Latest News

নীতি আয়োগে মত প্রকাশে বেড়ি, কর্তাদের না দেখিয়ে সংবাদমাধ্যমে লেখায় নিষেধাজ্ঞা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথম সারির খবরের কাগজ (News Paper), জার্নাল (Journal), ম্যাগাজিনে (Magazine) নিয়মিত লিখে থাকেন নীতি আয়োগের (Niti Aayog) আধিকারিকেরা। মূলত, অর্থনৈতিক এবং উন্নয়ন সংক্রান্ত নীতি নিয়ে লেখালেখি করে থাকেন তাঁরা। সম্প্রতি লিখিত ও মৌখিকভাবে আধিকারিকদের বলা হয়েছে, লেখা প্রকাশ (Publication) করতে দেওয়ার আগে উপরমহলকে দেখিয়ে নিতে হবে (Approval)।

এই নির্দেশ ঘিরে তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে নীতি আয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট সব মহলে। অনেকেই মনে করছেন, এই নির্দেশ মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। কারণ, লেখা প্রকাশের আগে তা দেখিয়ে ছাড়পত্র নেওয়ার নির্দেশে স্পষ্ট, সরকারের অস্বস্তির কারণ হতে পারে এমন লেখা প্রকাশের অনুমতি মিলবে না।

আগের যোজনা কমিশন, বর্তমানে নীতি আয়োগ নানা বিষয়ে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রচনায় পরামর্শ দিয়ে থাকে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলিকে বাজেট সংক্রান্ত নানা পরামর্শও দিয়ে থাকে তারা। এককথায় ভারত সরকারের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক হিসাবে কাজ করে থাকে এই সংস্থা। এমাসের গোড়ায় মুখ্যমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে নীতি আয়োগের বৈঠক করেন সংস্থার চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পদাধিকার বলে সব মুখ্যমন্ত্রী নীতি আয়োগের সদস্য।

সরকারি সংস্থা হলেও যোজনা কমিশনের সময় থেকেই এই প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়ে আসছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আদলে। নীতি আয়োগের সদস্য এবং আধিকারিকেরা নামজাদা পত্রপত্রিকায় নিয়মিত লিখে থাকেন। তা থেকে উঠে আসে নতুন ভাবনা। নীতি আয়োগের গৃহীত অভিমতের বিরুদ্ধেও সদস্য অনেক সময় মুখ খুলেছেন। নতুন নির্দেশিকাকে তাই আধিকারিকদের মতপ্রকাশে বেড়ি পরানোর প্রচেষ্টা বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্টমহল।

লিখিত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সংবাদপত্র/ম্যাগাজিন/সংবাদ ওয়েবসাইট ইত্যাদিতে প্রকাশের জন্য কোনও লেখা পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের অনুমোদন নিতে হবে। সিনিয়র উপদেষ্টা/উপদেষ্টাদের নিজেদের লেখার ক্ষেত্রে অনুমোদন নিয়ে হবে স্বয়ং সিইও অর্থাৎ চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসারের।

সূত্রের খবর, গত সোমবার নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান সুমন বেরি এবং সিইও পরমেশ্বরন আইয়ার এবং অন্যান্য সদস্য ও আধিকারিকদের উপস্থিতিতে একটি বৈঠকে লেখালেখি নিয়ে এই নির্দেশিকার কথা ফের মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নীতি আয়োগের এক মুখপাত্র অবশ্য সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, এটা রুটিন নির্দেশ। নীতি আয়োগ চায় সংস্থার আধিকারিক, উপদেষ্টারা নতুন নতুন বিষয়ে আলোকপাত করুন। যদিও সংস্থা সূত্রে খবর, অতীতে এই ধরনের কোনও নির্দেশিকা ছিল না এবং উপদেষ্টারা অনেকেই সরকারের নীতি সিদ্ধান্তের খামতি, ভুল-ক্রটি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন, লেখালেখি চালিয়ে গিয়েছেন।

ভারত মহাসাগরের বুকে নৌঘাঁটি চিনের! উপগ্রহ চিত্রের ছবিতে উদ্বেগ বাড়ছে নয়াদিল্লির

You might also like