Latest News

শীঘ্রই ফ্রান্সে আসছে কোভিডের ফোর্থ ওয়েভ, চালু হল হেলথ পাস

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবার ফরাসি সরকার নির্দেশ দিয়েছে, সিনেমা হলে, মিউজিয়ামে বা স্টেডিয়ামে ঢুকতে হলে কোভিড ভ্যাকসিন নেওয়ার প্রমাণপত্র আনতে হবে। অথবা আনতে হবে কোভিড নেগেটিভ টেস্টের প্রমাণ। ভ্যাকসিন বা কোভিড নেগেটিভ হওয়ার প্রমাণপত্রকে বলা হচ্ছে হেলথ পাস। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোভিডের চতুর্থ ওয়েভের মুখে দাঁড়িয়ে আছে ফ্রান্স। প্রধানমন্ত্রী জঁ কাসটেক্স বলেছেন, যাঁরা নতুন করে কোভিডে সংক্রমিত হচ্ছেন, তাঁদের কেউই ভ্যাকসিন নেননি।

বুধবার সকালে জানা যায়, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় ফ্রান্সে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন ২১ হাজার জন। মে-র শুরুর দিকের পরে আর কখনও একদিনে এত বেশি সংখ্যক মানুষ ফ্রান্সে কোভিডে আক্রান্ত হননি। কাসটেক্স টিভিতে ভাষণে বলেছেন, তাঁরা চেষ্টা করছেন যাতে দেশ জুড়ে লকডাউন না করতে হয়। যাঁরা এখনও ভ্যাকসিন নিতে চাইছেন না, তাঁদের নিন্দা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী অলিভিয়ার ভেরান। তিনি সংসদে বলেন, “স্বাধীনতার নামে কেউ যদি ট্যাক্স না দিতে চায়, রাস্তার ভুল দিক দিয়ে গাড়ি চালায়, রেস্তোরাঁয় সিগারেট খায় অথবা ভ্যাকসিন না নিতে চায়, তাকে সমর্থন করা যায় না।”

এখনও পর্যন্ত ফ্রান্সের নাগরিকদের ৫৬ শতাংশ, অর্থাৎ ৩ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষ ভ্যাকসিন নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৪৬ শতাংশকে দু’টি ভ্যাকসিনই দেওয়া হয়েছে। সরকার এবারের গ্রীষ্মের মধ্যেই ৫ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দিতে চায়।

গত সপ্তাহে সরকারের ভ্যাকসিন নীতির বিরুদ্ধে পথে নামেন হাজার হাজার ফরাসি নাগরিক। তাঁদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল মাকরঁ ভ্যাকসিন নিয়ে ‘একনায়কত্ব’ চালাচ্ছেন। মাকরঁ-র নিজের দল রিপাবলিক অন দ্য মুভ-এর কয়েকজন সাংসদও বলেছেন, সরকারের ভ্যাকসিন নীতি নাগরিক স্বাধীনতার পক্ষে ক্ষতিকারক।

সারা বিশ্বে শীঘ্রই করোনার তৃতীয় ওয়েভ শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। জুলাইয়ের মাঝামাঝি হু-র প্রধান তেদ্রোস আদহানম ঘেব্রেইসাস বলেন, “দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হল, আমরা এখন থার্ড ওয়েভের প্রাথমিক স্তরে রয়েছি।” হু প্রধানের মতে, নানা দেশে সামাজিক যোগাযোগ বেড়েছে। সর্বত্র কোভিড বিধি মেনে চলা হচ্ছে না। তাছাড়া অতি সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের জন্যও সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইউএন নিউজ অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় টিকাকরণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একসময় ওই সব অঞ্চলে সংক্রমণ ও মৃত্যু, দুই-ই কমেছিল। কিন্তু সম্প্রতি সংক্রমণ ফের বাড়ছে। করোনাভাইরাসের অভিযোজন অব্যাহত রয়েছে। নতুন ভ্যারিয়ান্ট আরও ছোঁয়াচে হয়ে উঠছে।

তেদ্রোস জানিয়েছেন, “এখনও পর্যন্ত ১১১ টি দেশে ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের অস্তিত্ব লক্ষ করা গিয়েছে। মনে হয়, শীঘ্রই বিশ্ব জুড়ে এই ভ্যারিয়ান্টই প্রধান হয়ে দাঁড়াবে।” ১০ সপ্তাহ ধরে বিশ্ব জুড়ে কোভিডে মৃত্যু কমছিল। গত সপ্তাহে ফের বেড়েছে মৃত্যু।

তেদ্রোস উল্লেখ করেছেন, টিকাকরণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের মধ্যে ব্যাপক বৈষম্য দেখা দিয়েছে। অতিমহামারীর সময় জীবনরক্ষার জন্য যেসব যন্ত্রপাতি প্রয়োজন, তাও সব দেশে পাওয়া যাচ্ছে না। হু আবেদন জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিটি দেশে অন্তত ১০ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিন দিতে হবে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দিতে হবে ৪০ শতাংশকে। ২০২২ সালের প্রথম ছ’মাসের মধ্যে দিতে হবে ৭০ শতাংশকে।

You might also like