Latest News

আপনি নেতা বলে কাউকে গাড়িচাপা দিতে পারেন না, বললেন উত্তরপ্রদেশের বিজেপি প্রধান

দ্য ওয়াল ব্যুরো : একজন দরিদ্র চা বিক্রেতা (Tea Seller) মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। লখনউতে বিজেপির সংখ্যালঘু ফ্রন্টের কর্মসমিতির সভার শুরুতে এমনই মন্তব্য করেন উত্তরপ্রদেশ বিজেপির সভাপতি স্বতন্ত্র সিং। এর পরে তিনি পরোক্ষে উল্লেখ করেন লখিমপুর খেরির ঘটনার কথা। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, না খাউঙ্গা না খানে দুঙ্গা। রাজনৈতিক নেতা হওয়া মানে এই নয় যে, আপনি কাউকে লুঠ করবেন। ফরচুনার গাড়ি চালিয়ে কাউকে চাপা দেবেন।”

অভিযোগ, গত ৩ অক্টোবর লখিমপুর খেরিতে বিক্ষোভরত কৃষকদের গাড়ি চাপা দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্রের ছেলে আশিস মিশ্র। উত্তরপ্রদেশের বিজেপি প্রধান বলেন, “কোনও ব্যক্তিকে ভোট দেওয়ার আগে মানুষ দেখেন তাঁর আচরণ কেমন। রাজনীতি করার মানে হল সমাজ ও জাতির সেবা করা। এক্ষেত্রে জাতপাত বা ধর্ম দেখলে চলবে না।”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “তাঁরা দু’জনেই গরিব পরিবার থেকে এসেছেন। মোদী গরিবদের জন্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। তাঁর আগে কেউ একথা ভাবেনি। প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে গরিবদের জন্য সাত লক্ষ বাড়ি তৈরি করে দিয়েছেন।” স্বতন্ত্র সিং বলেন, এখন বিদেশে ভ্যাকসিন পাঠানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে মানুষ গ্যাসের কানেকশান, বিদ্যুৎ এবং শৌচাগার পেয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী একদশক ধরে দেশকে লুঠ করেছেন।

লখিমপুরে গাড়ি চাপা দিয়ে কৃষক হত্যা মামলায় শেষমেশ শনিবার সকালে পুলিশের কাছে হাজিরা দেন আশিস মিশ্র। দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার জেরার পরে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। এর পর রবিবার সকালে তাঁকে বিশেষ আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের জন্য বিচারবিভাগীয় আদালতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

পাশাপাশি খোঁজ শুরু হয়েছে আশিসের এক বন্ধুর খোঁজ, যে এই ঘটনায় জড়িত বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। সেই বন্ধু আবার লখিমপুরের প্রাক্তন সাংসদ, প্রয়াত অখিলেশ দাসের ভাইপো অঙ্কিত দাস।

ধরা পড়ার পরে আশিস পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, ঘটনার সময়ে তিনি অনুষ্ঠানেই হাজির ছিলেন। গাড়ি নিয়ে কোথাও যাননি। তিনি বলেন, “ওই থর জিপটি আমার। আমাদের ড্রাইভার হরিওম মিশ্র গাড়ি চালাচ্ছিলেন। আমার বন্ধু এবং বিজেপি কর্মী অঙ্কিত দাস ওই গাড়ির মালিক। তিনি গাড়ি দুটি নিয়ে প্রধান অতিথিদের আনতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তারপর তিনি কোথায় গেছেন আমি জানি না। ঘটনার পর থেকে অঙ্কিত আমার সঙ্গে আর যোগাযোগ করেননি।”

You might also like