Latest News

দুর্গাঠাকুর কেমন হয়, কুমোরটুলিতে ছুঁয়ে দেখলেন দৃষ্টিহীনরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো:‌ পুজো এলেই কলকাতার অন্যতম দর্শনীয় জায়গা হয়ে ওঠে কুমোরটুলি। উঠতি মডেলদের দুর্গা সেজে বিভিন্ন প্রতিমার সামনে পোজ আর শখের ফটোগ্রাফারদের ভিড় তো রয়েইছে, বিদেশ থেকেও অনেকে ঘুরতে আসেন কুমোরপাড়ায়। কী ভাবে ঠাকুরের (Durga Puja 2022) গায়ে মাটি লেপা হচ্ছে, কোন থিমের ঠাকুর কী রকম, কাদের অসুর এবার সবথেকে পেশীবহুল ইত্যাদি নিয়ে উৎসাহ তুঙ্গে থাকে। আর সেগুলোই চাক্ষুস করতে সকাল–সন্ধে ভিড় লেগেই থাকে।

এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত দৃষ্টিহীনরা। তাঁরা শুধু অন্যের মুখে পুজোর কথা শোনেন, উপলব্ধি করার চেষ্টা করেন। কিন্তু চাক্ষুস করতে পারেন না। তবে হাতে ছুঁয়ে তাঁরা বুঝতে পারেন। যে পুজোকে ঘিরে চলতি বছর এত উন্মাদনা, উচ্ছ্বাস, সেই আনন্দে শরিক হতে চান ওঁরাও। তাই শনিবার ২৫ জন দৃষ্টিহীন উৎসাহী মানুষকে প্রতিমা ছুঁয়ে ‘‌দেখার’‌ সুযোগ করে দিয়েছিলেন কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীরা। তাঁদের হাজারো প্রশ্ন!‌ কীভাবে প্রতিমা তৈরি হয়, কোন ঠাকুর কীরকম দেখতে ইত্যাদি। তবে সবকিছুরই জবাব দিয়েছেন শিল্পীরা। তৈরি হওয়া প্রতিমা বা অর্ধ-নির্মিত মূর্তিগুলিকে স্পর্শ করে দৃষ্টিহীনরা অনুভব করেছেন এদিন (Durga Puja 2022)।

একজন দৃষ্টিহীন নাগরিকের কথায়, ‘‌আমরা আমাদের পরিবার নিয়ে প্যান্ডেলে ঘুরতে পারি না। আমরা যখন ভিড়ের মধ্যে বা লম্বা লাইনে আস্তে আস্তে হাঁটি, তখন অন্যেরা বিরক্ত হন। তাই দুর্গাঠাকুর কী রকম দেখতে, তা আমরা অন্যের মুখেই শুনেছি। এবার এসে ছুঁয়ে দেখলাম।’‌

কুমারটুলির মৃৎশিল্পী সমন্বয় সমিতি এবং সল্টলেক কালচারাল সোসাইটি যৌথভাবে এই উদ্যোগটি নিয়েছিল। সমিতির সম্পাদক বাবু পাল বললেন, ‘‌বিষয়টি আমরা কারিগরদের আগেই জানিয়েছিলাম। তাঁরাই দৃষ্টিহীনদের জন্য সব ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন। চোখ ছাড়াও অন্তর্দৃষ্টিতে অনেককিছু দেখা যায়। আমরা শিল্পীরা বিষয়টা বুঝি। তাই দৃ্ষ্টিহীনদের সব ছুঁয়ে দেখার ব্যবস্থা করেছি।’‌

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে দক্ষিণ কলকাতার সমাজসেবী সংঙ্ঘ তাঁদের মণ্ডপটি দৃষ্টিহীনদের জন্য তৈরি করেছিল। ব্রেইল সহ একাধিক ব্যবস্থা ছিল মণ্ডপে। যা ছুঁয়ে দেখেই বোঝা যায়। কুমোরটুলিও শনিবার তেমনই একটি উদ্যোগ নিয়েছিল। দৃষ্টিহীন মানুষরা ওইদিন কুমোরটুলি এসে দারুণ খুশি হয়েছেন।

পুজোর মুখে কলকাতায় ডেঙ্গির চোখরাঙানি!‌ মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫৬৪ জন

You might also like