Latest News

তৃণমূল দলবদলের ব্যবসা চালু করেছে: দিলীপ ঘোষ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘বাংলার মানুষকে আজ রাস্তায় নামিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’, বাংলার মানুষকে ভিখারি করে ছেড়েছেন।’ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রীকে ‘দ্য ওয়াল’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই ভাষাতেই বিঁধলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুয়ারে সরকার কর্মসূচিকে বিদ্রুপ করেন বিজেপির সদ্য প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। প্রায় প্রতিদিনই সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে জায়গা করে নিচ্ছে রাজ্য সরকারের নতুন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প। হাজার হাজার মহিলার ভিড়ে উপচে পড়ছে দুয়ারে সরকারের ক্যাম্পগুলো। যেখানে এই ভিড়কে সাফল্যের নজির বলে পেশ করছে রাজ্য সরকার। কিন্তু দিলীপ মনে করেন, এটা রাজ্যের ব্যর্থতারই নজির।

তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো জনগণকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। রাজ্যের মানুষকে ভিখারি করে দেওয়া হচ্ছে। না পেয়ে পেয়ে মানুষের অবস্থা যা হয়েছে, তাতে যেটুকু পাচ্ছে তাতেই সন্তুষ্ট হচ্ছেন তারা।’ লক্ষ্ণীর ভাণ্ডারের ৫০০ টাকার প্রসঙ্গ টেনে দিলীপ বলেন, এখনকার দিনে এই পরিমান টাকা পাওয়ার জন্য কোথায় এমন ভিড় হয়? কোথায় মানুষ এমন দাঁড়িয়ে থাকে লাইনে? মহিলারা বাচ্চা কোলে নিয়ে গিয়ে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। অথচ একজন রাজমিস্ত্রী একদিন কাজ করলে ৫০০ টাকা মজুরি পায়।

এরপরই তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, ‘মমতার থেকে কেন্দ্র সরকার বেশি সুবিধা দিয়েছে। কেন্দ্র সরকারের টাকা জনগণ বাড়িতে বসে পাচ্ছেন। একটি টিপ ছাপ দিয়ে বাড়িতে বসেই টাকা মিলছে। এটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মোদীর পার্থক্য।’

উনিশে হাফ, একুশে সাফ, এই মন্ত্র নিয়ে বঙ্গ বিজেপি বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করেছিল। উনিশের স্বপ্ন পূরণ হলেও একুশে এসে ধাক্কা খেয়েছে গেরুয়া শিবির। ২০০ আসনের লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করা বিজেপির ভাগ্যে জুটেছে ৭৭টি আসন। সেখানেই ভুল দেখছেন দিলীপ ঘোষ। বিধানসভা নির্বাচনের আগে যে হাওয়া উঠেছিল সেই হাওয়া থেকেই ২০০ আসনের দাবি ছিল বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, ‘এমনকি যাঁরা নির্বাচনের আগে সার্ভে করেছিল তারাও ভুল ছিল। আমরা স্বপ্ন দেখিয়েছিলাম। মানুষ বিশ্বাস করেছিল। লোকসভায় জিতেছিলাম বলেই মানুষ বিশ্বাস করেছে।’ তবে সেই ভাবনায়, পরিকল্পনায় কোথাও যে ফাঁকি হয়েছে সেকথাও স্বীকার করে নিলেন দিলীপ ঘোষ।

তাঁর কথায়, ‘আমাদের কোথাও গ্যাপ হয়েছে। সেটা জানিও। আমাদের নেতারা গণনা কেন্দ্র থেকে পালিয়ে এলেন ভয়ে। এতে ভোট কমে গেল, লুট হল।’ তবে যেখানে নেতারা ভয় পায়নি সেখানে বিজেপির জয় হয়েছে, দাবি দিলীপ ঘোষের। এর জবাবে তিনি নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, ‘শুভেন্দু অধিকারীকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছিল চালাকি করে। তবে ওরা চালাকি ধরে ফেলেছিল, তাই জিতে গেছে, বাকিরা পারেনি তাই হেরে গেছেন।’

বিজেপি বঙ্গ-রাজনীতির ওয়াশিং মেশিন: দিলীপ

দলবদলের খেলায় দলের যে কোনও ক্ষতি হয় না সেকথা তিনি আবারও মনে করিয়ে দিলেন। বলেন, ‘কেউ চলে গেলেও বাংলায় বিরোধী দল হিসেবে বিজেপিই থাকবে। মানুষ দলবদলুদের বিশ্বাস করে না। দলকে বিশ্বাস করে।’ আর এই দলবদলকে তৃণমূলই বাণিজ্যিকরণ করে তুলেছে বলে মত দিলীপবাবুর। তাঁর কথায়, ‘আগে এত আকারে দলবদল হত না। তৃণমূলই কখনও ভয় দেখিয়ে বা লোভ দেখিয়ে এই রাজনীতি শুরু করেছে। এতে মুকুল রায় বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন। সেই স্রোতই বিজেপিতে বয়েছে।’ তবে দিলীপ ঘোষ কখনও দলবদলের রাজনীতিতে পা দেবেন না সেকথা স্পষ্ট জানিয়ে দেন। “প্রয়োজনে রাজনীতি ছেড়ে দেব, কিন্তু দলবদল করব না।’

দিলীপ বলেন, প্রশাসনিক প্রধান ও দলীয় নেত্রী হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আলাদা করা যায় না। তাঁর কথায়, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব জায়গাতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে গালাগাল করেন। সেটা প্রশাসনিক বৈঠক হোক বা দলীয় বৈঠক। তাহলে দুদিক থেকে আলাদা কী করে দেখব? এখন ওঁর কাছে সরকার বা দল বলে যেমন আলাদা কিছু নেই তেমনই মুখ্যমন্ত্রী বা দলের নেত্রী হিসেবে আলাদা কিছু নেই। সব খিচুড়ি হয়ে গেছে।’

২০১১-এর পরিবর্তনের পেছনে বিরোধী দলনেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৃতিত্বের থেকে সিপিআইএম-এর ব্যর্থতাই মূল কারণ বলে মনে করেন দিলীপবাবু। তাঁর কথায়, ‘মানুষ সিপিআইএমের প্রতি বিরক্ত হয়েই পরিবর্তন ঘটিয়েছে। তবে গত দশ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আরও বেশি অত্যাচার চালিয়েছে। মানুষ আবার পরিবর্তন ঘটাবে। সেই লড়াই চলছে।’

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like