Latest News

মেয়েদের স্বনির্ভরতার মঞ্চ ‘ভায়েলি’, বিকিকিনির উৎসব জমে উঠেছে লেকটাউনে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোটা ফ্লোর জুড়ে উপচে পড়ছে আলো। শুধু ঝলমলে বৈদ্যুতিন আলো নয়, এ আলো অনেকটা লড়াই পথ পার করে আসার আলো, এ আলো জিতে যাওয়ার আলো। অরুণিমা, শ্রেয়া, রুবিলা, সুজাতারা সেই আলোয় পসরা নিয়ে বসেছেন নিজেদের। তাঁরা নিজেরাই যেন দীপাবলি (diwali)। জোর গলায় জানিয়ে দিচ্ছেন, জিতে যাওয়ার গল্প বলতেই এসেছেন তাঁরা।

এই জিতে যাওয়ার গল্পের পাতাগুলোকে দু’মলাটে বেঁধেছে ভায়েলি। ‘ভায়েলি’ হল এমন এক মহিলা পরিচালিত সংস্থা, যারা বাংলার নারীশক্তির আলোকে উজ্জ্বল করে তোলার চেষ্টা করছে এই দীপাবলি। তাদের আয়োজিত ‘দিওয়ালি এক্সপো ২০২১’ (diwali expo 2021) তিন দিন ধরে চলল লেকটাউনের গোকুল ব্যাঙ্কোয়েটসে। এক্সপো বলতে, একটি প্রদর্শনী এবং বিকিকিনির বাট, যার ভিত্তি কেবল নারীশক্তিই।

সারা রাজ্যের নানা প্রান্তের ৭৪ জন মহিলা তাঁদের নিজেদের তৈরি জিনিস নিয়ে পসরা সাজিয়েছেন এখানে। পোশাক, জুতো, হাতের কাজ, ব্যাগ, গয়না, বাচ্চাদের খেলনা, ঘরসাজানো, আসবাব, মশলা, আচার, বড়ি, পাঁপড়, গাছ, পোষ্যর জিনিসপত্র– কী নেই সেই তালিকায়! আছে নানারকম লোভনীয় রান্নাবান্নার সম্ভারও। প্রদর্শনী, বিকিকিনি, পরিচালনা– এই পুরো ব্যবস্থার দায়িত্বেই থাকছেন কেবল মহিলারা।ভায়েলির এই উদ্যোগ এই প্রথম নয়, প্রতিবছরই তারা নারীশক্তির উন্নয়নে এই ধরনের বহু কাজ করে থাকে। এই বছর তাদের এই এক্সপো হচ্ছে বড় করে। এর মাধ্যমে মহিলাদের স্বনির্ভরতার এক পোক্ত মঞ্চ হয়ে উঠেছে ‘ভায়েলি’।

সংস্থার সহ-সভাপতি অভীশা রায় চ্যাটার্জী জানালেন, সাধারণ মহিলাদের অনুপ্রেরণা জোগাতেই কাজ করে চলেছে ভায়েলি। এই বছরের এক্সপো খুবই স্পেশ্যাল, করোনার ভাঙাচোরা সময়ের আবহে। কারণ এই করোনা যেমন বহু মানুষের কাজ কেড়ে নিয়েছে, পথে বসিয়েছে, তেমনি বহু মানুষকে ঘুরে দাঁড় করাতেও শিখিয়েছে এই করোনা। সেই ঘুরে দাঁড়ানো মেয়েদেরই কুর্নিশ করে ভায়েলি। হাজার প্রতিকূলতা পার করে যাঁরা স্বাবলম্বী হতে চেয়ে দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে যাচ্ছেন, তাঁদের জন্যই ভায়েলির এই আয়োজন।ঘরসাজানোর পুতুল থেকে শুরু করে নানারকম মাটির জিনিস নিয়ে বসেছিলেন অরুণিমা। জানালেন, তাঁর বাবা মাটির জিনিস তৈরির কাজ করতেন। কিন্তু কোভিডের সময়ে একেবারে ভেঙে পড়েছিল গোটা সংসার। তার পরে ধীরে ধীরে কোভিডের প্রকোপ কমলেও, মাঝে চলে গেছে দুটো বছর।

তাই ফের শূন্য থেকে শুরু করেছেন অরুণিমা সরকার। বাবাকে বিশ্রাম দিয়ে, নতুন করে কাজ শুরু করে, লড়াই করে, ফের মানুষের কাছে পৌঁছনোর পথ খুলল। সেই লড়াইয়ের পথকেই এবার আরও একটু প্রশস্ত করার কাজ করছে ‘ভায়েলি’।শ্রেয়া বসু ছিলেন পেশায় এঞ্জিনিয়ার। পরে বাবার সঙ্গে শুরু করেছিলেন ওষুধের দোকান। কোভিডে ভেঙে পড়ে ব্যবসা। সে সময়ে বিভিন্ন ওষুধ কোভিড রোগীদের বাড়ি-বাড়ি পৌঁছে দিয়েছিলেন শ্রেয়া। তার পরে খুলেছেন নিজের বুটিক।

আরও এক পেশাদার এঞ্জিনিয়ার কোভিডের দুঃসময় পার করে তাঁর স্বনির্ভরতার পথ বেছে নিয়েছেন হাতা-খুন্তি-ওভেনে। দুরন্ত খাবারদাবারের সম্ভার নিয়ে এক্সপোতে হাজির সুজাতা দাস।

এই আয়োজনে খুশি ক্রেতারাও। হেমন্তের দুপুরে শহরের নানা প্রান্ত থেকে এক্সপো-তে এসে হাজির হয়েছেন তাঁরা। এত সুন্দর সম্ভার দেখে মুগ্ধ সকলে। সেই সঙ্গেই গর্বিত নারীশক্তির এই উদ্যোগে।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like