Latest News

বিজেপি রাজ্য দফতরের ‘বিজয়’ অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ফড়নবিশ, থাকছেন না জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকেও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আড়াই বছরের মাথায় ফের মহারাষ্ট্রে ক্ষমতায় ফিরল পার্টি। বৃহস্পতিবার শপথ নিয়েছে বিজেপি-শিবসেনা (শিন্ডে গোষ্ঠী)-র সরকার। আড়াই বছর আগে ভেঙে গিয়েছিল দু ‘দলের তিরিশ বছরের সম্পর্ক, যা জোড়া লেগেছে গতকাল রাতে। সেই উপলক্ষ্যে মুম্বইয়ে বিজেপি রাজ্য দফতরে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের মিষ্টি মুখ করানোর আয়োজন হয়েছিল।

আশ্চর্যজনকভাবে সেখানে গরহাজির থাকলেন নতুন সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ (Devendra Fadnavis)। জানা যাচ্ছে আগামীকাল থেকে হায়দরাবাদে শুরু হতে যাওয়া বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকেও যোগ দিচ্ছেন না মহারাষ্ট্র বিজেপির এক নম্বর নেতা ফড়নবিশ। আজ রাতের বিমানেই তাঁর তেলেঙ্গানার রাজধানীতে পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল। আগামীকাল থেকে দু’দিন সেখানে প্রধানমনন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব, দলের দখলে থাকা ১৭টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং পশ্চিমবঙ্গর মতো যে সব রাজ্যে পার্টি প্রধান বিরোধী দল সেখানকার বিরোধী দলনেতারা থাকবেন।

Image - বিজেপি রাজ্য দফতরের ‘বিজয়’ অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ফড়নবিশ, থাকছেন না জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকেও

কেন যাচ্ছেন না ফড়নবিশ। কেন রাজ্য দফতরের মিষ্টি মুখ কর্মসূচি এড়িয়ে বাড়িতে বসে রইলেন ফড়নবিশ? জানা যাচ্ছে, নতুন সরকার গঠন নিয়ে দলের দিল্লির কর্তাদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ চরমে উঠেছে। দু’বারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কিছুতেই মানতে পারছেন না তাঁকে ৩৯ বিধায়কেক নেতা একনাথ শিন্ডের অধীনে কাজ করতে হবে। উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদটি যতই গালভরা শোনাক না কেন, সংবিধানে এই পদের কোনও অস্তিত্ব ও স্বীকৃতি নেই। আর পাঁচজন মন্ত্রীর মতোই উপ মুখ্যমন্ত্রীকেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ফাইল পাঠাতে হবে।

সবাই জানে শিবসেনার বিদ্রোহের আসল কারিগর ফড়নবিশ। একনাথকে সামনে রেখে শিবসেনাকে ভাঙা সম্ভব, দলকে সেই পরামর্শ তিনিই দিয়েছিলেন। দিল্লির নেতাদের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর শিন্ডের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন।

গোটা পরিকল্পনায় অংশ হিসাবেই ঠিক ছিল ফড়নবিশ এখন মুখ্যমন্ত্রী হবেন না। কারণ, শিন্ডের সঙ্গে শিবসেনার বিদ্রোহী বিধায়করা কতদিন থাকবেন কেউ জানে না। বরং শিন্ডে সরকার গড়লে শিবসেনাকে দিয়ে শিবসেনাকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতম করা সহজ হবে। ফড়নবিশ দলকে ২০২৪-এর জন্য আরও শক্তিশালী করে তুলবেন। জানা যাচ্ছে, দিল্লির নেতাদের এই ফরমুলায় ফড়নবিশের তেমন আপত্তি ছিল না। পূর্ব সূত্র মেনে তিনি রাজভবনের বাইরে এসে জানিয়ে দেন, মুখ্যমন্ত্রী শিন্ডে হচ্ছেন। বিজেপি সরকারে যোগ দেবে। তবে তিনি যোগ দেবেন না।

এর খানিক পরেই দিল্লি থেকে নাড্ডা টুইট করে জানিয়ে দেন, শিন্ডের সঙ্গে ফড়নবিশ উপমুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন। বিজেপি সূত্রের খবর, ফড়নবিশ অনুগামীরা মনে করছেন, দু’বারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে বেইজ্জত করেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তাঁরে উপমুখ্যমন্ত্রী বানিয়ে দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক উচ্চতাকে এতটাই খাটো করা হয়েছে যে তিনি কর্মী-সমর্থকদের সামনে আসতে চাইছেন না। তাঁক পরিকল্পনা ছিল, কিং না হোন, অন্তত কিং মেকার হিসাবে নিজেকে হায়দরাবাদে কর্মসমিতির বৈঠকে হাজির করবেন। সেই আশায় জল ঢেলে দিয়েছে দিল্লির নেতৃত্ব।

You might also like