Latest News

দিল্লিতে আপের ডবল ইঞ্জিনের রহস্যটা কী

অমল সরকার

দিল্লির পুর নিগমের ভোটে ( Delhi MCD elections) সত্যেন্দ্র জৈনের বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত তিনটি ওয়ার্ডের সব ক’টিতে হেরেছে আম আদমি পার্টি। জিতেছে বিজেপি। অন্যদিকে, মণীশ জৈনের বিধানসভার অন্তর্গত চারটি ওয়ার্ডের তিনটিতে হেরেছে আপ (AAP)। সেগুলিতে জিতেছে বিজেপি। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল জয়ী হয়েছে বাকি একটিতে।

আম আদমি পার্টি পরিচালিত দিল্লির রাজ্য সরকারের প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র বর্তমানে তিহাড় জেলে বন্দি। তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি অর্থ লেনদেনের অভিযোগে তদন্ত করছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। অন্যদিকে, উপমুখ্যমন্ত্রী তথা আবগারি দফতরের মন্ত্রী মণীশ এখন সিবিআই এবং ইডির জোড়া তদন্তের মুখে। তাঁর বিরুদ্ধে মদনীতিতে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং দিল্লির উপ রাজ্যপাল।

দুর্নীতিতে অভিযুক্ত নেতাদের নির্বাচনী কেন্দ্রের ( Delhi MCD elections) ফলাফলকে বিবেচনায় রাখতে বলতে হয় মানুষ করাপশনের ইস্যুতে রায় দিয়েছে দুই মন্ত্রীর নির্বাচনী কেন্দ্রের অন্তর্গত ওয়ার্ডগুলির বেশিকভাগেই। যদিও দু’জন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের প্রতিক্রিয়া শুধুমাত্র তাঁদের নির্বাচনী এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কোনও উপযুক্ত ব্যাখ্যা মিলছে না।

Image - দিল্লিতে আপের ডবল ইঞ্জিনের রহস্যটা কী

যেমন দিল্লির মুসলিম বহুল ২১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১১টিতে জিতেছে আপ। পাঁচটিতে জিতেছে কংগ্রেস। বিজেপি জিতেছে তিনটিতে। এই বিজয়ী প্রার্থীরা কেউই মুসলিম নন। বাকি দুটিতে জয়ী হয়েছে নির্দল প্রার্থী। যদিও বিজেপি অন্যত্র যে চারটি ওয়ার্ডে পসমন্দা বা পশ্চাৎপদ অংশের মুসলিমদের প্রার্থী করেছিল, তাঁদের একজনও জয়ী হতে পারেননি।

বিজেপির মতো উগ্র হিন্দুত্বের লাইন এবং মুসলিম বিদ্বেষ না থাকলেও আপের হিন্দু তোষণের লাইন এখন ওই দলের ব্র্যান্ড ইমেজ। দিল্লির দাঙ্গায় আপের নিষ্ক্রিয় অবস্থান ঘিরেও পরোক্ষে হিন্দুদের তোষণের অভিযোগ উঠেছে বারে বারে। তারপরও মুসলিম বহুল ২১ ওয়ার্ডের ১১টি জিতেছে তারা।

অর্থাৎ দুর্নীতি এবং ধর্মভিত্তিক সমীকরণ বিবেচনায় রাখলে পুর নিগমের ভোটের ফলাফল থেকে দিল্লিতে রাজ্য সরকার এবং পুর নিগম মিলিয়ে আপের ডবল ইঞ্জিনের সূত্র পাওয়া কঠিন।

রইল বাকি তোফা এবং পরিষেবা। অনেকেই মনে করছেন, আকর্ষণীয় সুবিধা দেওয়ার রাজনীতিকে জনপ্রিয় করার সুবিধা দিল্লির পুরভোটে পেয়েছে আপ। টানা দশ বছর দিল্লির রাজ্য সরকার পরিচালনার সুবাধে রাজধানীর মানুষকে নানা ধরনের ছাড় আর পরিষেবার বিনিময়ে ভোটদানে অনেক বেশি আগ্রহী করে তুলতে পেরেছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল।

তীক্ষ্ণ নজর রাখব একশ দিনের কাজে, বললেন সুকান্ত, বিহার-ঝাড়খণ্ডে কী হয়েছিল প্রশ্ন তৃণমূলের

বিজেপি সর্বত্র আপের এই রাজনীতিকে নকল করলেও মুখে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান উল্টো। এই ব্যাপারে আবার স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী রীতিমতো খড়্গহস্ত। ভোট ফেরৎ সমীক্ষার ফল মিলে গেলে দেখা যাবে গুজরাতের শহরাঞ্চলেও আপের এই রাজনীতি যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। ভোট ফেরৎ সমীক্ষার ফল অনুযায়ী গুজরাতে আপের আসন প্রাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও ভোট প্রাপ্তি নেহাৎ কম হবে না। দশ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পেতে পারে তারা যা মূলত শহরের ভোটারদের রায়।

তবে দিল্লি পুর নিগম নিয়ে ভোটের আগের টানা পনেরো বছর ক্ষমতায় থাকা বিজেপির সিদ্ধান্তগুলির দিকে দৃষ্টি ফেরালে বোঝা যাবে, পরিষেবা প্রদানে দিল্লিবাসীর আকাঙ্খাপূরণ নিয়ে দলের মধ্যেই প্রশ্ন ছিল। যে কারণে গত সেপ্টেম্বরে তিনটি পুর নিগমকে জুড়ে একটি করে দেয় বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকার। এরফলে মোট ওয়ার্ড সংখ্যা ২৭০ থেকে কমে ২৫০-এ নেমে আসে। বিজেপি এইভাবে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করে টিকে থাকার রাস্তা তৈরি করেছিল, যা কাজে আসেনি। কারণ, দলের কাউন্সিলদের ভূমিকা নিয়ে নগরবাসীর ক্ষোভ, অসন্তোষের অন্ত ছিল না। দলের অর্ধেকের বেশি কাউন্সিলরকে তাই এবার টিকিট দেয়নি গেরুয়া শিবির।

সেই জায়গায় দিল্লিতে সরকার পরিচালনার সুবাদে পরিষেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিকে আপ অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পেরেছে রাজধানীর আম আদমির কাছে। দিল্লির সরকারি স্কুলের ভোল বদল, মহল্লা ক্লিনিক তার অন্যতম। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আপের হিন্দু তোষণের রাজনীতি। এই দুয়ের মিশেলে বাজিমাৎ করেছে অরবিন্দ কেজিরিওয়ালের দল। মাত্র দশ বছরেই দুটি রাজ্য এবং দিল্লির মতো নগর নিগমে ক্ষমতা দখল রাজনৈতির সাফল্য অর্জনের এক বিরল দৃষ্টান্ত।

You might also like