Latest News

কাঁচরাপাড়ার ফুচকা গ্রাম! চিকেন, মাটন, আইসক্রিম, সবই পাবেন ফুচকার পেটে, দেখুন ভিডিও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফুচকা খেতে ভীষণ ভালবাসেন? তাহলে আপনাকে নিয়ে যাওয়া যাক এমন এক গ্রামে যেখানে দিনরাত ফুচকার গন্ধে ম ম। যেদিকে তাকাবেন কেবল ফুচকার দোকান। সে গ্রামের সবাই ফুচকা বানান। চিকেন ফুচকা, মাটন ফুচকা, দই ফুচকা, ভুট্টা ফুচকা, ঘুগনি ফুচকা, কী নেই!

উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়া এবং নদিয়া কল্যাণীর রথতলা সীমান্তেই সেই গ্রাম, শহীদপল্লী মাঝের চর এলাকায়। বাংলার সবথেকে বড় ফুচকা শিল্প সেই গ্রামেই।

সকাল হলেই ফুচকা তৈরির কাজে লেগে পড়েন সকলে। আটা, ময়দা, সুজি, চালের গুঁড়ো এইসব দিয়ে মণ্ড প্রস্তুত করে সেগুলো ছোট ছোট রুটির আকারে বেলে নেওয়া হয়। তারপর হালকা করে শুকিয়ে কাঠের জালে ভাজা হয়। কেউ বা কয়লার আঁচেও ফুচকা ভাজেন। তারপর মুচমুচে বল তৈরির জন্য সেগুলোকে রোদে ফেলে রাখা হয়। সেই সঙ্গে চলে সুস্বাদু মশলা তৈরির কাজ। পাকা তেঁতুল গোলা, গন্ধরাজ লেবু দিয়ে টক জল বানিয়ে ফুচকার পেট ফাঁসিয়ে পরিবেশন করা হয় এরপরই।

দুপুর দুটোর পর ফুচকা গ্রামের বাসিন্দারা পসরা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। দূরদূরান্ত থেকে কত মানুষ যে ভিড় করেন ফুচকার টানে, তাঁদেরই রসনা তৃপ্ত করে চলেন ওঁরা। দামও বেশ কম, কেউ দশ টাকায় দশটা ফুচকা দেন তো কেউ আবার পনেরটাও! শহীদ পল্লীর গ্রামের ফুচকা বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি হয়। গ্রামের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে কলকাতা হাওড়া, হুগলি, কল্যাণীর বাজারেও চলে আসে সেসব সুস্বাদু ফুচকা। আর বিয়ে বাড়ি কিংবা পুজো পার্বণের অর্ডার এলে তো কথাই নেই, বেশি বেশি ফুচকা উৎপাদনের ধুম পড়ে যায় গ্রামে।

গত দু বছর ধরে করোনার রোষে যদিও ফুচকা শিল্পে ব্যাপক মন্দা এসেছে। অনেকে বিকল্প রুটি-রুজির খোঁজে চলে যান। তবে আবার ঘুরে দাঁড়ায় ফুচকা গ্রাম। আসলে সে গ্রামে ফুচকা বিক্রিই যে ঐতিহ্য। নতুন প্রজন্মের অনেকেই ফুচকা বিক্রি করতে শুরু করেছেন, ব্যবসায় অভিনবত্ব এনে তাঁরা অনলাইন মার্কেটিংয়ের সাহায্য নিচ্ছেন।

You might also like