Latest News

সামুদ্রিক বরাহ! জেলেদের জালে আটকানো প্রাণীর ছবি দেখলেন বিজ্ঞানীরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাগরঘোড়া বা সি-হর্স নতুন কিছু নয়, সি-লায়নও হয়।  তবে সমুদ্র-বরাহ! সমুদ্রে জাল দিয়ে শূকরজাতীয় একটি প্রাণী পেয়েছেন মৎস্যজীবীরা। পূর্ব মেদিনীপুরের মন্দারমণির কাছে নিউ জলধা উপকূল থেকে প্রায় ৫ নটিক্যাল মাইল দূরে মৎস্যজীবীদের জালে প্রাণীটি ধরা পড়ছে বলে দাবি। মৎস্যজীবীরা বলছেন প্রাণীটির নাম সামুদ্রিক শূকর।

এখনও পর্যন্ত এমন কোনও প্রাণীর কথা কেউ শোনেননি। হতে পারে প্রাণীটি কোনও ভাবে জলে পড়ে গিয়েছিল, তা দেখেই হইচই শুরু হয়ে গেছে।

মন্দারমণি থেকে ৫ নটিক্যাল মাইল গভীরে পাওয়া প্রাণীটিকে আপাত ভাবে দেখে মনে হয়েছে মুখটি শুকরের মুখের তুলনায় সরু, শরীরও তাই। আমরা ছবিগুলি পাঠিয়ে দিয়েছিলাম ভারতীয় প্রাণী সর্বেক্ষণে (জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া বা জেডএসআই)। জেডএসআই-এর স্তন্যপায়ী প্রাণী বিভাগের প্রধান সি চন্দ্রশেখর ছবিগুলি দেখে জানান যে প্রাণীটি শূকর বলেই তাঁরা মনে করছেন।

জল থেকে উদ্ধার করে আনা হয়েছে শুকরটিকে

সামুদ্রিক শূকর — মৎস্যজীবীদের এই দাবি শুনে শুক্রবার বহু মানুষ ওই প্রাণীটিকে দেখতে ভিড় করেন। তখন একটি মজার গল্প মনে পড়ে যায় অনেকের। এক গ্রামের পুকুরে একবার একটি শূকর পড়ে গিয়েছিল। সেই গ্রামের লোক আগে কোনও দিন শূকর দেখেননি। তাঁরা ভাবলেন গেছো ইঁদুর কোনও কারণ জলে পড়ে ফুলে-ফেঁপে এমন আকার ধারণ করেছে। কথাটা অনেকের মনে ধরলেও তাতে গ্রামের লোকের ঠিক মন ভরল না। লোকের ভিড় দেখে শূকরটিও জল ছেড়ে উঠতে পারছে না। ছোট ছেলেরা ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করে দিল সেটি উড়তে পারে কিনা পরীক্ষা করার জন্য। জেলেরা মস্ত জাল নিয়ে এলেন। এমন সময় সবাই মিলে ঠিক করলেন, গ্রামের পণ্ডিতমশাইকে ডাকা হোক। তিনি এলেন। এমন প্রাণী পণ্ডিতমশাইও দেখেননি। তিনি খানিক মাথা চুলকে নিলেন। তাঁরও মনে হল প্রাণীটি ইঁদুরের মতোই দেখতে। কিন্তু ঠিক যেন ইঁদুর নয়, মুখটাও অতটা ছুঁচলো নয়। অনেক ভেবে পণ্ডিতমশাই বললেন, প্রাণীটির নাম ‘গজক্ষয়’ অর্থাৎ হাতি ক্ষয়ে গিয়ে অমন হয়েছে।

মৎস্যজীবীরা জানিয়েছেন, এমন প্রাণী আগে কোনও দিন তাঁরা সমুদ্রে দেখেননি, কোনও দিন এমন প্রাণীর কথা শোনেনওনি। প্রাণীটি উদ্ধারের পর হুলুস্থুল পড়ে যায় গোটা এলাকায়। জীবিত অবস্থাতেই প্রাণীটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। জল ছাড়া প্রাণীটি দিব্যি বেঁচে রয়েছেন। শূকরটিকে বন দফতরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

শূকর সাঁতার কাটতে পারে। বাহামায় অনেকে শূকরের সঙ্গে সাঁতার কাটেন, তাদের খাওয়ানও। হতে পারে শূকরটি সাঁতরে কিছুটা যাওয়ার পরে স্রোতের টানে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছিল। এছাড়া অন্য কোনও যুক্তিগ্রাহ্য কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না সমুদ্র থেকে শূকর উদ্ধারের।

You might also like