Latest News

শাহকে ক্লিনচিট কমিশনের, গুজরাতে ‘উচিত শিক্ষা’, ‘স্থায়ী শান্তি’ মন্তব্যে বিধিভঙ্গ হয়নি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবারও অমিত শাহকে (Amit Shah) অভিযোগ থেকে রেহাই দিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। গুজরাতের প্রচারে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ধর্মীয় বিদ্বেষ ও উস্কানিমূলক বক্তব্যের (Controversial Comments) জন্য নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ জমা পড়েছিল কমিশনে। কমিশন জানিয়েছে, মন্ত্রীর ভাষণের টেপ এবং বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা খতিয়ে দেখে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায় আপত্তিজনক কিছু পাওয়া যায়নি।

গুজরাতে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে গত ২৫ নভেম্বর অমিত শাহ বলেছিলেন, ‘এই ধরনের দাঙ্গার মাধ্যমে কংগ্রেস ভোট ব্যাঙ্ক শক্তিশালী করে সমাজের একটি বড় অংশের প্রতি অবিচার করেছে। কিন্তু ২০০২ সালে শিক্ষা দেওয়ার পর ওরা হিংসার পথ ছেড়ে দেয়। ওরা ২০০২ থেকে ২০২২ পর্যন্ত হিংসায় লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থেকেছে। যারা সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় লিপ্ত ছিল তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে বিজেপি গুজরাটে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছে।’

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই মন্তব্যের বিরুদ্ধে কমিশনে গুচ্ছ অভিযোগ জমা পড়েছিল। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, অমিত শাহ ‘ওরা’ বলতে মুসলিমদের ইঙ্গিত করেছেন। ২০০২-এ দাঙ্গার সূত্রপাত হয়েছিল গুজরাতের গোধরায় অযোধ্যা ফেরত করসেবকদের ট্রেনে আগুন লাগানোর ঘটনায়। সেখান থেকে রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ ওঠে, দাঙ্গায় মদত ছিল প্রশাসনের।

রাজনৈতিক মহলের অনেকেই মনে করেন, গুজরাতের ভোটের প্রচারে অমিত শাহের ওই মন্তব্য বিরাট প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। তিনি সরাসরি মুসলিমদের হুঁশিয়ারি দিয়ে হিন্দুমন জয় করার চেষ্টা করেন, ভোটের বাক্সে যার প্রতিফলন দেখা গিয়েছে।

ওই দাঙ্গার পর দুটি কমিশন গঠিত হয়। তাতে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ ছিল না। নানাবতী এবং মেহতা কমিশন জানায় দাঙ্গায় ১০২৫ জন নিহত হয়েছে। কোনও কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়নি। প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ এহসান জাফরিকে তাঁর বাড়িতে দাঙ্গাকারীরা খুন করে। বিজেপি মন্ত্রী মায়াবেন কোদনানি সহ বেশ কয়েকজন সংঘ পরিবারের সহানুভূতিশীলকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় তখন।

কমিশনের কর্তাদের অভিমত, অমিতের বক্তৃতায় কোনও সম্প্রদায়ের কথা বলা হয়নি। তাই এটি আচরণবিধি লঙ্ঘনযোগ্য বলা যাবে না।

অমিত শাহের ভাষণ নিয়ে কমিশনে যাঁরা অভিযোগ করেছিলেন তাঁদের অন্যতম হলেন, কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রকের অবসরপ্রাপ্ত সচিব ইএএস শর্মা এবং অসরকারি নির্বাচন পর্যবেক্ষক অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মসের প্রতিষ্ঠাতা জগদীপ ছোকার প্রমুখ। সূত্রের খবর, তাঁরা এখনও কমিশনের কাছ থেকে সরাসরি জবাব পাননি।

প্রসঙ্গত, বিজেপির প্রথমসারির নেতাদের মধ্যে অমিত শাহের বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিকবার নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে। প্রতিবারই কমিশন তাঁকে ক্লিনচিট দেয়। কমিশনের এই ভূমিকাও বারে বারে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

২০১৯-এ শাহ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে ওঠা বিধিভঙ্গের অভিযোগ দীর্ঘদিন কমিশন বিনা বিচারে ফেলে রেখেছিল। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে দুই নেতাকে নির্দোষ ঘোষণা করার পর জানা যায়, তিন কমিশনারের একজন মোদী-শাহের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু বাকি দুই কমিশনার তা মানেননি। সেবার প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভোটের স্বার্থে সেনার সাফল্যকে ব্যবহার করার অভিযোগ ওঠে।

মহিলাদের মোটেই সমান অধিকার মিলছে না সেনাবাহিনীতে! সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্যে অস্বস্তি

You might also like