Latest News

শর্বরী দত্তের মৃত্যুতে নানা অসঙ্গতি, অভিযোগ! তদন্তের আর্জি নিয়ে লালবাজারে পরিবার-বন্ধুরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শৌচাগারে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ফ্যাশন ডিজাইনার শর্বরী দত্তর দেহ। ময়নাতদন্তে জানা যায়, এক-দু ঘণ্টা নয়, ৩৬টি ঘণ্টা মৃত অবস্থায় সেখানেই পড়েছিলেন তিনি। মৃতদেহের পাশে রক্তের চিহ্ন মেলে। মেলে আঘাতের চিহ্নও। মৃত্যুর কারণ হৃদরোগ হলেও, প্রশ্ন অনেক। কেন এতক্ষণ দেহ পড়ে থাকা সত্ত্বেও বাড়ির কেউ টের পেলেন না? হৃদরোগে মৃত্যু হলে শরীরে কেন আঘাতের চিহ্ন?

এই সমস্ত প্রশ্ন এবং অভিযোগ নিয়েই এবার যথাযথ তদন্তের দাবিতে লালবাজারের দ্বারস্থ হলেন শর্বরী দত্তর আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরা। শুক্রবার বিকেলে শর্বরী দত্তর মৃত্যুরহস্য নিয়ে আলোচনা করতে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) সন্তোষ পাণ্ডের সঙ্গে দেখা করেন শিশু সুরক্ষা অধিকার কমিশনের অধ্যক্ষ অনন্যা চক্রবর্তী, পরিচালক সুদেষ্ণা রায়, শর্বরীর ভাসুর জ্যোতির্ময় দত্ত, জা মীনাক্ষী দত্ত, বন্ধু সংযুক্তা এবং ভাগ্নী রাজলক্ষ্মী।

শর্বরীর পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানিয়েছেন, শর্বরী দত্ত খুন হয়ে যাওয়ার ভয় পেতেন। সে ভয় প্রকাশও করেছেন বহুবার। এমন মন্তব্যও করেছেন, “আমি যতদিন রোজগার করব ততদিন আমায় বাঁচিয়ে রাখবে, কিন্তু তার পরে মেরে দেবে।” ‘ওরা’ বলতে শর্বরী নিজের ছেলে অমলিন ও বৌমা কনকলতার কথা বোঝাতেন। পরিবারের দাবি, এই কথার সঙ্গে শর্বরীর মৃত্যুর কোনও যোগ আছে কিনা, বা এই মৃত্যুতে ছেলে-বৌমার হাত আছে কিনা তা যেত খতিয়ে দেখে পুলিশ।

অমলিন বা কনকলতা অবশ্য প্রথম থেকেই দাবি করে এসেছেন, তাঁরা কিছুই জানেন না। কিন্তু এই কিছু না জানাও অনেকের চোখেই অস্বাভাবিক লেগেছে। একই বাড়ির মধ্যে মা পড়ে গিয়ে মারা গিয়েছেন আগের দিন, কোনও খোঁজই নেননি তাঁরা, এটা নিয়ে রীতিমতো প্রশ্ন ওঠে।

আজ লালবাজারে এই প্রশ্ন ফের তুলে শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তী দাবি করেন, মা ও ছেলের সম্পর্ক বিশেষ ভাল ছিল না। বৈষয়িক দ্বন্দ্ব ছিল বহু দিনের। মামলাও চলছিল। এই বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য শর্বরী দত্তের প্রতিবেশী, নাতি-নাতনিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনি পুলিশকে অনুরোধ করেছেন আজ।

পুলিশকে আরও একটি জরুরি কথা জানিয়েছেন শর্বরী দত্তের বন্ধু সংযুক্তা। বীরভূমের আমোদপুরে শর্বরীর পারিবারিক সম্পত্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কয়েক দিন আগে ছেলে-বৌমাকে নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন শর্বরী। সেখান থেকে এসেই ছেলে খারাপ ব্যবহার আরম্ভ করেছে বলে জানিয়েছিলেন শর্বরী। আর তার কিছু দিনের মধ্যেই শর্বরীর মৃত্যু হয়। সম্পত্তি আর মৃত্যুর মধ্যে কি যোগসূত্র থাকার সম্ভাবনা উল্লেখ করে পুলিশকে তদন্ত করে দেখতে অনুরোধ করেন তিনি।

এর পাশাপাশি শর্বরীর ভাগ্নী রাজলক্ষী সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন মানসিক নির্যাতনের। শর্বরীর ছেলে তাঁকে গাড়ি ব্যবহার করতে দিতেন না। এমনকি খেতেও দিতেন না। এ কথার সপক্ষে পুলিশকে আরও একটি তথ্য জানান পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কমিশনের অধ্যক্ষ লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, শর্বরীর পুত্রবধূ তাঁর কাছে এসে একবার এমন কিছু কথা বলেছিলেন, যাতে স্পষ্ট হয় তাঁর ও শর্বরীর সম্পর্ক মোটেই ভাল ছিল না।

সকলের কথা শোনার পরে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার জানান, তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। মৃত্যুর তদন্ত যাতে যথাযথ হয় সে দিকে নজর রাখবেন। অবশ্য প্রাথমিক তদন্তে এখনও কোনও অসঙ্গতি মেলেনি বলেই জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশি জেরায় শর্বরী দত্তর ছেলে অমলিনও দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক লকডাউনে তাঁদের সম্পর্ক ভাল হয়ে গেছিল। কোনও বিবাদ ছিল না। তাঁরা যে ভাল ছিলেন, আনন্দে ছিলেন, সেবিষয়ে ‘প্রমাণ’ও আছে বলে দাবি করেন তিনি।

এখন আজকের এই যূথবদ্ধ অভিযোগ ও আবেদনের পরে শর্বরী দত্তের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে কি নড়ে বসবে পুলিশ? সামনে আসতে পারে কি, নতুন কোনও তথ্য? সময়ই তার উত্তর দিতে পারে।

You might also like