Latest News

জানেন কি সনিয়া, রাহুলদের ইডি কেন ডাকছে, যে কারণে ডাকতে পারে আপনাকেও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ নিয়ে দ্বিতীয়বার কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী সভাপতি সনিয়া গান্ধীকে জেরা করছে অর্থনৈতিক লেনদেন সংক্রান্ত অপরাধের ঘটনায় তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate)। গতমাসে সনিয়া পুত্র প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকেও জেরা করেছে ইডি। সনিয়ার আগে কংগ্রেসের কোনও সভাপতিতে আর্থিক দুর্নীতির মামলায় কখনও তদন্তকারীদের মুখোমুখি হতে হয়নি। গান্ধী পরিবারের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে বেআইনি পথে অর্থলাভের অভিযোগের তদন্ত করছে ইডি। কংগ্রেসের অধুনা বন্ধ দলীয় মুখপত্রের সম্পত্তি আত্মসাৎ করার অভিযোগও রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। সম্পত্তির হাত বদলেই বেআইনি লেনদেন হয়েছে অভিযোগ এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের।

অন্যদিকে, কংগ্রেসের (Congress) বক্তব্য, সম্পত্তির হাত বদল হয়েছে ঠিকই। কিন্তু তাতে কোনও ধরনের অর্থ লেনদেন হয়নি। টাকা পয়সার লেনদেনই যেখানে হয়নি, সেখানে বেআইনি লেনদেনের অভিযোগ ওঠে কী করে? আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার প্রশ্নই বা আসে কী করে?

আর্থিক লেনদেন এবং আয়কর বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, যে ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় সনিয়া ও রাহুলকে ইডি জেরা করছে তেমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হতে পারে। কারণ, রাজনৈতিক দল, ,সংগঠন, সংস্থার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দলীয় পদাধিকারী, ডিরেক্টর বা ওই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার সুবাদে সেই সম্পত্তির মালিকানা সংক্রান্ত কারণে এমন লেনদেন, হস্তান্তরের সঙ্গে যুক্ত হতে হয়। তাই এই সব বিষয়ে উপযুক্ত জ্ঞান থাকা জরুরি যাতে মেপে পা ফেলা যায়। ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলা (National Herald Case) থেকে এ ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষা মিলতে পারে।

ন্যাশনাল হেরাল্ড কী?

ন্যাশনাল হেরাল্ড হল জাতীয় কংগ্রেসের অধুনা বন্ধ ইংরেজি মুখপাত্র। এছাড়া নবজীবন নামে হিন্দি এবং কওমি আওয়াজ নামে উর্দু পত্রিকা বের করত কংগ্রেস। তিনটি কাগজই প্রকাশ করত অ্যাসোসিয়েট জার্নাল লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান।

Image - জানেন কি সনিয়া, রাহুলদের ইডি কেন ডাকছে, যে কারণে ডাকতে পারে আপনাকেও
ফাইল চিত্র

ন্যাশনাল হেরাল্ড ও জওহরলাল নেহরু

ন্যাশনাল হেরাল্ড যাত্রা শুরু করে ১৯৩৮ সালে। মূল উদ্যোক্তা ছিলেন জহরলাল নেহরু। তাঁর সঙ্গে হাত মেলান প্রায় পাঁচ হাজার স্বাধীনতা সংগ্রামী। তাঁদের আর্থিক অনুদানের টাকায় তৈরি হয় অ্যাসোসিয়েটেড জার্নাল লিমিটেড। স্বাধীনতার পর ন্যাশনাল হয়ে যায় কংগ্রেসের মুখপত্র।

ন্যাশনাল হেরাল্ড লোকসানের মুখে বন্ধ হয়

২০০৮ -এ ন্যাশনাল হেরাল্ড বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরেই লোকসানে চলছিল এই পত্রিকা এবং অ্যাসোসিয়েটেড জার্নাল লিমিটেড। কংগ্রেস পার্টি দফায় দফায় তাদের ৯০ কোটি টাকা ঋণ দেয়। ২০০৮- এ কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ তখন কেন্দ্রে ক্ষমতায়। তবু অর্থ সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যায় খবরের কাগজটি।

২০১০-এ জন্ম নিল ইয়ং ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড

ন্যাশনাল হেরাল্ডের মালিক সংস্থা আসোসিয়েটেড জার্নাল লিমিটেডকে ঋণ মুক্ত করার জন্য তৈরি হল ইয়ং ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড নামে নতুন সংস্থা। সংস্থার কর্ণধাররা সকলেই কংগ্রেসের নেতানেত্রী। সনিয়া ও রাহুল গান্ধীর নামে ৩৮ শতাংশ করে মোট ৭৬ শতাংশ শেয়ার বরাদ্দ করা হয়। বাকি ২৪ শতাংশ কংগ্রেস নেতা মতিলাল ভোরা, অস্কার ফার্নান্ডেজ, শ্যাম পিত্রদা প্রমুখের নামে বরাদ্দ হয়। ভোরা এবং ফার্নান্ডেজ বর্তমানে প্রয়াত।

নতুন কোম্পানি ন্যাশনাল হেরাল্ডের ৯০ কোটি টাকা ঋণ মেটানোর ভার নিল। বিনিময়ে ন্যাশনাল হেরাল্ডের যাবতীয় সম্পত্তি ইয়ং ইন্ডিয়াকে হস্তান্তর করা হয়।

কীভাবে হস্তান্তর হল?

২০১২ সালে বিজেপি সাংসদ সুব্রহ্মন্যম স্বামী দিল্লির আদালতে অভিযোগ করেন, ইয়ং ইন্ডিয়া কংগ্রেস দলকে মাত্র ৫০ লাখ টাকা দিয়ে ৯০ কোটি টাকা ঋণ মকুব করিয়ে নিয়েছে। উল্টে ন্যাশনাল হেরাল্ডের বাহাদুর শাহ জাফর মার্গের যে বাড়িটি ইয়ং ইন্ডিয়া নিজেদের নামে লিখিয়ে নিয়েছে সেটির বাজারমূল্য প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা।

বিজেপি নেতা আদালত মারফৎ যে প্রশ্নগুলি তোলেন

১. কংগ্রেস যদি তাদের মুখপত্রের কাছে প্রাপ্য ৯০ কোটি টাকা মকুব করে দিতে চাইত তবে তারা নিজেরাই একটা প্রস্তাব গ্রহণ করে তা করে দিতে পারত। কেন তারা সে পথে না হেঁটে একটি নতুন কোম্পানি তৈরি করল।

২. হস্তান্তরের সময় সনিয়া গান্ধী ছিলেন কংগ্রেস সভানেত্রী। কিন্তু রাহুল গান্ধী গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন না। কেন সনিয়া ও রাহুলের নামে কোম্পানির ৭৬ শতাংশ শেয়ার বরাদ্দ করা হয়েছিল?

৩. যে প্রতিষ্ঠানের নামে দু’হাজার কোটি টাকা মূল্যের বাড়ি রয়েছে, তারা কেন, ৯০ কোটি টাকা ঋণ মেটাতে সদ্য তৈরি কোম্পানিকে সমস্ত সম্পত্তি হস্তান্তর করল? স্বামীর অভিযোগ, এই ভাবে আসলে দলীয় মুখপত্রের বিপুল সম্পত্তি গান্ধী পরিবারের হস্তগত করার চেষ্টা হয়েছে।

Image - জানেন কি সনিয়া, রাহুলদের ইডি কেন ডাকছে, যে কারণে ডাকতে পারে আপনাকেও

মামলা কীভাবে গড়াল?

স্বামীর ২০১২-র মামলার প্রেক্ষিতে দিল্লির আদালত আয়কর দফতরকে প্রথমে তদন্তের নির্দেশ দেয়। তারা দাবি করে সনিয়া ও রাহুল এই লেনদেনের ফলে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। কিন্তু এই বাবদ আয়ের জন্য তারা আয়কর মেটাননি। আয়কর দফতর নোটিস পাঠিয়ে তাদের আয়কর মেটাতে বলে। আয়কর দফরের নোটিসের বিরুদ্ধে সনিয়া, রাহুল আদালতে যান। সেই মামলার এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। কেন হয়নি?

কারণ, আয়কর দফতরের তদন্ত রিপোর্টের প্রেক্ষিতে ইডিকে তদন্তভার দেয় আদালত। ২০১৫- তে আদালত সনিয়া ও রাহুলের আগাম জামিন মঞ্জুর করে এবং স্বশরীরে কোর্টে হাজিরা থেকে মুক্তি দেয়। তদন্ত চলতে থাকে। সেই তদন্তেই সনিয়া ও রাহুলদের এখন তলব করছে ইডি।

কী বলছে কংগ্রেস?

কংগ্রেসের বক্তব্য, ন্যাশনাল হেরাল্ডের ঋণ মুক্তি, সম্পত্তি হস্তান্তর ইত্যাদির সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের কোনও সম্পর্ক নেই। এটি ছিল অলাভজনক উদ্যোগ। ইয়ং ইন্ডিয়াও ট্রাস্ট হিসাবে কাজ করে। এটির সঙ্গে লাভ লোকসানের কোনও সম্পর্ক নেই। ফলে ৭৬ শতাংশ মালিকানা সনিয়া, রাহুলদের নামে থাকলেও তারা এক পয়সা কোম্পানি থেকে নেননি এবং সম্পত্তিরও তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে মালিক নন। কিন্তু সুব্রহ্মন্যম স্বামীর বক্তব্য, নতুন কোম্পানি তৈরি এবং সনিয়া, রাহুলদের সিংহভাগ মালিকানা দেওয়াটাই রহস্যজনক। সেই কারণেই তিনি ফৌজদারি মামলা ঠুকেছেন।

ইডি দফতরে পৌঁছলেন সনিয়া, কংগ্রেসকে রাজঘাটে যেতে দিল না পুলিশ

You might also like