Latest News

মোহনবাগান লেনে উড়ছে ইস্টবেঙ্গল পতাকা! অমর একাদশের অনেকেই যে ছিলেন ওপার বাংলার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মোহনবাগানীদের (Mohun Bagan Day) কাছে ২৯ জুলাই (29 July) এক অন্য দিন। সবুজ মেরুন সমর্থকদের কাছে যেন দুর্গাপুজোর মতো। ক্লাব তাঁবুতে খুশির ঝিলিক। সব সদস্য-সমর্থকদের পরণে নতুন জামাকাপড়, সবার মুখে হাসি।

এই বিশেষ দিনটি পালন করা হয়ে থাকে অমর একাদশের বিজয়োৎসবের নিশান হিসেবে। ১৯১১ সালের এই দিনে ব্রিটিশ ইস্ট ইয়র্ক রেজিমেন্টকে হারিয়ে আইএফএ শিল্ড জিতেছিল মোহনবাগান। মোহন কর্তারা তাই বলে থাকেন, ওই দিনটাই হচ্ছে স্বাধীনতা আন্দোলনের জিয়নকাঠি।

ঝলমল করছে মোহনবাগান তাঁবু, বাজছে সানাইয়ের সুর, অপেক্ষা শ্যাম-বরণের

প্রতিবছরই এই দিনটি আসে এক নতুন বার্তা নিয়ে। ক্লাব মাঠে প্রাক্তনদের ম্যাচ ছাড়াও হয়ে থাকে সঙ্গীতানুষ্ঠান। পাশাপাশি সদস্য-সমর্থকদের মহা মিলনমেলায় দিনটির তাৎপর্য নয়া প্রজন্মের কাছেও উন্মোচিত হয়ে থাকে।

মোহনবাগান মাঠে উৎসবের পাশে আবার শ্যামবাজারের কাছে মোহনবাগান লেনেও চলে সকাল থেকে উৎসব। ওই স্থানে পাথরের মূর্তিতে খোদাই রয়েছে অমর একাদশের প্রতিকৃতি। মালা পরানো হয় সেখানে। কেউ কেউ রেখে দিয়ে আসে নতুন ফুটবলও।

শুক্রবার সকালে ওই পাড়ায় কারা আবার ইস্টবেঙ্গলের পতাকাও ঝুলিয়ে দিয়েছে। কিন্তু কেন? তার কারণ হিসেবে ইতিহাসের পাতা ওল্টাতে হয়। ওই অমর একাদশের দলের আটজন ফুটবলার ছিলেন ওপার বাংলার। ভাল করে বাংলাদেশের সন্তান।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা গিয়েছে, গোলরক্ষক হীরালাল মুখোপাধ্যায় থেকে ফরোয়ার্ড অভিলাষ ঘোষও ঢাকার বাসিন্দা ছিলেন। বিভাজনের পরে তাঁদের পরিবার কলকাতায় চলে এসেছিল।

রাইটব্যাক সুধীর চট্টোপাধ্যায় ফরিদপুরের, শিবদাস ভাদুড়ি ছিলেন রাজশাহির, দাদা বিজয়দাসও তাই। রাইট উইঙ্গার কানু রায় ঢাকার লোক ছিলেন। হাফ ব্যাক রাজেন সেনগুপ্তও তাই। নীলমাধব ভট্টাচার্য ছিলেন বরিশালের। তাঁদের পূর্বসূরী ওখানে থাকতেন।

বিভাজনের কাঁটাতার পেরিয়ে ওই জয় সবদিক থেকেই যেন মিলে সুর মেরা তুমহারা। মিশিয়ে দেয় মোহন-ইস্ট আবেগকেও। বহু মোহনবাগান সমর্থকরা হয়তো এই ঘটনা নিয়ে রঙ্গ রসিকতা করে থাকেন, কিন্তু ইতিহাস কখনও বিকৃত করা যায় না। খালি পায়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াইটাই ছিল গা গরম করে দেওয়া সঞ্জীবনী।

You might also like