Latest News

বয়স ৩০০০! নীল নদের ধারে হারানো শহরের খোঁজ পেলেন ঐতিহাসিকরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পৃথিবীর প্রাচীনতম সভ্যতা হিসেবে যে কটি দেশের নাম উঠে আসে তার মধ্যে প্রথম সারিতেই থাকে মিশর। সুদীর্ঘ নীল নদের ধারে খ্রীষ্টপূর্ব ৩১০০ অব্দে যে সভ্যতা গড়ে তুলেছিলেন প্রাচীন মিশরীয়রা, তাতে আধুনিকতার ছাপ ছিল স্পষ্ট। ঐতিহাসিক গবেষকদের আজও অবাক করে সে সভ্যতার চিহ্ন। বিস্ময়ের সেই বোধকেই আরও খানিক নাড়িয়ে দিল সাম্প্রতিক আবিষ্কার। নীল নদের তীর থেকে উঠে এল নতুন এক হারানো শহরের ধ্বংসাবশেষ।

শনিবার মিশরের লাক্সর শহর থেকে মাটি খুঁড়ে প্রাচীন সভ্যতার বেশ কিছু ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করেছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। তাঁরা জানিয়েছেন, একটা আস্ত হারিয়ে যাওয়া শহরের খোঁজ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, মিশরে এ পর্যন্ত যত ঐতিহাসিক আবিষ্কার হয়েছে, এই শহরটিকেই তার মধ্যে বৃহত্তম বলেও দাবি করেছেন গবেষকরা। আজ থেকে প্রায় ৩০০০ বছর আগে নীল নদের ধারে যখন রাজত্ব করতেন ফ্যারাওরা, সেই সময়ে এই শহরের অস্তিত্ব ছিল।

ঠিক কী কী পাওয়া গেছে লাক্সরের মাটি খুঁড়ে? গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রাচীনকালে ব্যবহৃত পাত্র থেকে শুরু করে মানুষ ও পশুপাখির হাড়গোড়, সবই মিলেছে লাক্সরে। এমনকি বাঁকানো ইটের দেওয়াল আর প্রাচীন রাস্তাঘাটের চিহ্নও পাওয়া গেছে। এই সমস্ত ধ্বংসাবশেষ থেকেই ঐতিহাসিকরা অনুমান করছেন লাক্সরে হাজার হাজার বছর আগে গড়ে উঠেছিল আস্ত একটা শহর।

নতুন এই আবিষ্কারের পর সাংবাদিকদের সামনে এসে উচ্ছ্বসিত শোনায় মিশরের স্বনামধন্য প্রত্নতত্ত্ববিদ জাহি হাবাসের গলা। তিনি বলেন, “এটা একটা খুব বড় শহর যেটা হারিয়ে গিয়েছিল। প্রাচীন মিশরীয় দেবতা অ্যাটন এবং ফ্যারাও তৃতীয় আমেনহোটেপের সঙ্গে এই শহরের যোগাযোগ রয়েছে।”

সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের কাছে নতুন আবিষ্কারের খুঁটিনাটি তথ্য জানান হাবাস। তাঁর কথা অনুযায়ী, লাক্সরের এই শহরে সমাজ ব্যবস্থায় মোট তিনটি অংশ পাওয়া গেছে। একটি প্রশাসনিক কাজের জন্য, একটি শিল্প কারখানার জন্য এবং একটি অংশ ছিল কর্মচারীদের বিশ্রামের জন্য। এছাড়া, মাংস শুকিয়ে ফেলার, জামাকাপড়-চটিজুতো বানানোর এবং ছোটোখাটো মূর্তি বানানোর জায়গাও খুঁজে পাওয়া গেছে।

এখনও পর্যন্ত শহরের কিছু অংশমাত্রই খুঁজে পাওয়া গেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন উত্তর ও পশ্চিমে আরও অনেকটা বিস্তৃত লাক্সরের হারানো শহর। তাঁরা একে ‘হারিয়ে যাওয়া সোনার শহর’ বলেও অভিহিত করেছেন। মিশরের রাজধানী কায়রো থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরে গত সেপ্টেম্বরে খননকার্য শুরু করেছিলেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। হারানো শহরের খোঁজ পেয়ে নতুন উদ্যমে ফের খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করেছেন তাঁরা।

You might also like