Latest News

ই-স্নান নয়! বিধি উড়িয়ে, জমায়েত করে ভোর থেকেই চলছে ‘নোনা জলে’ ডুব

সুকমল শীল, সাগরদ্বীপ

ই-স্নান, আর ডাকযোগে সাঁতার শেখানো একই জিনিস। বেশিরভাগেরই মত এমনটাই। তাই নিষেধাজ্ঞাকে উড়িয়ে ভোর থেকেই স্নান সারছেন হাজার হাজার পুণ্যার্থী।

এবছর শর্তসাপেক্ষে গঙ্গাসাগর মেলার অনুমতি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ মেনে মেলা করার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। কিন্তু, মেলা প্রাঙ্গণে সেই নির্দেশ মানার ছবি প্রথমদিকে সামান্য চোখে পড়লেও এদিন একদম উধাও! স্নানে গিয়ে জড়াজড়ি গলাগলি চলছে। কারও মুখে মাস্ক নেই।

কলকাতা হাইকোর্টের তরফে কড়া কোভিডবিধি মানার কথা উল্লেখ করা রয়েছে। বলা হয়েছে, ৫০ জনের বেশি কোথাও যেন জমায়েত না হয়। কিন্তু, স্নানে কোনও বিধি নেই। সব জায়গায় জমায়েত।বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বৃষ্টি সাগরদ্বীপে। তারপরও বেশিরভাগ জায়গাতেই জমায়েত লক্ষ্য করা গিয়েছে। পুণ্যার্থীদের ভিড়ও বাড়ছে। উচ্চ আদালতের বিধি নিষেধকে গুরুত্ব দিলেন না বহু পুণ্যার্থী। বরং ভোর থেকেই পূণ্য স্নান শুরু করে দেন তাঁরা। ধীরে ধীরে ভিড় বাড়তে শুরু করে বেলার দিকে। ১ ও ২ নম্বর ঘাটে সেভাবে লোক সমাগম না থাকলেও ৩, ৪, ৫ নম্বর ঘাটে ভিড় করতে শুরু করেন পুণ্যার্থীরা।

এদিকে সমুদ্র সৈকতে পুলিশ প্রশাসনের নজরদারি থাকলেও পুণ্যার্থীদের স্নানে বাধা দিতে দেখা যায়নি। গাদাগাদি করে পুজো চলছে কপিল মুনির মন্দিরেও। গঙ্গাসাগর পরিদর্শন করে রিপোর্ট দিয়েছে আদালতের কমিটি। সূত্রের খবর, মেলার ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তুষ্ট নন তাঁরা। বিষয়টিতে কার্যত মুখে কুলুপ এঁটেছেন অরূপ বিশ্বাস, শশী পাঁজারা। ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, মেলা শেষ হলেও গাফিলতি নিয়ে দায় ঠেলাঠেলি শুরু হবে।

তবে এই করোনা পরিস্থিতির মধ্যে গঙ্গাসাগর মেলায় এসে সতর্ক থাকতে দেখা গিয়েছে অনেক পুণ্যার্থীকে। স্নান করেননি অনেকেই। মাথায় জল ছিটিয়ে নিয়েছেন। চাকদহ থেকে ছেলের সঙ্গে স্নানে এসেছিলেন অশীতিপর বৃদ্ধা জোৎস্না বৈরাগী। তিনি ডুব দিয়ে স্নান করেছেন। এই জলে স্নান করলে তো অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন, এই প্রশ্নের উত্তরে তাঁর ছেলে সৌমেন বললেন, ‘সরকার নাকি বলেছে, নোনা জলে করোনা হয় না।’

You might also like