Latest News

‘…মেয়রের চেয়ার ছেড়ে দেব’, পুরসভার কাজ নিয়ে ক্ষুব্ধ ববি হাকিম

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোজা কথা, সোজা ভাবে, সবার সামনে। ‘চেয়ারে যদি থাকি তাহলে কাজ করব। আর যদি কাজই না করতে পারি তাহলে মেয়রের চেয়ার ছেড়ে দেব’। টক টু মেয়র অনুষ্ঠানে এক নাগরিকের অভিযোগ পেয়ে এই ভাষাতেই ক্ষোভ প্রকাশ করলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

এদিন উত্তর কলকাতার বাসিন্দা দিব্যেন্দু দত্ত ফোন করেছিলেন টক টু মেয়রে। তারপর মেয়র তাঁর সমস্যা জানতে চাইলে তিনি জানান, এর আগেও তিনি দু’বার তাঁকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি।

কী বক্তব্য ৫১এ বিটি রোডের গণপতি অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দা দিব্যেন্দুবাবুর? তিনি মেয়রকে জানান, সাউথ সিঁথি রোড থেকে রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় বরাবর নিকাশি নালা আটকে রয়েছে। ফলে তাঁদের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে জল বেরোচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, এমনই পরিস্থিতি যে মশা-মাছির উপদ্রবে টিকতে পারছেন না তাঁরা।

শুরুতে মেয়র নির্দেশ দেন আধিকারিকদের। ফিরহাদকে লাইভ অনুষ্ঠানে বলতে শোনা যায়, “পিকে দুয়া সাহেব, বরো ওয়ান কী করছে? এটা ছোটখাটো ব্যাপার! বরো দেখে নেবে তারপর সে জানাবে এস অ্যান্ড ডি-কে (সোয়ারেজ অ্যান্ড  ড্রেনেজ ডিপার্টমেন্ট)।”

আধিকারিক পিকে দুয়ার উদ্দেশে মেয়র আরও বলেন, “আপনি গোটা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করান, তারপর আমাকে রিপোর্ট দিন। সব জায়গায় বলছে পলি তোলার কাজ হচ্ছে, কিন্তু কোথাও কিছু হচ্ছে না।”

তখনও বোঝা যায়নি এতটা ক্ষিপ্ত হবেন মেয়র। তাঁর পাশে ল্যাপটপ খুলে যে অফিসার বসেছিলেন তাঁর উদ্দেশে মেয়র বলেন, “তুমি একা করতে পারবে না। একটা ডিপার্টমেন্ট করো। আমাকে ফোন করার পরেও কর্পোরেশনের কাজ হল না, এটা আমার জন্য খুবই অসম্মানজনক। পদে থাকলে কাজ করব, আর যদি না করতে পারি তাহলে চেয়ার ছেড়ে দেব!”

এরপরেও ওই আধিকারিক কী যেন বলছিলেন। তাতেই মেয়রের মেজাজ আরও সপ্তমে চড়ে যায়। তিনি বলেন, “তুমি এইরকম ভাবে ক্যাজুয়ালি বিষয়টাকে নিতে পারো না। তুমি একজন মেয়রের সঙ্গে কথা বলছ। কাজ করতে হবে এবং রেগুলার চেক করতে হবে। সোয়ারেজ অ্যান্ড ড্রেনেজ না করলে তার ডিজিকে পাল্টে দিতে হবে।” এরপর দিব্যেন্দুকে ফিরহাদ জানান, সোম-মঙ্গলবারের মধ্যে তিনি বিষয়টি দেখে নিচ্ছেন।

এর আগের মেয়াদেই ‘টক টু মেয়র’ শুরু করেছিলেন ববি হাকিম। পুরপ্রশাসক থাকার সময়েও অন্য নামে চলত সরাসরি অভিযোগ জানানোর এই পরিষেবা। অনেকে বলেন, এই মডেল দেখেই দিদিকে বলো চালু হয়েছিল। অতীতেও বহু সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান হয়েছে এই ভাবে ফোনে জানিয়ে। আবার বেশ কিছুক্ষেত্রে মেয়র জানিয়েছে, সমস্যা সমাধানে কিছুটা সময় লাগতে পারে। কিন্তু যে কাজ এখনই করে দেওয়া যায় তা তিনি নির্দেশ দেওয়ার পরেও কেন হয়নি তা নিয়েই এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করেন ফিরহাদ। অনেকের মতে, এটা একটি নির্দিষ্ট কোনও আধিকারিক বা বিভাগকে নয়, গোটা পুরপ্রশাসনকেই বার্তা দিতে চাইলেন ববি। ডু ইট নাও।

You might also like