Latest News

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান হতে পারেন আইএসআইয়ের প্রাক্তন ডিজি

দ্য ওয়াল ব্যুরো : চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরে টানা ছ’বছর এক্সটেনশনে আছেন পাকিস্তানি সেনার অধিনায়ক জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া (Gen Bajwa)। ২০২২ সালে সম্ভবত তিনি পদ ছাড়বেন। তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসুরী হিসাবে শোনা যাচ্ছে গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের প্রাক্তন প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফৈয়াজ হামিদের নাম। তিনি এখন ইলেভেনথ কোরের কম্যান্ডার পদে রয়েছেন।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানে বসতে হলে আগে অন্তত একবছর কোনও কোর লেভেল ফর্মেশনের কম্যান্ডার পদে থাকতে হয়। ফৈয়াজ হামিদ ছিলেন আইএসআইয়ের ২৪ তম প্রধান। ২০১৫ থেকে ‘১৭ সাল পর্যন্ত তিনি সিন্ধু প্রদেশে পানো আকিল পদাতিক ডিভিশনের কম্যান্ডিং অফিসার ছিলেন।

জেনারেল বাজওয়ার কার্যকালের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২২ সালের নভেম্বরে। অনেকের ধারণা, তাঁর চাকরির মেয়াদ আরও দু’বছর বাড়তে পারে। তবে ফৈয়াজ হামিদ যে তাঁর উত্তরসুরী হচ্ছেন, তা নিয়ে অনেকেরই সন্দেহ নেই। তালিবানকে কীভাবে ক্ষমতায় আসতে সাহায্য করা যাবে, তা নিয়ে নির্দিষ্ট ধারণা ছিল ফৈয়াজ হামিদের। তালিবানকে পাকিস্তান থেকে অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ দিয়ে সাহায্য করা হত। আহত তালিবান যোদ্ধাদের চিকিৎসাও করা হত পাকিস্তানে। এমনকি পঞ্জশিরে বিরোধীদের পরাজিত করার ক্ষেত্রেও তালিবানকে সাহায্য করে পাকিস্তান। এব্যাপারে ফৈয়াজ হামিদ ছিলেন সক্রিয়। তাঁর তালিবান পলিসি সফল হওয়ার জন্যই তাঁকে সেনাবাহিনীর শীর্ষপদ দেওয়া হতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

তালিবানের প্রথম সারির সব নেতাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন ফৈয়াজ। বিশেষত তালিবানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা ইয়াকুব এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হাক্কানির সঙ্গে ফৈয়াজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে বলে জানা যায়।

গত ১১ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে ইসলামাবাদে বৈঠক করেন পাকিস্তান, চিন, রাশিয়া ও  আরও পাঁচটি মধ্য এশিয়ার দেশের গোয়েন্দা প্রধানরা। ওই বৈঠকের আহ্বায়ক ছিলেন ফৈয়াজ হামিদ। তিনি তালিবানের আমন্ত্রণে কাবুলে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরেই ওই বৈঠক ডাকেন।

সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে পাকিস্তান, আফগানিস্তানের নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ, তালিবান নেতৃত্বের সঙ্গে আর্থিক, বাণিজ্যিক লেনদেনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আফগানিস্তানের দ্রুত বদলাতে থাকা পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছে রাশিয়া ও অন্য  মধ্য এশিয়ার দেশগুলি।

প্রাক্তন রুশ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেদ এক পত্রিকার উত্তর সম্পাদকীয়তে লিখেছেন, আফগানিস্তানের পরিস্থিতির ফলশ্রুতিতে রাশিয়া ও অন্য মধ্যে এশীয় দেশগুলিতে নতুন করে শরণার্থীদের ঢল নেমে বিরাট সমস্যা তৈরি  করতে পারে। আফগানিস্তানে তালিবানের উত্থানের ফলে কট্টরপন্থী মৌলবাদের বিপদ মাথাচাড়া দিয়ে মধ্য এশিয়ায় ছড়াতে পারে।

You might also like