Latest News

মেডিক্যালে টোসিলিজুমাব-কাণ্ডে অভিযুক্ত চিকিৎসক দেবাংশী সাহা, স্বাস্থ্যভবনে রিপোর্ট দিল তদন্ত কমিটি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক দেবাংশী সাহাকে দোষী সাব্যস্ত করা হল হাসপাতালের রিপোর্টে। শমিবার রাতে স্বাস্থ্য ভবনে জমা পড়া রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ২৬টি টোসিলিজুমাব ইঞ্জেকশন চুরির ঘটনায় সরাসরিভাবে জড়িত তিনি। নিয়ম ভেঙে ওই ইঞ্জেকশন নিয়েছিলেন দেবাংশী সাহাই।

মেডিক্যাল কলেজ সূত্রের খবর, অভিযুক্ত চিকিৎসক দেবাংশীর সঙ্গে কথা বলেছে হাসপাতালের তদন্ত কমিটি। তাঁর বয়ানও নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। তার পরেই তৈরি হয়েছে রিপোর্ট।

তদন্ত কমিটির ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, টোসিলিজুমাব ইঞ্জেকশন কখনওই কোনও মেডিক্যাল অফিসার বা হাউস স্টাফের স্বাক্ষরের ভিত্তিতে দেওয়া যায় না। সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার বা আরএমও-র সই দরকার এই ইঞ্জেকশন নিতে গেলে। সেই সঙ্গে ফর্মে এও উল্লেখ থাকতে হবে, কোন রোগীর জন্য ইঞ্জেকশন নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু দেবাংশী যে ইঞ্জেকশনগুলি নিয়েছিলেন, তার ফর্মে সে সব কিছুই ছিল না। কোনও নিয়মই মানা হয়নি।

দিন কয়েক আগেই মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা দামের ২৬টি টোসিলিজুমাব ইঞ্জেকশন বেআইনিভাবে হাতানোর অভিযোগ ওঠে চিকিৎসক দেবাংশী সাহার বিরুদ্ধে। সরাসরি তথ্যপ্রমাণ সামনে না এলেও, একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাতেই সামনে আসে এই চুরি। এ নিয়ে রুজু হয় মামলাও।

অভিযোগ ওঠে, চিকিৎসক দেবাংশী সাহা শাসক দলের নেতা নির্মল মাঝির ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। তিনিই প্রভাব খাটিয়ে কর্তব্যরত এক নার্সের কাছ থেকে ওই ইঞ্জেকশন হাতিয়েছেন। এর পরেই নির্মল মাঝি ও দেবাংশী সাহার একটি ছবিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

যদিও ফেব্রুয়ারিতেই মেডিক্যালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান পদে ইস্তফা দিয়েছেন নির্মল মাজি। তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরে সেই ইস্তফাপত্রও চেয়ে পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য ভবন। নির্মল মাজি অবশ্য এ বিষয়ে কোনও ভাবেই জড়িত নন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি তো আগেই রোগী কল্যাণ সমিতির পদ থেকে পদত্যাগ করি। আমিই তো তদন্ত করতে বলি। আমি দালালচক্রের কথা বলেছিলাম। তাই নাম ফাঁসিয়ে দিয়েছে। তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করব।”

ইদানীং কোভিড চিকিৎসায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে টোসিলিজুমাব ইঞ্জেকশন। মূলত রিউময়েড আর্থ্রাইটিস বা বাতের রোগের জন্য ব্যবহার করা হয় এই ওষুধ। ব্যথা এবং ফোলা কমাতে এই ওষুধ কার্যকর। গবেষণায় জানা গেছে, করোনা আক্রান্ত মরণাপন্ন রোগীদের চিকিৎসায় এই ইঞ্জেকশনটি কার্যকরী। বিশেষ করে কোভিড রোগীর শরীরে সাইটোকাইন স্টর্ম উঠলে এই ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।

গত ৩ মে স্বাস্থ্য দফতর রেমডেসেভির এবং টসিলিজুমাব, এই দু’টি ইঞ্জেকশনের যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ে নির্দেশিকা জারি করেছিল। ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, প্রস্তুতকারক সংস্থা এই দুটি ইঞ্জেকশন শুধু নার্সিংহোম ও কোভিড হাসপাতালকেই বিক্রি করতে পারবে। এখন দেখার ২৬টি ইঞ্জেকশন উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্বাস্থ্য দফতর কী পদক্ষেপ নেয়।

তথ্য অনুযায়ী টোসিলিজুমাবর এক একটা ভায়ালের দাম ৪২ হাজার টাকা। তবে বিপদের সময়ে এই ওষুধ  শুধু কলকাতা নয়, গোটা দেশজুড়ে কোথাও ২ লক্ষ কোথাও বা ৩ লক্ষ টাকায় কালোবাজারি বিক্রি হয়েছে। কলকাতায় বহু রোগীর প্রয়োজন হলেও তা দেওয়া যায়নি।

You might also like