Latest News

DOLLAR: খুচরো হোশিয়ারি বিক্রেতা থেকে ডলারের মালিক! অর্ধ শতকের যাত্রাপথ জানাতে গিয়ে চোখে জল দীনদয়ালের

দ্য ওয়াল ব্যুরো:‌ ১৯৬২ সালে ভাগ্যের সন্ধানে হরিয়ানার এক যুবক এসেছিলেন কলকাতায়। বয়স তখন বছর কুড়ি হবে। নাম তাঁর দীনদয়াল গুপ্ত। দেশের শিল্প বাণিজ্য মানচিত্রে কলকাতা তখন বেশ উজ্জ্বল। নিজস্ব পুঁজি তেমন ছিল না। দীনদয়াল অন্য এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে যৌথ ভাবে শুরু করেছিলেন হোশিয়ারি ব্যবসা (DOLLAR)। অন্য কারখানা থেকে মাল কিনে নিজেই বিক্রি করতেন। কঠোর পরিশ্রম করতেন। তারপর ১৯৭২ সালে নিজেই খুলে ফেলেছিলেন ছোট একটা কারখানা। নাম দেন ভবানী টেক্সটাইল।

সেই শুরু। আর পিছনে ফিরে দেখতে হয়নি। কর্মী ও বিক্রেতাদের সঙ্গে করে ক্রমে এগিয়ে গিয়েছেন তিনি। তারপর দেখতে দেখতে অর্ধ শতাব্দী পার হয়েছে, ভবানী টেক্সটাইল এখন ইতিহাস। দীনদয়ালের সংস্থা সময়ের সঙ্গে অভিযোজিত হয়ে এখন দেশের অন্যতম সেরা হোশিয়ারি প্রোডাক্ট উৎপাদন সংস্থা। তাঁর সংস্থার পোশাকি নাম এখন ডলার (DOLLAR)। ২০২০–২০২১ সালে যে প্রতিষ্ঠান ১৩০০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। দেশের ব্র‌্যান্ডেড হোশিয়ারি ক্ষেত্রের ১৫ শতাংশ মার্কেট শেয়ারই এখন তাঁদের দখলে। কে বলে কলকাতায় ব্যবসা হয় না!

মঙ্গলবার সংস্থার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান তথা তাঁর পরিশ্রমের যাত্রা নিয়ে বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন দীনদয়াল। গলা ধরে আসে সাদা ধুতি–কুর্তা পড়া বৃদ্ধের। ছলছলে চোখে বলছিলেন, ‘একটা ছোট সংস্থা আজ বট গাছ। এই কৃতিত্ব সংস্থার হয়ে কাজ করা সবার। ছোট–বড় প্রতিটি কর্মীর। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ। ঈশ্বরের কৃপা না থাকলে এমন হয় না।’‌

দীনদলায় আরও বলেছেন, ‘যখন প্রথম ব্যবসা শুরু করেছিলাম, দিনে এক–দুই পেটি ‌মাল বিক্রি হত। কিন্ত আমরা সময়ে অর্ডার পৌঁছে দিতাম। যে কারণে জনপ্রিয় হয়ে গেলাম। সেই ধারা আজও বজায় আছে। ’‌

দীনদয়ালের ছেলে বিনোদ কুমার গুপ্তা সংস্থার এমডি। ২০২৫ সাল পর্যন্ত তাঁদের লক্ষ্যমাত্রা জানাতে গিয়ে বিনোদ জানিয়েছেন, ব্যবসা আরও বাড়াতে ১২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবেন তাঁরা। গতবছর সংস্থার লাভ বেড়েছে ৬৭ শতাংশ। এবার লজেঁরিও তৈরি করবে ডলার। ডলারের পুরুষদের পণ্যের ব্র‌্যান্ড অ্যামবাস্যাডার অক্ষয়কুমার। মহিলাদের অন্তর্বাসের ব্র‌্যান্ড অ্যাম্বাস্যাডার হচ্ছেন ইয়ামি গৌতম।

তামিলনাডুতে রয়েছে সংস্থার মূল কারখানা। কলকাতায় কারখানা রয়েছে। তবে স্পিনিং মিল নেই। এছাড়া দিল্লি ও লুধিয়ানাতেও রয়েছে কারখানা। ডানকুনির কাছে জগদীশপুরে একটি ওয়্যার হাউস তৈরি হবে ডলারের। সেখানে ৩০০ জনের কর্মসংস্থান হবে। তবে ইচ্ছে থাকলেও কলকাতায় বড় স্পিনিং মিল তৈরি করতে পারেনি ডলার। কারণ হিসেবে এমডি জানান, এ রাজ্যে ওইরকম কারখানা করার সহায়ক পরিস্থিতি নেই। দক্ষ কর্মীর অভাব রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা হয়েছিল। কিন্তু কোনও রাস্তা বেরিয়ে আসেনি। তবে বাংলায় এত বড় একটা ওয়ারহাউজ গড়ে তোলাও কম কথা নয়।’‌

হাতে বোনা শাড়ির এক্সক্লুসিভ কালেকশন, নুসরতের হাত ধরে সূচনা হল এথনিক বুটিকের নতুন স্টোরের

You might also like