Latest News

এক আসনে বসেই পুজো সারতে হয় তালিত গ্রামের ‘দালান মা’র

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: আদিলগ্নে দেবীকে আরাধনা করা হত ইটের তৈরি দালানে। বর্তমানে দেবীর জন্য বড় পাথর বসানো মন্দির তৈরি হলেও দেবীর ‘দালান মা’ নামের কোনও পরিবর্তন হয়নি। দালান মা দুর্গা পূর্ব বর্ধমানের (East Bardhaman) চারশ বছরের পুরনো অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও সাবেকি পুজো (Durga Pujo 2022)।

তালিত গ্রামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু ইতিহাস। দালান মা এই গ্রামের ভট্টাচার্য বাড়ির আরাধ্যা। নিয়ম নীতি মেনে নিষ্ঠা সহকারে দালান মায়ের আরাধনা করা হয় প্রতিবছর। এখানে প্রতিমার কাঠামো প্রায় সাড়ে তিনশো বছরের। যার কোনও পরিবর্তন হয়নি এখনও। রথযাত্রার দিন গঙ্গা মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়। এক চালায় ধীরে ধীরে রূপ পায় দেবী।

এই পুজোর সূচনা করেছিলেন বর্ধমান রাজার আমন্ত্রণে আসা কালীপ্রসন্ন ভট্টাচার্য। শোনা যায়, তালিতের ভট্টাচার্যদের বাড়ির পুজো দেখতে এসেছিলেন সাধক কমলাকান্ত এবং মা সারদাদেবী। এক আসনে বসে পুজো এখানকার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। অর্থাৎ পুরোহিত পুজো করতে করতে আসন থেকে ক্ষণিকের জন্যও উঠতে পারবেন না। এটাই এই বনেদি বাড়ির পুজোর নিয়ম।

অতীতে ভট্টাচার্য বাড়ি থেকে প্রায় কুড়ি কিলোমিটার দূরে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে কামানের শব্দে নির্ধারিত হত পুজোর বিভিন্ন আচার রীতি। তবে ১৯৯৫ সালে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে কামান দাগার সময় দুর্ঘটনা ঘটে। তারপর থেকে কামান দাগা বন্ধ হয়ে যায়।

ভট্টাচার্য বাড়ির নবীন সদস্য শমীক ভট্টাচার্য বলেন, প্রায় সাড়ে তিনশ বছর আগে শুরু হওয়া এই ঐতিহ্যবাহী ভট্টাচার্য বাড়ির বনেদি পুজোয় সারা গ্রাম মেতে ওঠে। বিদেশে থাকা পরিবারের সদস্যরাও মাটির টানে ফিরে আসেন নিজের গ্রামে। সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত দুপুরে হয় পংক্তিভোজ।

জৌলুস হারালেও রাজবাড়ির ভাঙা নাট মন্দিরে আজও জীবন্ত বর্ধমানের পটেশ্বরী

You might also like