Latest News

চোখের সামনে মরছেন রোগীরা, হতাশা গ্রাস করছে ডাক্তার নার্সদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ে একেবারে হাড়গোড় বেরিয়ে পড়েছে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার। রোজ দু’লাখের উপর সংক্রমণ, হাজার হাজার মৃত্যু, ২০২১ সালের মে মাসটা যেন ডাক্তারদের কাছেও দুঃস্বপ্নের মতো হয়ে উঠেছে। এই মৃত্যু মিছিল আর দেখতে পারছেন না তাঁরাও।

করোনার থাবায় চোখের সামনে একের পর এক রোগীকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখে রীতিমতো মানসিক চাপের শিকার হচ্ছেন এদেশের চিকিৎসকরা। শারীরিক দিক থেকেও দুর্বলতা গ্রাস করছে তাঁদের। কখনও কখনও নাওয়া খাওয়া ভুলে একটানা দু-তিন দিন কাজ করে চলেছেন নার্সরাও।

কলকাতার এক হাসপাতালে অন্যান্য রোগীদের সঙ্গে নিজের মায়ের চিকিৎসাও করছেন মৌসুমী দাস। টানা ৪৮ ঘণ্টা পরিশ্রমের পর দেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তাঁর কাতর আর্তি, “আমরা বিধ্বস্ত, হতাশাগ্রস্ত। দয়া করে আমাদের কথা শুনুন। আমাদের দেখুন। যদি আপনি ডাক্তার নার্সের দিকে না তাকান, কোনওদিন স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নতি হবে না।”

মৌসুমী একা নন, কোভিড আবহে চূড়ান্ত হতাশার কবলে পড়েছেন একাধিক ডাক্তার, নার্স। করোনার চিকিৎসা করতে গিয়ে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে তাঁদেরই। রোজ একপ্রকার প্রাণ হাতে করে সেবা করে চলেছেন তাঁরা। কিন্তু না থামানো যাচ্ছে এই ভয়ঙ্কর মৃত্যু মিছিল, না শেষ হচ্ছে এই কঠিন সময়।

এদিকে করোনা কাড়ছে ডাক্তারদের প্রাণও। এখনও পর্যন্ত দেশের ১২ হাজার ডাক্তার মারা গেছেন করোনা সংক্রমণে। টিকাকরণ প্রক্রিয়া চলছে ঠিকই, তবে তার গতি বড়ই ধীর। এমনকি একদিনে ৫০ জন ডাক্তারের মৃত্যুর খবরও শোনা গেছে দিন কয়েক আগেই।

অতিমারীর থাবায় দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো বিপর্যস্ত হয়েছে ঠিকই, তবে তার আগেও এমন কিছু উন্নত ছিল না ভারতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। সমীক্ষায় দেখা গেছে এ ব্যাপারে মোট ১৪১টি দেশের মধ্যে ১১০ নম্বরে ছিল ভারতের নাম, অতিমারী শুরুর আগেই। স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় ভারতকে পিছনে ফেলেছিল বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, চিলির মতো দেশও।

রাজ্যে রাজ্যে হতাশাগ্রস্ত ডাক্তার নার্সদের চোখে মুখে এখন একটাই প্রশ্ন, এই মৃত্যু উপত্যকা থেকে মুক্তি মিলবে কবে?

You might also like