Latest News

দেশজুড়ে অর্থ-কেলেঙ্কারির যম ‘ইডি’! জন্ম ১৯৫৬ সালে, কী তার কাজ, কোন বলেই বা এত শক্তিশালী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্প্রতি গোটা রাজ্যে দুর্নীতি, গ্রেফতারি ও কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা উদ্ধার নিয়ে যে তোলপাড় ঘনিয়েছে, তার নেপথ্যে জ্বলজ্বল করছে সে সংস্থার নাম, তা হল ইডি বা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট (Enforcement Directorate)। শুধু এই ঘটনাই নয়। বিগত বহুদিন ধরেই দেশের যে কোনও প্রান্তের দুর্নীতি হোক বা আর্থিক কেলেঙ্কারি– এই ধরনের অপরাধগুলির কড়া তদন্ত করছে এই ইডি। ন্যাশনাল হেরল্ড থেকে শুরু করে দেশজুড়ে জেগে ওঠা একাধিক আর্থিক কেলেঙ্কারি মামলার তদন্ত করছে সংস্থাটি।

এই সংস্থার (Enforcement Directorate) বিশেষত্ব কী?

কিছু বিশেষ ক্ষমতার বলেই কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থাটি এত উচ্চপর্যায়ে সক্রিয়। এমনকি সিবিআইয়ে হাতেও যে ক্ষমতা নেই, রাজ্য পুলিশের হাতে তো নেই-ই, তাই কাজে লাগাতে পারে এই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট বা ইডি। যেমন, প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্টের আওতায় যে কোনও মামসায় ইডির তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে যদি অভিযুক্তর বয়ান রেকর্ড হয়ে থাকে, তবে সেটিই আদালতে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ধার্য হবে। সিবিআই বা রাজ্য পুলিশের ক্ষেত্রে এমনটা স্বীকৃত নয়।

শুধু তাই নয়, ইডি যদি ওই আইনে অভিযোগ দায়ের করে, তবে তা কোনও ক্ষেত্রেই জামিনযোগ্য নয়।

Know how Enforcement Directorate works and why it is every Indian's duty to  support it

ইডি-র হেফাজতে সাধারণ মানুষ হোন বা উচ্চপর্যায়ের কোনও কর্তাব্যক্তি– সকলেই সমান। তাদের নিজস্ব কোনও লকআপ বা জেল নেই। নেই ভিআইপি অভিযুক্তদের জন্য বিশেষ কোনও সেলের ব্যবস্থাও।

এই সমস্ত ক্ষমতাবলেই একের পর এক বেআইনি অর্থসংক্রান্ত মামলায় দেশজুড়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে ইডি। এদের তদন্তে একের পর এক নাম জড়িয়েছে বিভিন্ন হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রীর। কিন্তু কখনওই তাতে তদন্ত প্রভাবিত হওয়ার কথা শোনা যায়নি। সব মিলিয়ে, কেন্দ্রীয় এই সংস্থাটিকে ভয় পান না, এমন কেউ বোধহয় এ দেশে নেই।

কবে, কেন তৈরি হয় এই সংস্থা (Enforcement Directorate)?

১৯৫৬ সালের ১ মে গঠন করা হয়েছিল সংস্থাটি। তখন অবশ্য এর নাম ছিল ‘এনফোর্সমেন্ট ইউনিট’। বেআইনি অর্থ লেনদেনের ও অর্থপাচারের সঙ্গে যুক্ত অপরাধগুলির তদন্তের জন্যই, অর্থ মন্ত্রকের উদ্যোগে তৈরি হয়েছিল ওই বিশেষ শাখা। বস্তুত, ১৯৪৭ সালের ‘ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট’-এর অপব্যবহার আটকানোর প্রয়োজন তখন খুব বেশি ছিল।

এর পরে ১৯৫৭ সালে সংস্থার নাম বদলে রাখা হয়, ‘এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট’। তৎকালীন আয়কর দফতরের প্রাক্তন প্রধান সঞ্জয় কুমার মিশ্র সংস্থার প্রধানের দায়িত্ব পান। প্রাথমিক ভাবে দিল্লিতে একটি সদর দফতর এবং কলকাতা ও তৎকালীন বম্বেতে আরও দু’টি দফতর খোলা হয়েছিল ইডির। ১৯৫৭ সালে তৎকালীন মাদ্রাজে আরও একটি শাখা খোলে ইডি।

ED Issues Over Rs 61 Crore FEMA Penalty Notice Against Amnesty India,  Ex-CEO Aakar Patel

এর পর গোটা দেশ জুড়ে ক্রমশ শাখা ছড়িয়েছে ‘এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট’। এখন পুণে, বেঙ্গালুরু, চণ্ডীগড়, চেন্নাই, কোচি, পানাজি, গুয়াহাটি– ইত্যাদি বহু শহরেই রয়েছে ইডির আঞ্চলিক অফিস। মোট ৩৯টি জোনে ভাগ হয়ে কাজ করছে সংস্থাটি।

ইডি-র বিবর্তন ও কাজ

১৯৫৬ সালে তৈরি হওয়ার পর থেকে দেশের আইনব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলেছে সংস্থাটির গতিপ্রকৃতিও। ১৯৬০ সালে ইডির নিয়ন্ত্রণ চলে যায় অর্থ মন্ত্রক থেকে রেভিনিউ ডিপার্টমেন্টের হাতে। এর পরে ২০০০ সালে ফরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট কার্যকর হবে আরও অনেকখানি দায়িত্ব বেড়ে যায় ইডি সংস্থার।

আপাতত ইডি যে চারটি আইনে কাজ করে সেগুলি হল, ‘দ্য প্রিভেনশন অব মানি লনডারিং অ্যাক্ট, ২০০২’, ‘দ্য ফরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট, ১৯৯৯’, ‘দ্য ফিউজিটিভ ইকোনমিক অফেন্ডারস অ্যাক্ট, ২০১৮’, এবং ‘কনজারভেশন অব ফরেন এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড প্রিভেনশন অব স্মাগলিং অ্যাকটিভিটিস অ্যাক্ট, ১৯৭৪’।

Enforcement Directorate (ED) History, Objectives, Role in cracking Economic  Crimes

প্রিভেনশন অব মানি লনডারিং অ্যাক্ট অনুসারে, যে কোনও বেআইনি অর্থনেতিক লেনদেন ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ, এবং সেক্ষেত্রে অভিযুক্তর সম্পত্তি আটক করার ক্ষমতা রয়েছে ইডির হাতে।

ফরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট প্রয়োগ করা হয় বিদেশে টাকা পাচার সংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রে। ওই আইনের লঙ্ঘনকারীদের মামলার তদন্তভারও যায় ইডির হাতে।

ভারতে বেআইনি অর্থকেলেঙ্কারিতে অভিযুক্তরা যখন আইন ফাঁকি দিতে অন্য দেশে গিয়ে আশ্রয় নেয়, ফিউজিটিভ ইকোনমিক অফেন্ডারস অ্যাক্টে তাঁদের এ দেশের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারে ইডি।

কনজারভেশন অব ফরেন এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড প্রিভেনশন অব স্মাগলিং অ্যাকটিভিটিস অ্যাক্টে বিদেশে অর্থপাচারে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পদক্ষেপ করতে পারে ইডি।

সুপ্রিম কোর্টের সিলমোহর

সম্প্রতি ইডির ক্ষমতা নিয়ে মামলা দায়ের হলে, ইডি-র ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রেই সিলমোহর দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের তরফে বলা হয়েছে, যে কোনও অর্থ-সংক্রান্ত মামলায় গ্রেফতার, তল্লাশি এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার অবাধ অনুমতি রয়েছে ইডির। ইডির দায়ের করা অভিযোগপত্রের কপিও অভিযুক্তের হাতে দিতে বাধ্য নয় তদন্তকারী সংস্থা। তবে ইচ্ছেমতো যে কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না, সে-নির্দেশও দিয়েছে শীর্ষ আদালত। সব মিলিয়ে ইডি-র হাত আরও শক্ত হয়েছে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের রায়ে।

বাংলা ছবিতে অভিনয় করে কত পারিশ্রমিক পেতেন অর্পিতা? জেনে নিন

You might also like