Latest News

হাইকোর্টে ধাক্কা খেয়ে কেরলে তিনদিনের জেলা সম্মেলন একদিনেই গুটিয়ে ফেলল সিপিএম

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরল হাইকোর্টে (kerala high court) বড় ধাক্কা খেয়ে তিনদিনের কাসারগোড় (kasaragod)  জেলা সম্মেলন প্রথম দিনেই গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হল সিপিএম (cpm)। কোভিড প্রোটোকল (covid protocol)ভেঙে সম্মেলন আয়োজনে অনড় থাকায় কেরল সিপিএমের তীব্র সমালোচনা করে হাইকোর্ট। তিরস্কারের মুখে শনিবার পার্টি নেতৃত্ব (leadership) জানিয়ে দেয়, সম্মেলন একদিনেই শেষ হচ্ছে। কাসারগোড়ের মাদিকাই গ্রাম পঞ্চায়েতের আম্বালাথুমকারায় সম্মেলনে লাল পতাকা উত্তোলনের সময় প্রায় ৪০০ প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। হাইকোর্ট জেলা কালেক্টরকে স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, জেলায় এক সপ্তাহে ৫০ জনের বেশি হাজির থাকে, এমন কোনও সভা-সমাবেশ করা যাবে না। সিপিএম ঠিক করেছিল, যেভাবেই হোক, কাসারগোড়ে সম্মেলন হবেই।

কেরলে লাগামছাড়া করোনা সংক্রমণের মধ্যে সিপিএমের সম্মেলনের বিরোধিতা করে জনস্বার্থ পিটিশন পেশ হয়। তার ওপরই হাইকোর্ট তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। কেরলের বাম ও গণতান্ত্রিক সরকার রাজ্যব্যাপী সব ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে হাজিরার সংখ্যা বেঁধে দিয়ে হাজারো বিধিনিষেধ জারি করলেও  জেলায় জেলায় সিপিএমের পার্টি সম্মেলনের ক্ষেত্রে ছাড় দেয়, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ছড়ায়। শুক্রবার হাইকোর্ট রিট পিটিশনের শুনানিতে ১৫ মিনিটের মধ্যে জানিয়ে দেয়, আগামী ১০ দিন এধরনের কোনও সম্মেলন করা যাবে না। প্রায় একই সময়ে মাদিকাইয়ে পার্টিনেতারা জানান, তিনদিনের সম্মেলন দুদিনে শেষ করা হবে। রবিবারের অনুষ্ঠান বাতিল ঘোষণা করেন তাঁরা। কিন্তু সন্ধ্যায় মিডিয়াকে  জানিয়ে দেন, শনিবার পর্যন্ত এগচ্ছে না, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টাতেই গুটিয়ে ফেলা হচ্ছে সম্মেলন। বিরোধী রাজনৈতিক শিবির থেকে সিপিএমের সম্মেলন করার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা হচ্ছিল।

হাইকোর্ট প্রশ্ন করে, কোভিড  প্রোটোকল কি রাজনৈতিক দলগুলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। জেলা কালেক্টরকেও কড়া নির্দেশ দিয়ে সুনিশ্চিত করতে বলে যে, রাজ্য সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুসারে যাবতীয় কোভিড বিধি পালন হবে।

বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রন ও বিচারপতি সি জয়চন্দ্রনের বেঞ্চ বলেছে, সরকার একবার বলছে, তারা টেস্ট পজিটিভিটি রেট (টিপিআর) নিয়ে নয়, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া  নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে। সরকার নিজেই বলেছে, হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে সামান্যই। আবার পরিস্থিতি ততটা ভয়াবহ নয়, বোঝাতে  সেই টিপিআরকেই অস্ত্র করছে। এটা চলতে পারে না। রাজ্য সরকার নিজেই প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে ৫০ জনের বেশি থাকতে পারবে না বলে  জানিয়ে কঠোর বিধি জারি করেছে। তাহলে আমরা বুঝতে পারছি না, কেন সেই নিয়মবিধি শিথিল করা হচ্ছে!

কাসারগোড় জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা কমিটি গত ১৭ জানুয়ারি জানায়, বিয়েবাড়ি, শেষকৃত্য, রাজনৈতিক সভা সমিতিতে মাত্র ৫০ জন থাকতে পারবেন। কিন্তু জেলা কালেক্টর সেই আদেশ তুলে নেন যাতে সিপিএমের সম্মেলন  করতে সুবিধা  হয়, এমনই অভিযোগ পিটিশনকারীর।

এদিকে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক কোডিয়ারি বালাকৃষ্ণাণের দাবি, রাজ্য সরকারই কোভিড বিধিনিষেধ জারি করেছে, তাতে পার্টি কোনও হস্তক্ষেপ করেনি। সামনেই সিপিএমের আলাপু্ঝ্ঝা জেলা সম্মেলন। পরিস্থিতি দেখেই পার্টি সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি। বলেন, আমরা পার্টি কর্মী, গণসংগঠনগুলিকে সক্রিয় ভাবে কোভিড প্রতিরোধী প্রয়াসে সামিল হতে বলেছি। যুদ্ধকালীন ভিত্তিতে পদক্ষেপ করেছে বাম সরকারই।

 

You might also like