Latest News

জেনিভায় এবারই প্রথম সর্বজনীন পুজোর আয়োজন, মনে হচ্ছে যেন কলকাতায় আছি

উৎসরী দাস

২০১৮ সালে নির্মিত সিনেমা ‘উমা’ তে পরিচালক যেমন সুইস আল্পসের পটভূমিকায় বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর (Durga Puja) সংযোগ স্থাপন করেছিলেন, সেই প্রেক্ষিতে আমার কাছে এই ‘রিল টু রিয়েল’ অভিজ্ঞতা জীবন্ত আকারে প্রকাশিত হচ্ছে জেনিভার (Geneva Durga Puja) এই বছরের প্রথম সর্বজনীন দুর্গোৎসব- ‘ আগমনী”র মাধ্যমে।

Image - জেনিভায় এবারই প্রথম সর্বজনীন পুজোর আয়োজন, মনে হচ্ছে যেন কলকাতায় আছি

যে আমি পুজোর (Kolkata Puja) সময় কলকাতার বাইরে থাকার কথা ভাবতে পারি না, সেই আমি যখন গত বছর নিজের বাড়ি, শহর ও দেশ ছেড়ে এখানে পড়াশোনা করতে এলাম, চোখের জলে পুজোর কটা দিন ভীষণ কষ্টে কাটিয়েছিলাম। পরে যখন অভীক দা, সন্দীপন দা’র সাথে পরিচিত হলাম, শুরু থেকেই বায়না ধরলাম, জেনিভায় সর্বজনীন দুর্গাপুজো চাই- ই- চাই। দীর্ঘকালের জেনিভাবাসী অভীক দা’রও বহুদিনের ইচ্ছে- দু’জনে কুমোরটুলিতে বসে চা খেতে খেতে কীভাবে যেন পণ করে ফেলল যে এবছরই জেনেভায় দুর্গাপুজো করতে হবে।

এরপর, ফাস্ট ফরোয়ার্ড… মাত্র দুমাসের আয়োজন ও প্রচুর পরিশ্রমের সঙ্গে শুরু হল ‘আগমনী’র দুর্গাপূজার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন। আয়োজনে জেনিভাবাসী সমস্ত বাঙালি, অবাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়ে নিজেদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নিলেন স্বেচ্ছায়।

এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। শহরে ছেয়ে গেল খুশির উচ্ছ্বাস।

পুজো করবেন আগমনীর-ই সদস্য মৈনাক দা। প্রেক্ষাগৃহ, মণ্ডপসজ্জ্বা, খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থাপনা, নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদির মহড়া শুরু হয়ে গেল দারুন উদ্দীপনায়। আমার সকল দিদি – দাদা স্থানীয় সদস্যরাই নিজেদের কাজের মাঝে হাসিমুখে তুলে নিয়েছেন সবকিছুর ভার।

বিদেশের পুজো।

এই বছর মহালয়ার দিনটা রবিবার থাকাতে এখানে আমরা খানিকটা বাড়তি সুবিধা পেয়েছি। মানিক’দা ও দেবস্মিতা’দি’র বাড়িতে অনুষ্ঠান শুরু করেছি ‘জাগো স্পর্ধা, জাগো ইচ্ছে – জাগো জাগো উমা’ গান দিয়ে। তারপর ‘ওগো আমার আগমনী’ গানের সাথে নাচ পরিবেশনা করা হয়। আড্ডায়, গানে, আবৃত্তিতে… কৈশোর কালের দুর্গাপুজোর স্মৃতিচারণ ও করেন অনেকে।

দেবীপক্ষ আসার পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মহড়া যেন আরও তীব্র হল। প্রায় সকল সদস্যই স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি বা অফিস শেষে বহু রাত পর্যন্ত নৃত্য, গীতিনৃত্য, গানের অনুশীলনে নিজেদের মেলে ধরেছে। অনুষ্ঠানে ভাল করার আকাঙ্খার সঙ্গে ছিল আনন্দ করে পরিবেশনা করার আমেজ। মঞ্চসজ্জা, কারুশিল্প, ইত্যাদির সঙ্গে নাচ গানের মহড়া ও যেন এক উৎসব। প্রচলিত কথা- ‘দ্য জার্নি ইজ মোর বিউটিফুল দ্যান দ্য ডেস্টিনেশন’ যে বিশাল মাহাত্ম্যময়, সেটা বুঝলাম স্পষ্ট করে।

Image - জেনিভায় এবারই প্রথম সর্বজনীন পুজোর আয়োজন, মনে হচ্ছে যেন কলকাতায় আছি
পুজোর ব্যস্ততা।

বিশেষ করে উল্লেখ্য, পৌলমী দি’র তত্ত্বাবধানে আমরা যে নবদূর্গা নামে নৃত্য ও গীতের সমাহারে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করছি, যেখানে দেশের পূর্ব – পশ্চিম – উত্তর – দক্ষিণ সমস্ত অঞ্চলের মহিলারা অংশগ্রহণ করছেন।

নবদুর্গা উপস্থাপনার মূল লক্ষ্য নারী শক্তিকে ব্যঞ্জনাময় করে নারী স্বাধীনতা, সমতা ও সার্বিক সাম্যতাকে প্রতিষ্ঠিত করার ভাবনা।

এছাড়াও থাকবে নানান অনুষ্ঠান, যেমন ছোটদের এবং বড়দের নাচ ও গান, গার্লস ব্যান্ড, বয়েজ ব্যান্ড, স্তোত্র পাঠ ইত্যাদি। শারদীয়ার এই স্পিরিটে জোরকদমে হৈ হৈ করে চলছে প্রস্তুতি- কোনও সদস্য সঞ্চালনার ভার নিচ্ছেন, কেউ কুমোরটুলি থেকে কাস্টমস পেরিয়ে ঠাকুর আনার দায়িত্ব নিয়েছেন, অথবা কেউ পুজোর দিনগুলোয় ‘কিডস কর্নার’ উপস্থাপনা করছেন।

পুজোয় বড় উপহার, ইস্টবেঙ্গলের আগে সরল ইমামি! আইএসএলে খেলবে ‘ইস্টবেঙ্গল এফসি’

এই মহোৎসবে শুধু পশ্চিমবঙ্গ বা ভারতের বাঙালি ও অবাঙালি নয়, বাংলাদেশের ও মানুষ সামিল হয়েছেন পূর্ণোদ্যমে। এছাড়া আমার ইউনিভার্সিটির ইউরোপীয় বন্ধুরাও তৈরি এবং মুখিয়ে আছে সর্বজনের উৎসবের এই আনন্দ যজ্ঞে সামিল হতে।

আগমনীর সাহচর্যে এই বিদেশ বিভূঁইয়ে বাংলা ভাষায় কথা বলে, গান করে, আমি যেন আমার হাই স্কুল ও কলেজ জীবন ফিরে পেলাম। জেনিভা এখন জোর কদমে মাতৃ আরাধনা উৎসবে মেতে উঠেছে আগমনীর হাত ধরে। সকলকে শারদ শুভেচ্ছা।

লেখক অর্থনীতির গবেষক, ডিপার্টমেন্ট অফ ইকোনমিকস, ইউনিভার্সিটি অফ জেনিভা

You might also like