Latest News

জৌলুস হারালেও রীতি অটুট! বাঁধন গ্রামের বাসিন্দারা মেতে উঠেছেন মাতৃ আরাধনার প্রস্তুতিতে

দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: জমিদার লক্ষ্মীকান্ত ভট্টাচার্যের হাত ধরেই ডায়মন্ড হারবারের (Diamond Harbour) বাঁধন গ্রামে প্রথম শুরু হয় মাতৃ আরাধনা (Durga Pujo 2022)। তার পর কেটে গেছে বহু বছর। আজও নিষ্টার সঙ্গে জমিদার বাড়ির দালানে মা আসেন। সেই পুজো ঘিরেই গ্রামবাসীরা মেতে ওঠেন প্রতি বছর। এবছরও তার অন্যথা হচ্ছে না। জমিদার বাড়ির নাটমন্দিরে চলছে দেবীবরণের প্রস্তুতি। একচালার কাঠামোর উপরে মাটির প্রলেপ পড়ে গেছে। পুজোর গন্ধে ম ম করছে গোটা গ্রাম।

২৭৯ বছর আগে এই গ্রামের তৎকালীন জমিদার লক্ষ্মীকান্ত নাটমন্দিরে প্রথম দুর্গাপুজো শুরু করেন। এলাকার বিঘে বিঘে ফসলি জমির শ্রীবৃদ্ধির কামনায় সূচনা হয় পুজোর। আজও একই কারণে গ্রামবাসীরা সেই পুজো করে আসছেন।

কালচক্রে জৌলুস হারিয়েছে ভট্টাচার্য বাড়ি। সংস্কারের অভাবে জমিদারবাড়ির আনাছে-কানাছে জন্মেছে আগাছার জঙ্গল। ইটের দেওয়ালে বেড়ে উঠছে বটের শিকড়। নাটমন্দিরের কড়িবরগার ফাঁকে পায়রা, ঘুঘুদের আনাগোনা লেগে থাকে।

তবু দুর্গাপুজোর ওই ক’টা দিন এখনও গম গম করে উঠে জমিদারবাড়ির অন্দরমহল। আত্মীয়দের সমাগমে ভরে ওঠে চারিদিক। পরিবারের কূলবধূ সন্ধ্যা ভট্টাচার্য জানান, আগে পরিবারের সকলেই মিলে মিশে এই বাড়িতে থাকতেন। পরিবারের শাখা প্রশাখা বেড়েছে। কর্মসূত্রে তাঁরা বাইরে থাকেন। তবে প্রতিবার পুজোয় বাড়ি ফেরেন তাঁরা।

সন্ধ্যাদেবী আরও জানান, রীতি অনুযায়ী এই বাড়ির পুজোয় পরিবারের ছেলেরাই করেন। পশুবলির প্রচলনও রয়েছে। এই পরিবারের বংশধর নিমাই ভট্টাচার্য জানান, এক সময় তোপধ্বনি দিয়ে শুরু হত এ বাড়ির সন্ধিপুজো।

ভট্টাচার্য পরিবারের নবপ্রজন্মের মধ্যেও বাড়ির পুজো নিয়ে রয়েছে বিশেষ উন্মাদনা। পুজোর চারটে দিন তাঁরাও বাড়ির পুজো নিয়ে সারাক্ষণ মেতে থাকে। এবার পুজোয় করোনার খরা কাটিয়ে আলোর রসনাইতে আরও একবার উজ্জ্বল হয়ে ভট্টাচার্য বাড়ির ঠাকুর দালান।

অষ্টমীতে নিশিবলি, সেই প্রসাদেই নবমীর ভোগ! চিল্কিগড়ে সেজে উঠছে কনক দুর্গার মন্দির

You might also like