Latest News

‘এত দিনের জমে থাকা গল্প করে প্রাণ ফিরল, তবে জাতীয় সঙ্গীতটা মিস করেছি’

অরিত্রি চন্দ

অনলাইন থেকে অফলাইনে ফেরা, স্কুলের বেঞ্চে বসে ক্লাস করার অনুভূতি ভাষায় বোঝানো সম্ভব নয় (experience)। করোনার জন্য সব থমকে গেলেও পড়াশোনা চলেছে আমাদের। কিন্তু একে অপরের সঙ্গে বসে ক্লাস করাটা অদূরেই থেকে গিয়েছিল। সেটা ফিরে পেয়ে খুব ভাল একটা অনুভুতি হচ্ছে।

দীর্ঘ ২০ মাস বন্ধ ছিল স্কুল। মাঝে একবার স্কুল খুলেছিল ঠিকই কিন্তু এমন আনন্দ আগে হয়নি। আমি দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী, তাই আমার কাছে স্কুল জীবনটা প্রায় শেষ লগ্নে এসে দাঁড়িয়েছে। হাতে বাকি ক’টা দিন মাত্র, সেই সময়টা স্কুলের পরিবেশে থাকতে চাই।

আজ আমরা যাঁরা এসেছিলাম, বন্ধুবান্ধব থেকে শিক্ষিকা– সকলের সঙ্গেই অনলাইনে দেখা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সামনে থেকে দেখা হওয়ার সুযোগ না থাকায় আপশোস ছিল মনে মধ্যে। সেই আপশোস অনেকটাই মিটেছে আজ স্কুলে গিয়ে।

তবে এত কিছুর মধ্যেও কোথাও গিয়ে স্কুলের পরিবেশে আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করলাম। অদ্ভুত অনুভূতি হল স্কুলে গিয়ে। দুরত্ব বিধি মানা ছিল বাধ্যতামূলক, তার ফলে কাছে থেকেও নিজেদের মধ্যে এক অদৃশ্য রেখা তৈরি করে দিয়েছিল আমাদের মধ্যে, যা টপকালেই বিপদ নেমে আসবে, চারিদিকে যেন এমনই ধ্বনি বাজছে, যা শুধু মনের কানে শোনা যায়।

যাই হোক, ফিরে আসি স্কুলের প্রথম দিনের কথায়। স্কুলে যখন পৌঁছাই বহু পুরোনো মুখ জেগে ওঠে চোখের সামনে। যেমন স্কুলের সুমিত কাকুকে বহুদিন পর দেখে খুব আনন্দ হল। ক্লাস ফাইভ থেকেই আমি এই স্কুলে পড়ি, তখন থেকেই কাকুকে দেখছি। তাঁর দৃষ্টি এড়িয়ে কিছু করা সম্ভব হত না কখনও, যেমন ভুল করলে বকেন, আবার মেটান অনেক আবদারও। সেই সুমিত কাকুকে অনেকদিন পর গেটে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভাল লাগল। নিজেই ডেকে কথা বললেন, প্ৰথমে ভেবেছিলাম চিনতে পারবে তো আমায়! কিন্তু না তাঁর স্মরণে এখনও থেকে গেছি আমি বা আমার মত স্কুলের বহু মেয়ে, যা দেখে মন ভাল হয়ে গেল।

রাজকুমারের বাঙালি বধূ, তাঁর ওড়না জুড়ে বাংলায় কী লেখা ছিল জানেন

মায়ের সঙ্গেই স্কুলে পৌঁছই আজ। লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে আড়ষ্টতা ছিল একটু। লাইন এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সেই আড়ষ্টতাটা আরও বাড়ছিল, তবে স্কুলের গেট পেরোতেই চেনা মুখ দেখে নিমেষে হারিয়ে গেল সেসব। থার্মাল গানে চেক করার পরে হাতে পেন নিয়ে ক্লাস রুমে যাই। এমন অভিজ্ঞতার সঙ্গে প্রথম পরিচয় ঘটল।

পাশাপাশি বসার ব্যবস্থা ছিল না তাই এক বেঞ্চে বসেও দূরত্ব ছিল নিজেদের মধ্যে। নিজেদের মধ্যে অনেক জমে থাকা গল্প বেরিয়ে এল। প্রাণ ফিরল যেন। তারপরই কানে বাজল স্কুল শুরুর ঘন্টা। যা অনলাইন ক্লাসে পুরোটাই হারিয়ে গিয়েছিল। ক্লাস শুরু, রোল কল, টিচারদের সঙ্গে সামনা সামনি কথা বলা, জমে থাকা ডাউট হাতে কলমে বুঝে নেওয়া, সব নিয়ে প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা স্মরণীয় হয়ে থাকবে সারাজীবন। যদিও এত বছর স্কুলে পড়াশোনা করেছি তাও আজ যেন সেই প্রথম দিনের অনুভূতি ফেরত এল।

তবে এত কিছুর মধ্যেও করোনার জন্য হারিয়েছি অনেক কিছু। স্কুলের হুল্লোড় কোথাও যেন থেকেও নেই। করোনার কারণে জাতীয় সঙ্গীত হয়নি স্কুলে, মিস করেছি খুব। একসঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার অনুভূতিটা এখনও অধরা। স্কুলের মধ্যে থেকে স্বাধীনভাবে ঘোরাফেরার মধ্যেও ছিল নিষেধের বেড়াজাল। সবমিলিয়ে মিশ্র অনুভূতি মনে চেপে বাড়ি ফেরা। এটাই ভাল লাগছে আবার কাল স্কুল যাব! মোবাইলে নয়, ক্লাসে বসে পড়ব।

(বাগবাজার মাল্টিপারপস বালিকা বিদ্যালয়, ছাত্রী)

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা সুখপাঠ

You might also like