Latest News

ছেলে সমকামী, জানতে পেরেই অনার কিলিংয়ের হুমকি! বাড়ি ছাড়লেন যুবক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্মানরক্ষার্থে তাঁকে খুন করার হুমকি দিয়েছে তাঁর পরিবার! এমনই অভিযোগ আনলেন বারাসাতের নবপল্লীর বাসিন্দা শুভঙ্কর রায়। ২৬ বছরের ওই তরুণের অভিযোগ, তিনি সমকামী। শারীরিক ভাবে পুরুষ হলেও, মনের দিক থেকে নারী। ভালবাসেন আর এক পুরুষকে। এ কথা জানতে পারার পরেই পরিবারের তরফে হুমকি দেওয়া শুরু হয় তাঁকে।

গত বছরেই আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে সমকামী সম্পর্ক। সমকামী বিবাহও যে আইনের চোখে অপরাধ, তা নয়। কিন্তু সমাজের অচলায়তন যে আইন করে ভাঙা যায় না, তা এই ঘটনাতেই স্পষ্ট। বাড়িতে ক্রমাগত মানসির অত্যাচারের শিকার হয়ে, ভয় পেয়ে, নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে চিঠি লেখেন শুভঙ্কর। তাতে শুভঙ্করের স্বীকারোক্তি, ছোট থেকেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, কোথাও তিনি সবার থেকে আলাদা। শরীর পুরুষালি হলেও, মনে মনে মানবী তিনি। একটা সময় পর্যন্ত এই যন্ত্রণায় ক্ষতবিক্ষত হলেও, পরে সামলে উঠেছিলেন তিনি। ভালও বেসেছিলেন মনের মতো এক মানুষকে। সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, বিয়ে করবেন।

যুবকের অভিযোগ, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ২১ তারিখে বাড়িতে বিয়ের কথা জানাতেই তাঁর ওপর রীতিমতো চড়াও হন বাবা, মা, আত্মীয়, প্রতিবেশীরা। চলতে থাকে গালিগালাজ, ও শারীরিক অত্যাচার। শুভঙ্করের প্রেমিকের উপরেও চালানো হয় মানসিক নির্যাতন। হুমকি দেওয়া হয়, মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে শুভঙ্কর ও তাঁর প্রেমিক দু’জনকেই। দরকারে খুন করে ফেলা হবে তাঁদের।

শেষমেশ ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন শুভঙ্কর। বাড়ি ছেড়ে এসে, সঙ্গীকে বিয়ে করে আশ্রয় নিয়েছেন ট্রান্সজেন্ডার আন্দোলনের নেত্রী রঞ্জিতা সিংহের কাছে। টেলিফোনে শুভঙ্কর বলেন, “আমি তৃতীয় লিঙ্গ নই, সমকামী। এর আগেও আমার আচরণের জন্য শারীরিক অত্যাচার চালানো হয়েছে আমার ওপরে। এখন সেটা তুঙ্গে পৌঁছেছে। আমার প্রেমিকও ছাড় পায়নি।” ২০১৯ সালে পৌঁছেও, আইনি স্বীকৃতি আসার পরেও, পরিবার-সমাজের কাছে এই ধাক্কা পেয়ে রীতিমতো হতাশ শুভঙ্কর। তাঁর কথায়, “পুরুষের শরীরে নারীর জীবন যাপন করাটা কোনও অন্যায় নয়।”

এই ঘটনার উল্টো দিকে শুভঙ্করের বাবা গোপাল রায় আবার ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে জানিয়েছেন, ছেলের অত্যাচারে তাঁরা তিতিবিরক্ত। তিনি জানান, ২৬ বছরে তাঁরা কখনও টের পাননি ছেলের সমকামিতা। দাবি করেন, ছেলের সঙ্গে নাকি তিনটি মেয়ের সম্পর্কও ছিল। তবে গোপালবাবু স্বীকার করে নেন, যে সব জানতে পারার পরে তাঁরা অন্য কোনও পুরুষের সঙ্গে ছেলের থাকা নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। অভিযোগ, এই নিয়ে বচসা চলাকালীন তাঁর ছেলে শুভঙ্কর মাকে অর্থাৎ গোপালবাবুর স্ত্রীকে এত জোরে ধাক্কা দেন, যে তিনি মাথায় গুরুতর চোট পান এবং এর পরে তাঁর স্ট্রোকও হয়।

যদিও, এত কিছুর পরেও তিনি অন্য কোনও পুরুষের সঙ্গে ছেলেকে ঘরে থাকতে দিতে রাজি নন। তাঁদের শর্ত, ছেলে ফিরে আসুক, কিন্তু একা। তাঁর মায়ের কথায়, “ও আমার সন্তান। আমি ওকে সব কিছুর পরেও মেনে নেব। কিন্তু যে পুরুষের সঙ্গে ও থাকছে, বিয়ে করেছে, তাকে ডিভোর্স দিয়ে আসতে হবে।”

বারাসতের এই ঘটনা যেন আরও এক বার মনে করিয়ে দিল, সময় যতই এগোক, কিছু কিছু বিষয়ে সমাজ-সংস্কৃতি এখনও তিমিরেই থেকে গিয়েছে।

You might also like