Latest News

পরে বোল না আমরা তোমাদের সাবধান করে দিইনি, আমেরিকাকে কেন বলল চিন?

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ডোন্ট সে উই ডিডন্ট ওয়ার্ন ইউ…। আমেরিকার উদ্দেশে লিখেছে চিনের মিডিয়া। ১৯৬২ সালে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের আগেও চিন এই কথাটি বলেছিল। ১৯৭৯ সালে চিন যখন ভিয়েতনামকে আক্রমণ করে, তার আগেও বলেছিল, তোমাদের সাবধান করে দিইনি একথা বলতে পারবে না। আমেরিকার উদ্দেশে কেন ওই কথাটি ব্যবহার করেছে চিন? দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ চলছে বেশ কিছুদিন ধরে। শোনা যাচ্ছে, চিন এবার আমেরিকায় বিরল রাসায়নিক রফতানি বন্ধ করে দিতে পারে। তার আগে ওইভাবে আমেরিকাকে সতর্ক করেছে।

সারা বিশ্বে যত বিরল রাসায়নিক আছে, তার ৮০ শতাংশ সরবরাহ করে একা চিন। স্মার্টফোন, বিদ্যুৎচালিত গাড়ি এবং সামরিক নানা সরঞ্জাম বানাতে ওই সব রাসায়নিক কাজে লাগে। তার মধ্যে আছে নিওডাইমিয়াম ও ইট্রিয়াম। অল্প কয়েকটি কোম্পানি চিনের খনি থেকে ওই রাসায়নিক তোলে। তাদের মধ্যে আছে চায়না নর্দার্ন রেয়ার আর্থ গ্রুপ, মিনমেটালস রেয়ার আর্থ কোম্পানি, শিয়ামেন টাংস্টেন কোম্পানি এবং চিনালকো রেয়ার আর্থ অ্যান্ড মেটালস কোম্পানি। এর আগেও চিন বিরল রাসায়নিককে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করেছে। ২০১০ সালে জাপানের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে তাদের ঝগড়া হয়। তখন তারা জাপানকে ওই রাসায়নিক রফতানি বন্ধ করে। ফলে তার দাম বেড়ে যায়। জাপান অন্য দেশ থেকে বেশি দামে ওই রাসায়নিকগুলি কিনতে বাধ্য হয়। চিন যদি আমেরিকাকে বিরল রাসায়নিক রফতানি বন্ধ করে তাহলেও আগামী দিনে দাম বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গত সপ্তাহে বিরল রাসায়নিকের এক কারখানা পরিদর্শন করেছেন। অবশ্য চিনের সরকার এখনও ঘোষণা করেনি আমেরিকায় বিরল রাসায়নিক সরবরাহ বন্ধ করে দেবে। কিন্তু চিনের প্রভাবশালী ‘গ্লোবাল টাইমস’ পত্রিকায় খুব জোরের সঙ্গে একথা বলা হয়েছে।

কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র ‘পিপলস ডেইলি’-তে শিরোনাম দেওয়া হয়েছে, আমেরিকা, চিনকে ছোট করে দেখো না। আমরাও পালটা আঘাত করতে জানি। পরে লেখা হয়েছে, আমেরিকা আমাদের ওপরে বিনা কারণে চাপ সৃষ্টি করছে। বিরল রাসায়নিক কি চিনের পালটা হাতিয়ার হয়ে দাঁড়াবে? এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে কারও সংশয় থাকা উচিত নয়।

You might also like