Latest News

শিলিগুড়িতে মাফিয়ারাজ, জঙ্গলের ম্যাপই বদলে যাচ্ছে অবৈধ দখলদারিতে!

দ্য ওয়াল ব্যুরো, শিলিগুড়ি: জমি মাফিয়াদের দখলে বিঘার পর বিঘা জমি। একে একে সব জঙ্গল (Forest) সাফ হয়ে যাচ্ছে। খাতায় কলমে জঙ্গলের যে দৈর্ঘ্য রয়েছে, তা বাস্তবে কবে কখন উড়ে গেছে কেউ হিসেব রাখে না। জঙ্গলের এমন নগরায়ণে বিপদে পড়েছে বন্যপশুরা, বিপদ দেখছেন প্রান্তিক মানুষও।

কথা হচ্ছে শিলিগুড়ি (Siliguri) শহরের গা ঘেঁষে বেড়ে ওঠা বৈকুণ্ঠপুর ফরেস্টের। খাতায় কলমে তার দৈর্ঘ্য ২৭২ বর্গকিলোমিটার। কিন্তু জমি মাফিয়াদের দাপটে এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৬০ বর্গকিলোমিটারে। জঙ্গলকে গ্রাস করে মাথা তুলছে বড় বড় পাঁচিল, গড়ে উঠছে কারখানা। প্রশাসনের কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই তাতে।

বৈকুণ্ঠপুর ফরেস্টের কাছেই রয়েছে নেপালি বস্তি। সেখানকার মানুষেরা বন বিভাগের কৃষি পাট্টার উপর বসবাস করছেন। জমি কখনো বিক্রি করা যাবে না, চাষবাস করে জীবন কাটাতে হবে এবং সরকার চাইলে জমি ফিরিয়েও নিতে পারে- এই শর্তাবলীতে বাস করেন তাঁরা। কিন্তু ঘন জঙ্গলের গা ঘেঁষে বিশাল বিশাল দেওয়াল উঠেছে কার নির্দেশে? সেসব জানেন না এই মানুষগুলো।

এলাকায় কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে স্বপন পালের নাম। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, তিনি জঙ্গলের কোনও জমি দখল করেননি। সব কিছুর কাগজপত্র রয়েছে তাঁর কাছে। রেকর্ড ল্যান্ডই কিনেছেন বলে জানান স্বপনবাবু। কিন্তু বন দফতরের জমি কীভাবে রেকর্ড ল্যান্ড হয়? স্বপন পালের সাফ জবাব, সেটা বন দফতরই বলতে পারবে। তারা সার্ভে করে দেখুক। আমি যদি কারও জমি নিয়ে থাকি, তাহলে তা বন দফতর নিয়ে নিতে পারে। সব কাজের লাইসেন্স ও অন্যান্য জরুরি কাগজপত্র রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে বৈকুন্ঠপুর জঙ্গলের ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার হরি কৃষ্ণ জানান, উপরমহল থেকে সংবাদমাধ্যমে কথা বলায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মুখ্য বনপাল জে টি ম্যাথিউ জানান, ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসারকে বিষয়টি জানিয়েছি। বাউন্ডারি ডিমার্কেশন রি-সার্ভে করতে বলেছি। ডিজিপিএস মেশিন দিয়ে সার্ভে চলছে, তাতেই জানা যাবে ফরেস্টের জমি দখলে রয়েছে কিনা। যদি তা হয় তবে জঙ্গলের জমি পুনরদ্ধার করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, এখানকার পরিবেশ আর আগের মতো নেই। বাইরের লোকজন এসে জমি দখল করছেন, পরিবেশ দূষণ হচ্ছে, জঙ্গলেরও ক্ষতি হচ্ছে। কীভাবে এই জমি কেনার কাগজপত্র তাঁরা পাচ্ছেন তা জানা যাচ্ছে না। নীরব ভূমি রাজস্ব দফতরও।

উল্লেখ্য, জঙ্গলের জমি অবৈধভাবে দখল নিয়ে ইতিমধ্যেই আমবাড়ি ফালাকাটা আউটপোস্ট থেকে ভূমি রাজস্ব দফতর, বনবিভাগ- সব জায়গায় চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোথাও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।

এদিকে জঙ্গলের সার্ভেতে প্রতিবারই দেখা যায় মানচিত্র থেকে জঙ্গল পিছিয়ে যাচ্ছে। নগর তাকে গ্রাস করে নিচ্ছে, ম্যাপই যাচ্ছে বদলে।

এ প্রসঙ্গে পরিবেশবিদ তথা ওয়েস্টবেঙ্গল ওয়াইল্ডলাইফ বোর্ডের মেম্বার অনিমেষ বসু জানান, জঙ্গলের পতিত্যাক্ত জায়গায় গাছ কেটে যেভাবে দখলদারি চলছে তাতে বন্যপ্রাণী ও মানুষের সংঘাত আরও বাড়বে। শুধু বন দফতর নয়, পুলিশ, ভূমি রাজস্ব দফতর সব পক্ষকেই এই দখলদারি ঠেকাতে উদ্যোগী হতে হবে। টাকার জোরে মাফিয়ারা যাতে কোনওমতেই ক্লিনচিট না পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকেই।

আরও পড়ুন: একরত্তিকে তুলে আছাড়! সাড়ে চারশো টাকার বচসায় সাংঘাতিক কাণ্ড ময়নাগুড়িতে

You might also like