Latest News

পূর্ণতা পেল লতা ও রাজের প্রেম, মুম্বইয়ের সিসিআই-তে পাশাপাশি ছবি বসল দু’জনের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাশাপাশি বসে ভারতীয় দলের ম্যাচ দেখেছেন বহুবার। লর্ডসে কপিলদেবের দলের ফাইনাল ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন লতা মঙ্গেশকর। প্রয়াত সুরসম্রাজ্ঞি এতটাই ক্রিকেট পাগল ছিলেন, একবার বেঙ্গালুরুতে পৌঁছে মাঠে গিয়ে খেলা দেখেছিলেন, তারপর গানের রেকর্ডিংয়ে যান।

লর্ডসের মাঠের পাশেই ছিল বোর্ডের কিংবদন্তি প্রশাসক রাজ সিং দুঙ্গারপুরের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। ওই ফ্ল্যাটের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে ক্রিকেট ম্যাচ দেখতেন লতা। রাজের ফ্ল্যাট অবারিত দ্বার ছিল লতার কাছে। কারণ তাঁরা একে অপরকে ভালবাসতেন। তাঁদের প্রেম ওপেন সিক্রেট ছিল মুম্বই মহলে।

লতা খুব অল্প বয়সে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন৷ নিজের ভাই ও বোনেদের তত্ত্বাবধানের জন্য একেবারে অল্প বয়সে পেশাদার ভাবে গান গাইতে শুরু করেন৷ নিজের কেরিয়ার থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি তাঁদের বড় করে তুলেছিলেন। ভাই-বোনদের কাছে লতা ছিলেন প্রকৃতঅর্থের মা। সংসারের কথা ভাবতে গিয়ে নিজের শখ-আহ্লাদ, নিজের প্রেম-ভালবাসাকে বিসর্জন দিয়েছিলেন। ত্যাগ করেছিলেন সংসারের জন্য সবকিছুই।

ভাই-বোনদের প্রতিষ্ঠিত করার পরে নিজের প্রতি খেয়াল দেন কিংবদন্তি গায়িকা। লতার জীবনেও প্রেম এসেছিল একেবারে অন্যভাবে। তাঁর ভাই হৃদয়নাথ ভাল ক্রিকেট খেলতেন। ওই ক্রিকেট খেলা থেকেই পরিচয় হয় মুম্বই ক্রিকেট সংস্থার সেইসময়ের নামী কর্তা রাজ সিংয়ের সঙ্গে। রাজ সেইসময় লতাদের বাড়িতে আসতেন। সেই থেকে সুরের রানির সঙ্গে তাঁর প্রেম শুরু।

রাজ ছিলেন রাজস্থানের রাজ পরিবারের সদস্য৷ তাঁর বাবা চাননি তাঁদের পরিবারে রাজকন্যা ছাড়া কেউ পুত্রবধূ হয়ে আসুক, তাই লতাকে রাজের পরিবার বাতিল করে দিয়েছিলেন। সেই রাগ থেকে রাজ সিং সারাজীবন লতার মতোই অবিবাহিত থেকে গিয়েছিলেন। রাজ সিং লতাকে ডাকতেন মিঠু বলে। তাঁরা মাঠে পাশাপাশি বসে বহু খেলা দেখেছেন। রাজের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে লতা কপিলদের বিশ্বজয়ের পরে বিনা পারিশ্রমিকে গান গেয়েছিলেন দিল্লিতে।

রাজের প্রস্তাবেই লতা হয়েছিলেন মুম্বইয়ের ক্রিকেট ক্লাব অব ইন্ডিয়ার আজীবন সদস্যা। লতা অনেকসময় বিকেলের দিকে ক্লাবে যেতেন গাড়ি চালিয়ে। এতদিন এই অভিজাত ক্লাবটিতে রাজের ছবি ছিল, কিন্তু এতদিন পরে লতার প্রয়ানের পরে সেই ক্লাবে রাজের পাশে স্থান পেয়েছেন সুরের সাধিকাও।

মুম্বইয়ের নামী সাংবাদিক নাগেশ শ্রীবাস্তব এদিন জানালেন, ‘‘গত শুক্রবারই লতাজি-র ছবি বসানো হয়েছে ক্লাবে। ফুল মালা শোভিত ওই ছবির পাশেই রয়েছে রাজের প্রতিকৃতিও। এতদিন পরে মুম্বই মহলও তাঁদের প্রেমকে স্বীকৃতি দিল।’’

২০০৯ সালে রাজ সিংয়ের জীবনাবসান হয়। যেদিন প্রয়াত হন, সকলের লোকচক্ষুর আড়ালে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে এসেছিলেন লতা। নিভৃতে হয়তো চোখের জলও ফেলেছিলেন। সেই আক্ষেপ মিটল এতদিনে, দুটি মন ফের এক হল অন্যভাবে।

 

You might also like