Latest News

শনিবার শুভেন্দুর পাড়ায় অভিষেক আর অভিষেকের গড়ে শুভেন্দু, লড়াই সেয়ানে সেয়ানে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটা কথা উনিশের লোকসভা ভোটের আগে থেকে বলা শুরু করেছিলেন। তা হল—ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নেব। শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠশালাতেই পড়েছেন। এখন সাবালক। শনিবার তাঁর বাড়ির কাছেই কাঁথিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন জনসভার ডাক দিয়েছেন, তখন শুভেন্দুও পাল্টা ডায়মন্ড হারবারে ঢুকতে চাইলেন।

কাঁথিতে একুশের বিধানসভা ভোটের আগে সভা করেছিলেন অভিষেক (Avhishek Banerjee)। অধিকারীদের দুর্গ বলে পরিচিত হলেও অভিষেকের সেই সভায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতই। তারই ধারাবাহিকতা রেখে পঞ্চায়েত ভোটের আগে এবার কাঁথিতে সভা করার কথা ঘোষণা করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু অভিষেক তা ঘোষণা করতেই শুভেন্দু আদালতের দ্বারস্থ হন। শুভেন্দুর অভিযোগ, তাঁর বয়স্ক বাবা-মাকে উত্যক্ত করতেই কাঁথিতে সভা ডেকেছেন অভিষেক। শুভেন্দুর সেই অভিযোগ আদালতে টেকেনি। এই অবস্থায় ডায়মন্ড হারবারে পাল্টা সভার তোড়জোড় শুরু করেন তিনি। কিন্তু তাতে স্থানীয় প্রশাসন বাধা দেয়। এর পর শুক্রবার এ ব্যাপারে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে অনুমতি আদায় করেছেন বিরোধী দলনেতা। শনিবার ডায়মন্ড হারবার লাইট হাউজ মাঠে তাঁর সভা হওয়ার কথা।

তবে পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, ব্যাপারটা শুধু ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়াই নয়। অভিষেকের কৌশল অন্য। তা হল শুভেন্দুকে মেদিনীপুরে অনেকটা বেঁধে রাখতে চাইছে তৃণমূল। ইতিমধ্যে কুণাল ঘোষকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পর্যবেক্ষক করে পাঠানো হয়েছে। প্রায় নিয়মিত পূর্ব মেদিনীপুরে নানান কর্মসূচি নিচ্ছে তৃণমূল। তৃণমূল ঘরোয়া মহলে দাবি করছে, এর ফলে শুভেন্দুকে আগের তুলনায় বেশি সময় দিতে হচ্ছে মেদিনীপুরে। সপ্তাহে অন্তত চারদিন নন্দীগ্রামে যেতে হচ্ছে। কাঁথিতে সভা করার মধ্যে সেই এক কৌশলই রয়েছে।

পুরসভা ভোটেও নিজের জেলায় ভাল ফল করে দেখাতে পারেননি শুভেন্দু তথা অধিকারীরা। কাঁথিতে শুভেন্দুদের ওয়ার্ডেই পরাস্ত হয়েছে বিজেপি। এ ব্যাপারে শাসক দলের বিরুদ্ধে রিগিংয়ের অভিযোগ তুলেছেন দিব্যেন্দু অধিকারীরা। তবে পর্যবেক্ষকদের অনেকের বক্তব্য, গত প্রায় ত্রিশ বছর ধরে কাঁথিতে কোনও না কোনও ভাবে ক্ষমতায় রয়েছেন অধিকারীরা। তার পরেও নিজেদের ওয়ার্ডে জিততে না পারাটা কাজের কথা নয়। বাম শাসনে এই বাংলাতেই কিছু নেতা তাঁদের পুরসভা বা ওয়ার্ড ভোটের পর ভোট, বছরের পর বছর ধরে রাখতেন। তখন বামেদের দাপট কিন্তু কম ছিল না। পুলিশ প্রশাসনেরই বা ভূমিকা কী ছিল তা বহু মানুষের মনে রয়েছে।

সিভিক ভলান্টিয়ারকে পিষে মারল লরি! সাঁতরাগাছি যানজটের জেরে মর্মান্তিক কাণ্ড বম্বে রোডে

You might also like