Latest News

আমরা চার জনেই মরে যেতাম! রুদ্রপ্রসাদের রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতায় ফুটে উঠল পাহাড়চুড়োর আতঙ্ক

রুদ্রপ্রসাদ হালদার
(কাঞ্চনজঙ্ঘা শৃঙ্গ ছুঁয়ে ফিরে আসা তিন জীবিত পর্বতারোহীর এক জন)

কুন্তলকে পাগলের মতো চড়-থাপ্পড় মারছিলাম। বেশ জোরে জোরেই। ব্যথা পাওয়ার মতো। কিন্তু ও তখন সমানে একই সুরে বলে চলেছে, “রুদ্র আমায় একটু শুতে দে না। প্লিজ়, একটু ঘুমোতে দে না আমায়।” আমি বুঝতে পেরে গেছিলাম, হাত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে পরিস্থিতি। আমি নিজে তখন বিধ্বস্ত। অনেক ক্ষণ বিনা অক্সিজেনে নামার পরে সবে একটা অক্সিজেন পেয়েছি। ক্র্যাম্পন (বরফে হাঁটার জন্য জুতোর তলায় বাঁধা কাঁটার মতো একটি জিনিস) খুলে গেছে পা থেকে। নিজেকে কী করে নীচে নামাব বুঝতে পারছি না। আমার সঙ্গের শেরপা, পূর্বা। ও-ও একটানা আমায় বলে চলেছে, “কুন্তল বাঁচবে না। আর সময় নষ্ট করলে তুমিও বাঁচবে না। তোমার সঙ্গে থাকলে আমিও বাঁচব না।”

আমি সব বুঝতে পারছিলাম। কুন্তলের এই লক্ষণগুলো আমার চেনা, খুব চেনা। হাই অল্টিটিউড সিকনেসের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে ও, যে প্রান্ত থেকে শুরু হচ্ছে মৃত্যুর দেশ। ও যে ঘুমোতে চাইছে, এই যে অবসন্নতা, তাতে ওকে ঘুমোতে দেওয়ার মানে সেটাই চিরঘুম হয়ে যাওয়া। পূর্বা চলে গেল একটা সময়ে। ওকে দোষ দিচ্ছি না আমি। ওকেও তো নিজেকে বাঁচাতে হবে। আমি প্রায় নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছি। তবু ছেড়ে আসতে পারছি না। জোরে জোরে ঝাঁকাচ্ছি কুন্তলকে। অক্সিজেন মাস্ক ছিঁড়ে ফেলেছে ও আগেই। এত অসহায় কখনও লাগেনি আমার জীবনে। ওকে বোঝাচ্ছি, চেঁচাচ্ছি। এক পা এক পা করে নামাচ্ছি। থেমে যাচ্ছে। চোখ বুজে আসছে ওর। ও-ও মাউন্টেনিয়ার। ও নিজেও বুঝতে পারছে, ও কোন দিকে যাচ্ছে। আমি যখন ওকে চড় মারছি, তখন ও বুঝতেও পারছে কেন মারছি। কিন্তু….

কিন্তু ও পারছে না। ও পারেনি। নিজেকে দাঁড় করাতে পারেনি আর। তখন ক’টা বাজে আমি জানি না, তিনটের খানিক আগে হবে। কারণ এর পরেই আমি ঊর্ধশ্বাসে খানিকটা নেমে এসওএস পাঠাই জিপিএস ট্র্যাকার ডিভাইসের মাধ্যমে। তখন সময় জেনেছি পরে, সাড়ে তিনটে প্রায়। ওই সময়ে বেশ কিছু ক্ষণ গ্লাভস আর সানগ্লাস খোলা ছিল আমার, মেসেজ করার জন্য। তখনই আমায় ফ্রস্ট বাইট আর স্নো ব্লাইন্ডনেস ধরে ফেলে সম্ভবত।

রুদ্রপ্রসাদের পাঠানো এই মেসেজ এসেছিল জিপিএস ট্র্যাকার ডিভাইস থেকে। সময় তখন সাড়ে তিনটে প্রায়। (মেসেজের সূত্র: সোনারপুর আরোহী ক্লাবের সদস্য চন্দন বিশ্বাস)

কুন্তলকে কোনও ভাবে কিছু করতে না পেরে, ওখানেই জুমারে (ওপরে ওঠার ইকুইপমেন্ট) অ্যাঙ্কার করে (পাহাড়ের গায়ে বেঁধে রেখে) ভাল করে বসিয়ে রাখলাম। আমায় নামতে হবে। আমার যে কী অবস্থা তখন, কাউকে বলে বোঝাতে পারব না। কোনও দিনই হয়তো পারব না। এই প্রশ্নটা বাকি সকলের মতো আমাকেও তাড়া করবে, কুন্তলকে রেখে এলাম! কিন্তু যাঁরা কখনও আট হাজার মিটারের ওপরে গিয়েছেন, যাঁরা কখনও কাঞ্চনজঙ্ঘার ওই দীর্ঘ ঘণ্টা তিরিশের সামিট পুশ করেছেন, তাঁরা হয়তো আন্দাজ করতে পারবেন, ঠিক কী অবস্থায় আমি… ভাবতে পারছি না আর।

তবে এটুকু বুঝতে পারছিলাম, একসঙ্গে দু’জনের মৃত্যু ডেকে আনার মানে হয় না। তার চেয়ে আমি যদি কোনও ভাবে আমার ক্লাব সোনারপুর আরোহী, আমাদের এজেন্সি পিক প্রোমোশন আর আমাদের রেসকিউ এজেন্সি গ্লোবাল রেসকিউকে এসওএস বার্তা পাঠাতে পারি, তা হলে হয়তো সম্ভাবনা থাকবে কুন্তলকে বাঁচানোর। নামতে শুরু করি। যদি তাড়াতাড়ি নেমে কাউকে পাঠাতে পারি!

আমার খানিকটা সামনে রমেশদা ছিল। রমেশদারও অক্সিজেন শেষের মুখে। জল পুরোপুরিই শেষ। ও ডিহাইড্রেটেড হয়ে গেছিল। আমি চিৎকার করে রমেশদাকে ডাকি, রমেশদা শুনতেও পায়। কিন্তু থামেনি। পরে রমেশদাই বলেছিল, যে ও থামেনি নয়, থামতে পারেনি। থামার বা ফের ওপরে উঠে আসার অবস্থাই ছিল না ওর। কোনও ক্ষমতা ছিল না শরীরে। ও মারাই যেত প্রায়। ও যে কী ভাবে বাঁচল…!

কিন্তু আমি তখনও জানতাম না, সত্যিই শেষ হয়ে যাবে কুন্তল। আমি ভেবেছিলাম, এসওএস পেয়ে রেসকিউ শুরু হবে। আমি নিজে নীচে নেমে ফের ওপরে পাঠাব কাউকে। একই সঙ্গে চিন্তা হচ্ছিল বিপ্লবদার জন্যও। কিন্তু কোথাও একটা বিশ্বাস ছিল, দিনশা শেরপা আছে বিপ্লবদার সঙ্গে, ঠিক নামিয়ে আনতে পারবে।

আসলে আমি যখন কাঞ্চনজঙ্ঘা সামিট থেকে কয়েকশো মিটার নীচে নেমে এই অবস্থায় কুন্তলের সঙ্গে বাঁচানোর লড়াই করছি, তখন ওপরেও হয়তো একই লড়াই চলছে বিপ্লবদাকে নিয়ে। তার শুরুটা আমি নিজেই দেখে এসেছিলাম।

(বাঁ দিক থেকে) বিপ্লব, কুন্তল, রুদ্রপ্রসাদ, রমেশ।

আমরা মঙ্গলবার বিকেলে সামিট ক্যাম্প থেকে রওনা দিয়ে, বুধবার সকাল এগারোটার আশপাশে সামিট করি। এত খারাপ সামিট আমি আমার এই পর্বত-জীবনে কখনও পাইনি। চুড়োর মাথায় একটা পাঁচিল মতো আসে প্রথমে। ওটায় চড়ার পরে মনে হয়, ওটাই সামিট। কিন্তু ওখান থেকে ফের নেমে, কয়েক মিটার দূরে একটা বাটির মতো অংশে উঠতে হয়, যেটা হল আসল সামিট! আগেরটা নয়। আর এই কয়েক মিটার পথটুকু যে কী কঠিন! বরফের সঙ্গে পাথর মিশে আছে। ওই উচ্চতায় পাথরে ক্লাইম্বিং যে করেছে, সে-ই জানে যে সেটা কতটা কঠিন। তার ওপরে ওই দিন বেশির ভাগ অভিযাত্রীরই সামিটের ডেট ছিল। ফলে প্রায় ট্র্যাফিক জ্যাম লেগে গেছিল চুড়োয়। সেখানেও সময় নষ্ট হয় খানিক।

সামিট করার পরে আনন্দ যে হয়নি তা বলব না, কিন্তু তার চেয়ে দুশ্চিন্তা বেশি হচ্ছিল। কারণ কুন্তল কোথায়, বুঝতে পারছিলাম না। ও কি সামিট অবধি পৌঁছতে পারল না, নাকি সামিট করে নেমেছে, বুঝতে পারছিলাম না। আসলে ডাংরি (বরফে পরার ভারী, মোটা পোশাক), সানগ্লাস, অক্সিজেন মাস্ক পরে থাকলে কাউকে আলাদা করে চেনা যায় না। সকলকে এক রকম লাগে।

আরও পড়ুন: শেরপা নেই, আবহাওয়া খারাপ! উদ্ধারকাজ নিয়ে টানাপড়েন, তুষাররাজ্যেই কি হারিয়ে গেলেন দীপঙ্করও!

সামিটের পরেই খানিক নেমেই আচমকা বিপ্লবদা বলল, চল রুদ্র এখানেই বিভোক করি আজ। আমার বুকটা ছ্যাঁৎ করে উঠেছিল। কারণ যতই স্বাভাবিক গলায় কথাটা বলুক, এক জন পর্বতারোহী কখনওই সুস্থ মস্তিষ্কে সাড়ে আট হাজারেরও বেশি উঁচুতে ডেথ জ়োনে সাধ করে বিভোক করতে চাইবে না। পাহাড়ি পরিভাষায়, বিভোক করার অর্থ বরফের ঢালে অস্থায়ী শেল্টার বানিয়ে রাত কাটানো। জল কোথায়, অক্সিজেন কোথায়! কী করে এমন কথা বলছে বিপ্লবদার মতো অভিজ্ঞ আরোহী!

বিপ্লবদার সঙ্গে ছিলেন দিনশা শেরপা। অত্যন্ত দক্ষ, অভিজ্ঞ। বার তিনেক কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযান করেছেন। করেছেন কেটু-র মতো শৃঙ্গ। আমার শেরপা পূর্বা আমায় বলল, “বিপ্লবদাকে নিয়ে চিন্তা কোরো না। দিনশা ঠিক নামাবে ওকে। ও সাঙ্ঘাতিক দক্ষ।”

তত ক্ষণে রমেশদাকে আমার অক্সিজেন দিয়েছি আমি। কারণ ওর অক্সিজেন শেষ হয়ে গেছিল। আমি জানতাম, আমার অক্সিজেন খানিক নীচে আছে। পূর্বা তেমনই বলেছিল আমায়, যে চল্লিশ মিনিট নীচে নামলে অক্সিজেন পেয়ে যাব। সামিট হয়ে যাবে আন্দাজ করে, ও ওখানে রেখে এসেছে আমার অতিরিক্ত অক্সিজেনটা। সত্যি বলতে, অক্সিজেন ছাড়া যে আমার খুব অসুবিধা হচ্ছিল তা নয়। হয়তো ভাল ভাবে অ্যাক্লেমেটাইজ়ড হয়েছিলাম বলে। কিন্তু ওই উচ্চতায় নিজের অসুবিধাটা আসলে নিজে বোঝা যায় না। নিজেকে মনে হয় ঠিকই তো আছি। আশপাশের সহযাত্রীদের চোখে ধরা পড়ে অসঙ্গতিটা। যেমন আমার চোখে ধরা পড়েছিল বিপ্লবদার ক্ষেত্রে।

এর পরে আমি আর পূর্বা দ্রুত নামছিলাম। শ’দুয়েক মিটার নামার পরেই কুন্তলকে পাই। কী অবস্থায়, সেটা আগেই বলেছি। শেষমেশ ওকে রেখে, বিপ্লবদার চিন্তা মাথায় নিয়ে, একটানা মেসেজ পাঠাতে পাঠাতে আমি দ্রুত নামতে থাকি ক্যাম্পের দিকে। শরীর ছেড়ে আসছিল, আসারই কথা। কিন্তু মনটা জাগিয়ে রেখে একটানা নামছিলাম। ঢুকতেই হবে ক্যাম্পে।

বিকেল হয়ে এসেছে। ক্যাম্প বেশি দূর নয়। পাসাংয়ের সঙ্গে দেখা। পাসাং আমাদের এজেন্সির শেরপা সর্দার। পাসাং জানাল, খবর পেয়ে শেরপারা এগিয়ে গেছে। বিপ্লব আর কুন্তল দু’জনকেই নামানো হচ্ছে। ওরা ঠিক নেমে যাবে। এই সময়টা আমার স্পষ্ট মনে আছে। আমার মনে হয় অসুস্থতা শুরু হয়েই গেছিল ভেতরে ভেতরে। কিন্তু কুন্তল আর বিপ্লবদা কিছু ক্ষণের মধ্যে নামবে শুনে আমার যে কী হল! আচমকা রুকস্যাক নামিয়ে, ভেতর থেকে এক্সট্রা গ্লাভস, মোজাগুলো বার করে ছুড়তে শুরু করলাম। বরফে ডিগবাজি খেতে লাগলাম। হাসছিলাম হো হো করে।

হেলিকপ্টারে রেসকিউ করা হচ্ছে রুদ্রপ্রসাদ ও রমেশকে।

হ্যাঁ, নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলাম। পরে সেটা বুঝতে পারি। অস্বাভাবিক আচরণ করছিলাম, অসুস্থতার বড় লক্ষ্মণ ওটা। আমি পড়েও যেতে পারতাম ওরকম পাগলামি করতে গিয়ে। কিন্তু তখন মাথায় ছিল না এ সব। এই সময় কেউ এক জন, কে আমি মনে করতে পারছি না। আমি জানি না, উনি কোনও আরোহী না শেরপা না। উনি সমানে আমায় শান্ত করে বলছিলেন, “ওই তো আর একটু দূরে ক্যাম্প। ওখানে গিয়ে যা খুশি করো। আর একটু নামো। প্লিজ় এরকম কোরো না। সামান্য বাকি।”– এরকম সান্ত্বনা দিয়ে দিয়ে আমায় পুশ করছিলেন ক্যাম্পের দিকে কেউ।

ওই মানুষটার জন্যই হয়তো আমি বেঁচে গেলাম। জানি না!

কোনও রকমে ক্যাম্পে ঢুকলাম। একটু বসে, চা-জল খেয়ে হুঁশ ফিরল আমার। বুঝতে পারছিলাম, একটু আগেই অসংলগ্ন আচরণ করছিলাম। কিন্তু রমেশদা! রমেশদা তো আমার আগে নেমেছে। রমেশদা কই! তা হলে কি ভুল করে অন্য তাঁবুতে ঢুকে গেল! কোথায় খুঁজব এখন! কী করব মাথা কাজ করছিল না। তবে এটাই ভেবেছিলাম, ভুল করে বা অসুস্থতার জন্য হয়তো অন্য তাঁবুতে ঢুকে গিয়েছে রমেশদা। রমেশদার চিন্তা মাথা থেকে সরিয়ে শেরপাদের অনুরোধ করি, উপরে উঠে বিপ্লবদা আর কুন্তলকে নামানোর জন্য সাহায্য করতে। ওরাও তখন ২৫-৩০ ঘণ্টা সামিট পুশ করে ফিরেছে। ওদের পক্ষেও যাওয়াটা যে কত কঠিন ছিল…. তবু গেল। আমার অনুরোধে।

দেখুন, রুদ্রপ্রসাদ কী বলছেন।

আসলে বিপ্লবদা নামছে বলেই আমার বিশ্বাস ছিল। তখনও অবশ্য আমি জানি না, পর্বতারোহী নির্মল পুর্জা ও তাঁর দল প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন বিপ্লবদা আর কুন্তলকে নামানোর। সে পর্ব তো আমি তখন জানতেই পারিনি। পরে শুনেছি। শেরপা সর্দার পাসাং সম্ভবত ওটা জেনেই আমায় আশ্বস্ত করেছিল ক্যাম্প ফোরের আগে।

শেরপাদের পাঠিয়ে ক্যাম্পে অপেক্ষা করছিলাম আমি। কখন ঘুমিয়ে পড়ি, জানি না। রাতে শেরপারা ফিরল, এক জনকে নিয়ে। দড়ি দিয়ে বেঁধে, পা টেনে, প্রায় ঘষটে ঘষটে। আমি নিশ্চিত ছিলাম, এটা হয়তো কুন্তলের মৃতদেহ। কিন্তু এ তো রমেশদা! রমেশদা কোথায় আটকে ছিল! ও তো আমার আগে নেমেছে! হিসেব মেলাতে পারছিলাম না। বুধবার, রাত তখন দশটা-এগারোটা।

শেরপারা জানান, ওঁরা ওপরে পৌঁছে দেখেন কুন্তল আর বিপ্লবদা বেঁচে নেই। নির্মল পুর্জার দল চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। শেরপারা নামার পথে, প্রায় ক্যাম্পের কাছাকাছি খুঁজে পান রমেশদাকে, মৃতপ্রায় অবস্থায়। তার মানে রমেশদা আমার আগে নামলেও, জল আর অক্সিজেনের অভাবে শেষমেশ ক্যাম্পে ঢুকতে পারেনি! পথ হারিয়ে কোথাও গিয়ে পড়ে ছিল! রমেশদাও মারা গেছে! এ ভাবে!

কিন্তু মৃত্যু বোধ হয় তখনও কয়েক মিনিট বাকি ছিল। শেরপারাও জানান, “জিন্দা হ্যায়।” কিছু ক্ষণের মধ্যেই খবর পেয়ে অন্য তাঁবু থেকে পুণের একটি দলের সঙ্গে থাকা ডাক্তারবাবু চলে আসেন। বিপদকালীন ট্রিটমেন্ট শুরু হয় সঙ্গে সঙ্গে। ইঞ্জেকশন দেওয়া হল। আরও যা যা প্রয়োজন করা হল। বেঁচে গেল রমেশদা! মৃত্যুর সঙ্গে হাত মিলিয়ে বেঁচে গেল।

দেখে নিন রুদ্রপ্রসাদের আরও কিছু কথা।

পরের দিন, অর্থাৎ ১৬ তারিখ নতুন সকাল। নতুন, কিন্তু বিষাদে ছেয়ে থাকা। দুই বন্ধু চিরঘুমে রয়ে গিয়েছে তুষাররাজ্যে। নির্মল পুর্জার অতিমানবিক চেষ্টার কথাও জানতে পারি ওই দিনই। শেরপারাও জানান, সব চেষ্টা কী ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। কী ভাবে হাই অল্টিটিউড সিকনেস প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ওদের। আমাদের আর কী করার ছিল! কতটা লড়াই করতাম আর! রমেশদা মরেই গেছিল, আমিও মরেই যেতাম! চার জনেই মরে যেতাম আমরা!

ক্যাম্প টু নেমে এলাম ওই দিনই, আমি আর রমেশদা। সাহাবুদ্দিন আগেই নেমে গেছিল। সত্যি কথা বলতে, সামিট করার পর থেকে ওকে আর সে ভাবে দেখিনি আমরা। ও তুলনামূলক সুস্থ ছিল, দ্রুত নেমে যায়। ও-ও হয়তো জানত না, আমাদের সঙ্গে এমনটা ঘটে যাবে।

ওই দিন বার দুয়েক হেলিকপ্টার আসে, আমায় আর রমেশদাকে উদ্ধার করতে। কিন্তু এত খারাপ আবহাওয়া, নামতেই পারেননি উদ্ধারকারীরা। ১৭ তারিখ অর্থাৎ শুক্রবার ভোরে শেষমেশ হেলি-রেসকিউ হল আমাদের। সোজা এসে নামলাম কাঠমাণ্ডুর গ্রান্ডি হাসপাতালের ছাদে।

আমার আর রমেশদার আঙুল ফ্রস্ট বাইটে জখম। জানি না কতটা সময় লাগবে ঠিক হতে। কুন্তল আর বিপ্লবকে নামাতে উদ্ধারকারী দল গেছে, শুনেছি। এখনও জানি না ওরা কখন নামবে।

একসঙ্গে অভিযান শুরু করেছিলাম যখন, ভাবতেও পারিনি একসঙ্গে ফিরতে পারব না! বিপ্লবদা আর কুন্তল কাঞ্চনজঙ্ঘার কোলেই থেকে যাবে… ভাবতে পারিনি।

অনুলিখন: তিয়াষ মুখোপাধ্যায়

আরও পড়ুন…

https://www.four.suk.1wp.in/ramesh-and-rudraprasad-are-in-kathmandu-hospital-ramesh-and-kuntals-bodies-are-trying-to-be-brought-down/

You might also like