Latest News

জল নামতেই দাপাচ্ছে ডেঙ্গি ম্যালেরিয়া! চিন্তায় নবান্ন 

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবছর বর্ষায় দাপিয়ে ব্যাটিং করেছে বৃষ্টি। ইয়াস ঘূর্ণিঝড় থেকে শুরু করে থেকে থেকে নিম্নচাপ, এমনকি প্লাবনের মুখেও পড়েছে দক্ষিণবঙ্গ। কিছুদিন আগেই ডিভিসি-র জল ছাড়ার কারণে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পুজোতেও বৃষ্টির পূর্বাভাস চোখ রাঙাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন চিন্তায় নবান্ন (Nabanna)। কারণ বর্ষার জলে মশাবাহিত রোগ ছড়াচ্ছে দ্রুত গতিতে। বাড়ছে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া।

মুকুল-মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বিমান, পিছিয়ে গেল হাইকোর্টের শুনানি

ডেঙ্গি সংক্রমণের বেশ কিছু ঘটনার কথা শোনা গেছে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া এবং কলকাতায়। উত্তরবঙ্গের কিছু জেলাতেও থাবা বসিয়েছে ডেঙ্গি। যেভাবে দিন দিন তার সংখ্যা বাড়ছে তাতে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে সরকারের কপালে।

এদিন জেলাশাসকদের সঙ্গে এই নিয়েই বৈঠক করেন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। সূত্রের খবর, জেলাশাসকদের বেশ কিছু পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, মশাবাহিত রোগ আটকাতে যা যা করা দরকার তা করতে হবে উদ্যোগ নিয়ে।

পাশাপাশি জেলাওয়াড়ি যে সমস্ত এলাকায় ডেঙ্গি বা ম্যালেরিয়ার কথা শোনা যাচ্ছে সেখানে নিয়মিত গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়েও দেখতে হবে জেলাশাসকদের।

সেচ দফতরের যে নালা রয়েছে, সেখানে যাতে জল প্রবাহে অসুবিধা না হয়, জল জমে না থাকে সেদিকেও নজর রাখতে হবে, বলেছেন মুখ্যসচিব। নর্দমা নিয়মিত পরিষ্কার করার বিধানও দেওয়া হয়েছে।

শুধু ডেঙ্গি ম্যালেরিয়া নয়, নবান্ন চিন্তায় আছে কোভিড নিয়েও। গত কয়েকদিনের পরিসংখ্যান বলছে, হাওড়ায় কোভিড বেড়েছে। কোভিড যেন নতুন করে আবার বাড়তে না শুরু করে সে বিষয়েও জেলাশাসকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃষ্টির জল নেমে যেতেই রাস্তার ধারে পরিত্যক্ত বোতল, ডাবের খোলা, নালায় জমা জলে মশার লার্ভা জন্ম নিচ্ছে। ডিম পাড়ছে ডেঙ্গির জীবাণুবাহক এডিস ইজিপ্টাই আর ম্যালেরিয়ার জীবাণুবাহক অ্যানোফিলিস স্টিফেনসাই মশা। একেই করোনার সংক্রমণ, তার পরে রাজ্যজুড়েই ভাইরাল জ্বর হানা দিয়েছে, তার মধ্যে মশাবাহিত রোগ বাড়লে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, রাজ্যজুড়ে যা ম্যালেরিয়া সংক্রমণ, তার শতকরা ৮০ শতাংশ কলকাতাতেই। সংখ্যাটা তিন হাজারেরও বেশি। ডেঙ্গু জুলাই মাস পর্যন্ত গত বারের থেকে ৫০ শতাংশ কম থাকলেও গত দু’সপ্তাহে সেটাও গতবারের গণ্ডি ছাড়িয়েছে বলে পুরসভা সূত্রে খবর।

গত বছর রাজ্যের শেষ পরিসংখ্যাণ বলছে ডেঙ্গি কেসের সংখ্যা অনেক কমেছে। আক্রান্তের সংখ্যার মাপকাঠিতে কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এগিয়ে ছিল। কমেছিল ম্যালেরিয়াও। ২০১৯ সালে যেমন হাজার তিনেকের বেশি ডেঙ্গি কেস ধরা পড়েছিল রাজ্যে। গত বছর সেখানে সংখ্যাটা ছিল একশোর কিছু বেশি। তাই স্বাভাবিকভাবেই ডেঙ্গি নিয়ে উদ্বেগ কমেছিল, সচেতনতার প্রচারও হয়নি সেভাবে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি অন্য। দেশের কয়েকটি রাজ্যে ডেঙ্গির প্রভাব মারাত্মকভাবে বেড়েছে। এ রাজ্যে ডেঙ্গির সঙ্গে বাড়ছে ম্যালেরিয়ার প্রকোপও। বাংলাদেশে আবার ডেঙ্গির অতি সংক্রামক প্রজাতি ‘ডেনভি-৩’ ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। কাজেই করোনার মধ্যে যদি ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া আরও আছড়ে পড়ে তাহলে কী হবে সে নিয়ে চিন্তা বেড়েছে স্বাস্থ্য ভবনের।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like