Latest News

সরকারের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করা মানেই দেশদ্রোহ নয়, ফারুক আবদুল্লার বিরুদ্ধে মামলায় মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : সুপ্রিম কোর্টে জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা করেছিলেন দুই ব্যক্তি। অভিযোগ, কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা ফিরিয়ে আনার জন্য ফারুক চিন ও পাকিস্তানের সাহায্য চেয়েছিলেন। বুধবার সেই মামলা খারিজ করে শীর্ষ আদালত বলল, কেউ সরকারের সঙ্গে একমত না হলেই তাকে দেশদ্রোহী বলা যায় না। যাঁরা ফারুকের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন, তাঁদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট এদিন বলে, আবেদনকারীরা ফারুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেননি।

আবেদনকারীদের নাম রজত শর্মা ও নেহ শ্রীবাস্তব। তাঁদের বক্তব্য ছিল, ফারুক জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপের বিরোধিতা করেছেন। তিনি দেশদ্রোহী। তাঁর সাংসদ পদটি কেড়ে নেওয়া উচিত। আবেদনপত্রে লেখা হয়েছিল, “ভারতে দেশবিরোধী কার্যকলাপ করতে অনুমতি দেওয়া ঠিক নয়। কারণ তাতে দেশের ঐক্য নষ্ট হয়।”

২০১৯ সালের ৫ অগস্ট সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপ করা হয়। প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল তার আগে থেকেই। ওই দিন যে কিছু একটা ঘটতে চলেছে তা কাশ্মীরে বিভিন্ন নিরাপত্তা রক্ষী সংস্থার কর্তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল ১১ দিন আগে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে তাঁদের বলা হয়েছিল, যে কোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সংবিধানের ৩৭০ ধারা রদ করা হবে। সেইমতো যে কোনও অশান্তি ঠেকানোর জন্য শুরু হয়েছিল প্রস্তুতি। রাজ্য জুড়ে যেমন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পরে কেউ দেখেনি।

প্রথমেই কাশ্মীর উপত্যকায় বাড়তি আধা সেনা মোতায়েন করা শুরু হয়। সিআরপিএফের ৪৩ টি কোম্পানি অর্থাৎ ৪৩ হাজার আধা সেনা কাশ্মীরের নানা জায়গায় গোলমাল ঠেকাতে তৈরি ছিল। সি-১৭ হেলিকপ্টারে তাদের কাশ্মীরে উড়িয়ে আনা হয়েছিল। উপত্যকা জুড়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ইন্টারনেট পরিষেবা। বন্ধ হয়েছিল যোগাযোগ ব্যবস্থাও। কোথাও দাঙ্গা-হাঙ্গামা হলে যাতে সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, সেজন্য ৬০ জন স্পেশ্যাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়োগ করা হয়েছিল। তাঁদের বলা হচ্ছিল ‘মোবাইল ম্যাজিস্ট্রেট’।

গতবছর ৩৭০ ধারা বিলোপের বর্ষপূর্তিতে চিন মন্তব্য করে, ভারত বেআইনি কাজ করেছে। চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলেন, একতরফা ভাবে জম্মু কাশ্মীর এবং লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা অবৈধ। ওয়াং ওয়েনবিন এমনটাও বলেন যে, ভারত এবং পাকিস্তান যেহেতু প্রতিবেশী রাষ্ট্র তাই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান মাধ্যমেই দু’ দেশের স্বার্থরক্ষা সম্ভব।

এর জবাবে এদিন ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব এক বিবৃতিতে বলেন, ভারতের দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ সম্পর্কে চিনের বিদেশমন্ত্রক যে মন্তব্য করেছে তা তাদের অধিকারের মধ্যে পড়ে না। একই সঙ্গে তিনি চিনকে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য না করার জন্য পরমর্শ দেন।

You might also like