Latest News

বিজেপিতে দু’রকম নিয়ম, দায় নিতে চাইলেন না দিলীপ

শোভন চক্রবর্তী

প্রথমে শো-কজ। তার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে সোমবার রীতেশ তিওয়ারি, জয়প্রকাশ মজুমদারকে সাময়িক সাসপেন্ড করেছে রাজ্য বিজেপি। মঙ্গলবারের বার বেলায় এই দুই নেতা আবার প্রেস ক্লাবে বসে বোমা ফাটিয়েছেন। কিন্তু বিজেপির অন্দরে চর্চা শুরু হয়েছে দলের বিধি কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে মুখ চাওয়াচাওয়ির প্রবণতায়। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, কেউ প্রকাশ্যে দল, নেতৃত্বের সমালোচনা করে পার পেয়ে যাচ্ছে আবার কেউ সাসপেন্ড হয়ে ঝাড় খাচ্ছে, এ আবার কেমন পার্টি?

বিজেপির অন্দরে অনেকেই বলছেন, যে কোনও সাংগঠনিক দলেই শৃঙ্খলার একটা বাঁধুনি লাগে। সেদিক থেকে রীতেশ, জয়প্রকাশদের বিরুদ্ধে দল ব্যবস্থা নিয়ে ঠিকই করেছে। কিন্তু অন্যরা কেন একই কাজ করে বহাল তবিয়তে থাকবেন? তাঁদের ক্ষেত্রে কেন ব্যবস্থা হবে না? তাঁরা কি দলের ঊর্ধ্বে?

এ ব্যাপারে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “আইন তো সবার জন্য এক হওয়া উচিত। যাঁরা এটা দেখছেন তাঁরা বলতে পারবেন কী হচ্ছে!” দিলীপবাবু বুঝিয়ে দিয়েছেন, যাঁরা এটা দেখছেন তাঁদের মধ্যে তিনি নেই।

প্রতিক্রিয়া জানার জন্য বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে দ্য ওয়াল-এর তরফে ফোন করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপে টেক্সট করা হয়েছে। তার কোনও জবাব আসেনি। পরে প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে এই প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।

এখন প্রশ্ন হল, কাদের পার পাওয়ার কথা বলছেন বিজেপির অনেকে?

গেরুয়া শিবিরের ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার এক নেতার কথায়, তথাগত রায়, রূপা গঙ্গোপাধ্যায় কেন শৃঙ্খলাভঙ্গের শাস্তি পাবেন না? তিনি এও প্রশ্ন তোলেন, যাঁরা শাস্তি পাচ্ছেন না তার মানে কি এই যে, অনেক এমন হাঁড়ির খবর তাঁদের কাছে রয়েছে যে নেতৃত্ব ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয় পাচ্ছে?

অভিনেত্রী বিজেপি প্রার্থীদের নগরীর নটি বলা থেকে তথাগতর শুরু। তারপর ভোটের পর তিনি বলেছেন, অর্থ আর নারীর জালে আটকে গেছে বাংলা বিজেপি। রূপা ভার্চুয়াল বৈঠককে সরাসরি ভাটের বৈঠক বলে অফলাইন হয়ে গিয়েছিলেন। কলকাতা পুরসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রতীক পাওয়া প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছিলেন প্রয়াত তিস্তা বিশ্বাসের স্বামীর হয়ে। যিনি দক্ষিণ কলকাতার একটি ওয়ার্ডে নির্দল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।

তাছাড়া বিজেপির অনেকে এও বলছেন, বিধানসভা ভোটের কয়েক মাস আগে যখন আসানসোলের জিতেন্দ্র তিওয়ারির বিজেপিতে আসা নিয়ে জল্পনা দানা বাঁধছে তখন মুখ খুলে শো-কজ নোটিস পেতে হয়েছিল সায়ন্তন বসু, অগ্নিমিত্রা পলকে। অথচ সেই সময়ে পার পেয়েছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। হতে পারে সেই সময়ে বাবুল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন। সেই কারণে রাজ্যের সংগঠন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এবারও আরএক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিদ্রোহী শান্তনু ঠাকুরের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার সন্ধে পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ রাজ্য বিজেপি করেনি।

You might also like