধেরির একটি বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতে পাঠানো হয়েছিল। তার বাবাও আর বেঁচে নেই। মা আর কাকাকে প্রথম দেখাতেই চিনে ফেলে সে। এত বছরের বিচ্ছেদের পর আপনজনদের কাছে পেয়ে চোখের জল সে ধরে রাখতে পারেনি। কেঁদে ফেলেন মেয়েটির মাও। আর এই আবেগঘন দৃশ্য দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখে মুম্বই পুলিশের টিম, যাদের ছাড়া এই মিলন ছিল অসম্ভব।

ইতিমধ্যে হ্যারি জোসেফ ডিসুজাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর স্ত্রীও পুলিশের নজরে রয়েছেন।

কীভাবে হয়েছিল এই অপহরণ? পুলিশের জেরার মুখে ডিসুজা স্বীকার করেন, ২০১৩ সালের সেই দিনটায় স্কুলের বাইরে মেয়েটিকে একা একা ঘুরতে দেখেছিলেন তিনি। দেখেই তাঁর মনে হয়েছিল, তাঁদের নিঃসন্তান জীবনে এই মেয়েটিই আলো বয়ে আনতে পারে।

মেয়েটিকে নিয়ে নিজের বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন ডিসুজা। তারপর পুলিশের তদন্ত শুরু হয়। মিডিয়াতেও ছড়িয়ে পড়ে এই খবর। কী সাংঘাতিক অপরাধ করেছেন, বুঝতে পারেন ডিসুজা। ভয় পেয়ে তিনি মেয়েটিকে কর্নাটকের একটি হোস্টেলে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন।

তিন বছর পর ডিসুজা আর সোনির কোল আলো করে আসে বহু প্রতীক্ষিত সন্তান। কর্নাটক থেকে সেই মেয়েটিকেও ফিরিয়ে আনেন তাঁরা। কিন্তু দুই সন্তানের ব্যয়ভার বহন করতে পারবেন না বলে মেয়েটিকে তাঁরা অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতে পাঠিয়ে দেন। এর মধ্যে আবার বাড়িও বদল করেন ডিসুজারা। আর কপালের ফের এমনই, ওই মেয়েটির আসল বাড়ির কাছেই নতুন ঠিকানা হয় তাঁদের।

ডিসুজারা ভেবেছিলেন, মেয়েটি এখন বড় হয়ে গেছে, তাই কেউ তাকে আর চিনতে পারবে না। নিখোঁজ পোস্টারে মেয়েটির ছোটবেলার ছবি ছিল। সেই মুখের সঙ্গে এখন আর মিল নেই ১৬ বছরের কিশোরীর। এই ক’বছরে মেয়েটির উপর অকথ্য অত্যাচারও করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: দুটি গলব্লাডার শরীরে! মাইক্রোসার্জারি করে বাদ দিলেন কল্যাণী মেডিক্যালের ডাক্তারবাবুরা

You might also like