Latest News

কনস্টেবল থেকে সোজা এসিপি, লড়াইটা ছিল খুব কঠিন, ফিরোজের সাফল্যের গল্প মুগ্ধ করবে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলিশ কনস্টেবলের চাকরি। দিল্লিতে পোস্টিং। উদয়াস্ত খাটুনি। জীবনের ঝুঁকিও ষোলো আনা। সকালে কোনওমতে খেয়েদেয়ে থানায় গিয়ে কাজ বুঝে নেওয়া। তারপর দিনভর চড়কিপাক!

রাতে বিধ্বস্ত শরীরে যখন বাড়ি ফিরতেন, ফিরোজ আলমের শরীরে এতটুকু তাগদ থাকত না। কিন্তু এই পেশাটাই এরকম। মনে মনে মেনে নিয়েছিলেন তিনি। উত্তরপ্রদেশের অজপাড়াগাঁর ছেলে ফিরোজ। অনেক কষ্টে সরকারি চাকরি হাতে এসেছে। একে পায়ে ঠেলা যায় না। তাই ভেঙেচুরে যাওয়া দেহমনকে জুড়েই ফের পরদিনের লড়াইয়ে নামা।

এটাই হতে পারত ছকে বাঁধা রুটিন। থোড়-বড়ি-খাড়া। খাড়া-বড়ি-থোড়। কিন্তু মনে মনে একটা স্বপ্নও বুনে চলেছিলেন পিসিআর ইউনিটের বিশ্বস্ত কনস্টেবল ফিরোজ। তাঁর ইচ্ছে, এসিপি হবেন। থানার অফিসার সাহেব যেমন, ঠিক তেমন। সেটাও পুলিশেরই পেশা। জনতার সেবা আর সুরক্ষায় অতন্দ্র দায়িত্ব সেখানেও রয়েছে। কিন্তু নেই হাড়ভাঙা পরিশ্রম। নেই ভূতের বেগার খাটা। বদলে আছে খ্যাতি। চলনে বলনে ঝরে পড়বে সম্ভ্রম, আভিজাত্য।

বড় স্বপ্ন। কিন্তু ব্যক্তিগত। তাই পাঁচকান করেননি ফিরোজ। কিন্তু জানতেন, এর নাগাল পেতে হলে একটা বড় বাধা ডিঙোতে হবে। যার নাম ‘ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন’। সংক্ষেপে ‘ইউপিএসসি’। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা। তাঁর মতো, তাঁর চেয়েও তুখোড় অনেক তরুণ এতে বসে। হাতেগোনা কেউ সফল হয়। বাকিরা অনেকেই হাল ছেড়ে দেয়। কেউ নতুন উদ্যমে ফের লেগে পড়ে।

ফিরোজ দ্বিতীয় দলের খাতায় নাম লেখান। শুরু থেকেই লক্ষ্যটা মনস্থির করে ফেলেছিলেন তিনি। দিনে যতটুকু সময় তিনি পড়াশোনার খাতে বরাদ্দ করেন, তাতে এই সমুদ্র একবারে পেরোনো যাবে না। দু’বার। তিনবার। আদা-জল খেয়ে পড়ে থাকতে হবে।

এরপর শুরু হয় সংগ্রাম। কাজের ঝক্কি সামলে রাত জেগে লেখাপড়ার কাজ। সারারাত বই গুঁজে পড়ে থাকতেন ফিরোজ। এতটুকু ফাঁকি দিতেন না। শরীরের দিকেও বিন্দুমাত্র নজর ছিল না। খালি একটাই চিন্তা— যে করেই হোক, ইউপিএসসি পেতেই হবে।

এভাবে দিন যায়। বছর ঘোরে। ফিরোজ পরীক্ষায় বসেন। কিন্তু কিছুতেই শিকে ছেঁড়ে না। এক বছর, দু’বছর করে চার বছর চলে যায়। স্বপ্ন তখনও অধরা।

হাল ছেড়ে দিতে পারতেন ফিরোজ। ছেড়েও দিয়েছিলেন প্রায়। কনস্টেবলের চাকরিই অন্তিম ভবিতব্য। মেনে নিয়ে আরও মন দিয়ে ডিউটিতে লেগে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু ফের নজর ঘুরিয়ে দেয় খবরের একটি কাটিং৷ বলা ভালো, মোড় ঘুরে যায়। ফিরোজ বলেন, ‘একদিন জানতে পারি, বিজয় সিং গুর্জর নামে রাজস্থানের এক তহশিলদার আইপিএস হয়েছেন। এরপর ফের নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করি।’

সেই স্বপ্ন বৃথা যায়নি। সবুর করেছেন ফিরোজ। কিন্তু মেওয়াও ফলেছে। ২০১৯ সালে ছ’বারের চেষ্টায় ইউপিএসসি ‘ক্লিয়ার’ করেছেন আজমপুর দেহরা গ্রামের সন্তান ফিরোজ আলম। আপাতত ঝাদোদাকালার দিল্লি পুলিশের ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন তিনি। যা শেষ হলেই অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অব পুলিশের চেয়ারে বসার পালা।

আপাতত সাফল্যের চৌকাঠে দাঁড়িয়েও এগারো বছর আগের স্মৃতি রোমন্থন করে চলেছেন ফিরোজ। কীসের খ্যাপামি তাঁকে এতদূর টেনে আনল? লাজুক মুখে নয়া এসিপির জবাব, ‘২০১০ সালে যখন দিল্লি পুলিশে যোগ দিই, তখন ঊর্ধ্বতন অফিসারদের মেজাজ, ঠাটবাট, আদব-কায়দা এমনকী অর্ডার দেওয়ার ধরনটুকু আমার নজর টানত৷ তখনই ঠিক করি, আমাকেও এমনটাই হতে হবে। আর তারপর ইউপিএসসি-র পড়াশোনায় লেগে যাই।’

You might also like